কিবোর্ড ছাড়া মুখের কথায় প্রোগ্রামিং কোড লেখা যাবে গিটহাবে

এ ছাড়াও ‘রান দ্য প্রোগ্রাম’ বা ‘টগল জেন মোড’-এর মতো ভয়েস কমান্ড দিয়েই ‘ভিজুয়ালি স্টুডিও কোড’ নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন ব্যবহারকারী।

প্রযুক্তি ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 10 Nov 2022, 11:35 AM
Updated : 10 Nov 2022, 11:35 AM

প্রোগ্রামারদের মুখের কথাতেই নতুন কোড লেখার সুযোগ করে দিতে চায় গিটহাব; সে লক্ষ্যে নিজস্ব ‘কোপাইলট’ এআই সিস্টেমে পরীক্ষামূলক সেবা ‘হেই, গিটহাব!’ যোগ করেছে মাইক্রোসফটের মালিকানাধীন সফটওয়্যার উন্নয়ন প্ল্যাটফর্মটি।

প্রযুক্তিবিষয়ক সাইট ভার্জ জানিয়েছে ‘হেই, গিটহাব!’ সেবাটি অ্যাপলের সিরি, অ্যামাজনের অ্যালেক্সা বা গুগল অ্যাসিস্ট্যান্টের মত বাজারের প্রচলিত ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্টের আদলে কাজ করবে।

এ বছরের শুরুতেই ‘কোপাইলট’ চালু করেছে গিটহাব; এর জন্য প্রতি মাসে ১০ ডলার করে খরচ করতে হয় ব্যবহারকারীদের। প্রোগ্রামারের কোড এডিটরের মধ্যেই নতুন কোডের পরামর্শ দেয় কোপাইলট।

এ ছাড়াও ভিজুয়াল স্টুডিও কোড, নিওভিম এবং জেটব্রেইনের মত ‘ইন্টিগ্রেটেড ডেভেলপমেন্ট এনভায়রনমেন্ট (আইডিই)’-তে টাইপ করার সময়ে কোডের পরবর্তী সম্ভাব্য লাইনও বাতলে দেয় এআইটি।

সেবায় নতুন এই ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্টের ভূমিকা ব্যাখ্যা করে এক ব্লগ পোস্টে গিটহাব বলেছে, “আপনার কণ্ঠস্বরের শক্তিতে বলীয়ান গিটহাব কোপাইলটের সুবিধাগুলো আরও বেশি সংখ্যক ডেভেলপার, এমনকি যাদের হাতে টাইপ করতে অসুবিধা হয়, তাদের কাছে আনতে পেরে আমরা উচ্ছসিত।”

“আপাতত কেবল ভিএস কোডের মধ্যে কোডিং করার সময়েই কিবোর্ড ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা কমিয়ে আনবে ‘হেই, গিটহাব!’। কিন্তু ভবিষ্যতে গবেষণা আর পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে এর সক্ষমতা আরও বাড়ানোর প্রত্যাশা করছি আমরা।”

মুখের কথায় কোড লেখার পাশাপাশি এর ব্যবহার উপযোগিতা যাচাইয়ের দৃশ্যপটেও ‘হেই, গিটহাব!’ কাজে আসবে বলে মন্তব্য ভার্জের। আলাদা আলাদা কোডের লাইন মুখে বলেই এক জায়গা থেকে সরিয়ে ভিন্ন জায়গায় নিতে পারবেন প্রোগ্রামাররা।

এ ছাড়াও ‘রান দ্য প্রোগ্রাম’ বা ‘টগল জেন মোড’-এর মতো ভয়েস কমান্ড দিয়েই ‘ভিজুয়ালি স্টুডিও কোড’ নিয়ন্ত্রণ করতেও পারবেন ব্যবহারকারীরা। পুরো কোডের সারসংক্ষেপ জানতে চাইলে সেক্ষেত্রেও কাজে আসবে ‘হেই, গিটহাব!’।

প্রোগ্রামারদের জন্য এই ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্ট নির্মাণের কাজটি করছে ‘গিটহাব, নেক্সট’; গবেষক ও প্রকৌশলীদের এ দলটি ‘সফটওয়্যার নির্মাণের ভবিষ্যৎ’ নিয়ে অনুসন্ধান করছে বলে জানিয়েছে ভার্জ।

‘হেই, গিটহাব’ পুরোদস্তুর বাণিজ্যিক পণ্য হিসেবে বাজারজাত করা হবে কি না, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই বলে জানিয়েছে ভার্জ।

তবে প্ল্যাটফর্মটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের কাছে ‘গিটহাব কোপাইলট’-এর লাইসেন্স বিক্রি করার পরিকল্পনা করেছে বলে জানিয়েছে সাইটটি। আগ্রহী বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ওয়েটিং লিস্টও তৈরি করছে গিটহাব।

গিটহাব ‘কোপাইলট’ সেবায় একের পর এক নতুনসব ফিচার যোগ করলেও ক্লাস-অ্যাকশন মামলার ঝুঁকিতে আছে প্ল্যাটফর্মটি। মাইক্রোসফট, গিটহাব এবং ওপেনএআই ‘কোপাইলট’-কে প্রশিক্ষণ দিতে ওয়েব থেকে কপিরাইট করা কনটেন্ট সংগ্রহ করে ‘অভূতপূর্ব আকারের সফটওয়্যার পাইরেসি’ করেছে বলে অভিযোগ বাদীপক্ষের।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক