Published : 23 Jun 2023, 06:19 PM
অনলাইন বক্তব্যে ঘৃণার বিস্তার সামলানো নিয়ে টুইটারের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে অস্ট্রেলিয়ার সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা।
অস্ট্রেলিয়ার অনলাইন সুরক্ষা বিষয়ক কমিশনার জুলি ইনম্যান গ্রান্ট বলেছেন, দেশটির সবচেয়ে বেশি অভিযোগ আসা সামাজিক মাধ্যম হয়ে উঠেছে টুইটার।
এর জবাব দিতে ২৮ দিন সময় পেয়েছে টুইটার। আর এ পর্যায়ে গাফিলতি হলে সামাজিক মাধ্যমটি লাখ লাখ ডলার জরিমানার মুখে পড়তে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে বিবিসি।
গত বছর চার হাজার চারশ কোটি ডলারে সামাজিক মাধ্যমটি কেনেন মাস্ক। সে সময় প্ল্যাটফর্মটিতে বাক স্বাধীনতা রক্ষার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
গ্রান্ট আরও বলেন, অনলাইন ঘৃণা সংশ্লিষ্ট সকল অভিযোগের এক তৃতীয়াংশই যখন দেখা গেছে টুইটারের, তার পরই এর ব্যাখ্যা চেয়ে আইনি নোটিশ গেল।
টিকটক, ফেইসবুক ও ইনস্টাগ্রামের চেয়ে অনেক কম ব্যবহারকারী থাকার পরও টুইটারের বেলায় এমনটি ঘটছে।
২৮ দিনের মধ্যে নিয়ন্ত্রকদের প্রতিক্রিয়া জানাতে না পারলে এবং এই লঙ্ঘনের ঘটনা অব্যাহত থাকলে দৈনিক সাত লাখ ডলার পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে টুইটারের।
“বক্তব্যে ঘৃণার বিস্তার ঠেকানোর বেলায় টুইটার গাফিলতি করেছে।” --বলেন গ্রান্ট।
“আমরা এমন অভিযোগ সম্পর্কেও ওয়াকিবহাল, যেখানে টুইটারে আগের নিষিদ্ধঘোষিত বিভিন্ন অ্যাকাউন্ট প্ল্যাটফর্মে ফিরিয়ে এনেছে। এর ফলে অস্ট্রেলিয়া ও এর বাইরে নিও-নাৎসিসহ ঘৃণা ও উত্তেজনা ছড়ানো চরমপন্থী ব্যক্তিরা উৎসাহ পেয়েছেন।”
সামাজিক মাধ্যমটির জন্য আরও বেশি জবাবদিহিতামূলক ব্যবস্থা রাখার লক্ষ্যে এমন দাবি উঠে এসেছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে বিবিসি।
এই ঘোষণা সম্পর্কে বিবিসিকে কোনো মন্তব্য করেনি টুইটার।
এই মাসের শুরুতে পদত্যাগ করেন টুইটারের দ্বিতীয় নিরাপত্তা প্রধান এলা আরউইন। তার পূর্বসূরি ইয়োয়েল রথ এই পদ থেকে সরে আসেন ২০২২ সালের নভেম্বরে, মাস্ক দায়িত্ব নেওয়ার এক মাস পর।
টুইটারের কনটেন্ট মডারেশনের দায়িত্ব বর্তায় প্ল্যাটফর্মের নিরাপত্তা প্রধানের ওপর। মাস্কের কোম্পানি অধিগ্রহণের পর থেকে বিষয়টি আলোচনায় আসে।
আরউইন টুইটার ছাড়ার কারণ জনসমক্ষে না বললেও কনটেন্ট মডারেশন সংশ্লিষ্ট এক সিদ্ধান্ত নিয়ে মাস্কের প্রকাশ্য সমালোচনার একদিন পরই তার পদত্যাগের ঘোষণা আসে।
সে সময় লিঙ্গবৈষম্যের অভিযোগে ‘ভিডিও রিচ’ সীমিত করা ওই সিদ্ধান্তের সমালোচনা টুইটারের ভেতরেই ব্যাপক আকারে হয়েছিল।
“আপনি কারো পছন্দের সর্বনাম ব্যবহার করার সঙ্গে একমত না-ই হতে পারেন। তাই বলে, সেটা অবজ্ঞা করা খুবই রুঢ় বিষয়। আর এতে তো বেআইনী কিছু হচ্ছে না।” --লিখেন মাস্ক।
এর কয়েকদিন পরই ‘এনবিসি ইউনিভার্সাল’-এর বিজ্ঞাপন প্রধান লিন্ডা ইয়াকারিনোকে টুইটারের নতুন প্রধান নির্বাহী হিসেবে নিয়োগ দেন মাস্ক।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের ‘ভুল তথ্য ঠেকানো’ সংশ্লিষ্ট ঐচ্ছিক নীতিমালা থেকে সরে আসার সপ্তাহখানেক পরই আরউইনের পদত্যাগ ঘটে।
টুইটার কেনার পর থেকে কোম্পানির ৭৫ শতাংশ কর্মী ছাঁটাই করেছেন মাস্ক। এর মধ্যে ছিল প্ল্যাটফর্মে ঘৃণাবাচক কনটেন্ট পর্যবেক্ষণ করা দলটিও। এ ছাড়া, কোম্পানির অ্যাকাউন্ট ভেরিফিকেশন ব্যবস্থাও বদলে গেছে।
অন্যদিকে, প্ল্যাটফর্মটি ছেড়ে চলে যান বিশাল সংখ্যক বিজ্ঞাপনদাতা।
এর আগের চাকরিতে বিভিন্ন প্রযুক্তি কোম্পানির জটিলতার মধ্যে এনবিসি ইউনিভার্সালে নেতৃত্ব দিয়ে প্রশংসা কুড়িয়েছেন ইয়াকারিনো। এর মধ্যে ছিল বিজ্ঞাপন কার্যক্রম নতুন করে ঢেলে সাজানো ও অনলাইন দর্শকদের ডেটা ঘাটতি নিয়ে বিতর্ক সামলানোর মতো বিষয়।