Published : 07 Jul 2026, 05:15 PM
নতুন আইফোন বা আইপ্যাড কিনলেও অনেকেই হয়ত ধীরগতির চার্জার ব্যবহার করে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় অপচয় করছেন।
এক্ষেত্রে ডিভাইসটি আসলেই সর্বোচ্চ কত ওয়াট গতিতে চার্জ নিতে পারে ও বক্সে থাকা অ্যাপলের সাধারণ চার্জারটি কেন ব্যবহারকারীর চার্জিং অভিজ্ঞতাকে পিছিয়ে দিচ্ছে তা জানা থাকা জরুরি বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি সংবাদের সাইট এনগ্যাজেট।
আইফোন বা আইপ্যাডের ব্যাটারি থেকে সেরা পারফরম্যান্স পাওয়ার বিষয়টি কেবল ব্যবহারকারীর বিভিন্ন অ্যাপ কতটুকু চার্জ খরচ করছে তা নজরে রাখার মধ্যেই আটকে নেই। ফোনটি কত দ্রুত চার্জ হচ্ছে সেটিও ব্যাটারির দীর্ঘস্থায়িত্ব বা আয়ুর ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
ধীরগতির চার্জার কারো ব্যাটারির বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এর সুরক্ষার জন্য কিছুটা ভালো হতে পারে। তবে এর মানে এই নয় যে, সকালের কফি খাওয়ার সময়ে ব্যবহারকারী কেবল সামান্য কয়েক শতাংশ চার্জ পাবেন।
অন্যদিকে, ঠিক একই সময়ের মধ্যে একটি ফাস্ট চার্জার ব্যবহারকারীকে এমন ব্যাকআপ দিতে পারে, যা দিয়ে দীর্ঘ পথ অনায়াসেই পাড়ি দিতে পারবেন। ব্যবহারকারীর ডিভাইসটিকে এর সর্বোচ্চ গতিতে চার্জিংয়ের জন্য প্রথমে তাকে জানতে হবে সেই গতি বা স্পিডটি আসলে কত।
অন্যান্য কিছু প্রতিদ্বন্দ্বী কোম্পানির তুলনায় নিজেদের সাধারণ গ্রাহকদের জন্য দেওয়া স্পেসিফিকেশন শিটে ব্যাটারির এ খুঁটিনাটি বিভিন্ন তথ্য উল্লেখ করার ক্ষেত্রে বেশ ধারাবাহিকতাহীন অ্যাপল। ফলে বিষয়টি ব্যবহারকারীদের নিজেদেরই খুঁজে বের করতে হয়।
অ্যাপল এখন আর ফোনের বক্সের সঙ্গে কোনো চার্জিং ব্রিক বা অ্যাডাপ্টার দেয় না ফলে অনেকেই হয়ত তাদের নতুন আইফোন ও আইপ্যাডগুলোতে পুরানো ও ধীরগতির চার্জার ব্যবহার করছেন। তবে ব্যবহারকারী কীভাবে নিশ্চিত হবেন যে, তার ডিভাইসের জন্য সবচেয়ে দ্রুততম চার্জিং স্পিড কোনটি ও বাসায় থাকা চার্জারটি আদৌ যথেষ্ট দ্রুত কি না?
এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে জানা জরুরি কীভাবে ব্যাটারির সক্ষমতা ও চার্জিং স্পিড পরিমাপ করা হয়। সর্বশেষ আইফোন ও আইপ্যাড লাইনআপে এসব পরিমাপ কীভাবে কাজ করে এবং অ্যাপলের বক্সে থাকা বর্তমান বিভিন্ন অ্যাক্সেসরি ব্যবহারকারীর চার্জিং অভিজ্ঞতাকে কীভাবে পিছিয়ে দিচ্ছে।
আইফোন ও আইপ্যাডের চার্জিং স্পিড যেভাবে পরিমাপ করা হয়
প্রথমে একদম প্রাথমিক বিভিন্ন বিষয় দিয়ে শুরু করা যাক। একটি মোবাইল ডিভাইসের ব্যাটারির সক্ষমতা পরিমাপ করা হয় মিলিঅ্যাম্পিয়ার-আওয়ারে, যা নির্দেশ করে ব্যাটারি রিচার্জ করার প্রয়োজন হওয়ার আগে এক ঘণ্টায় ঠিক কতটুকু বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারে।
যেমন, একটি এক হাজার এমএএইচ ব্যাটারি পুরোপুরি শেষ হওয়ার আগে ঠিক এক ঘণ্টার জন্য এক হাজার মিলিঅ্যাম্পিয়ার বিদ্যুৎ দিতে পারবে। বাস্তব ক্ষেত্রে একটি স্মার্টফোনের ব্যাটারি ফোনটি কী কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে তার ওপর ভিত্তি করে কম-বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহ করে ও কিছু ডিভাইস অন্যান্য ডিভাইসের চেয়ে বেশি সাশ্রয়ীভাবে চলে।
তারপরও, বর্তমানে বড় আকারের বিভিন্ন স্মার্টফোনের গড় ব্যাটারি সক্ষমতা সাধারণত ৫ হাজার এমএএইচের কাছাকাছি হয়ে থাকে, যেখানে ট্যাবলেটের ক্ষেত্রে তা ১০ হাজার এমএএইচের কাছাকাছি পৌঁছায়।
অ্যাপলের সবচেয়ে বড় স্মার্টফোন হচ্ছে আইফোন ১৭ প্রো ম্যাক্স, যার ব্যাটারি সক্ষমতা ৫ হাজার ৮৮ এমএএইচ, যেখানে বেইস মডেল আইফোন ১৭-এ ব্যবহৃত হয়েছে ৩ হাজার ৬৯২ এমএএইচের ব্যাটারি।
অন্যদিকে, বেইস মডেলের ১১তম প্রজন্মের আইপ্যাডের ব্যাটারি পরিমাপ করে পাওয়া গেছে ৭ হাজার ৬৯৮ এমএএইচ এবং ১৩ ইঞ্চির শক্তিশালী এম৫ আইপ্যাড প্রো’র স্লিম বডির ভেতরেই প্যাক হয়েছে ১০ হাজার ২৯০ এমএএইচের বড় ব্যাটারি।
চার্জিং স্পিড পরিমাপ হয় ওয়াটের হিসাবে। সাধারণত বড় ডিভাইসগুলোতে বড় ও মাল্টি-সেল ব্যাটারি থাকে, যা তাপ সহজে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য বেশি জায়গা পায়। ফলে এগুলো দ্রুত গতিতে চার্জ হতে পারে। আর আংশিকভাবে ঠিক এ কারণে ব্যবহারকারীর ম্যাকবুকের সঙ্গে বড় চার্জিং ব্রিক থাকে, যা ১৪০ ওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ করে, যেখানে ব্যবহারকারীর আইফোনটি কেবল সামান্য কিছু ওয়াটের একটি ছোট চার্জার দিয়েই কাজ চালিয়ে নেয়।
এয়ারপডস চার্জ হয় একক সংখ্যার, যেমন ৫ বা ৯ ওয়াট চার্জিং স্পিডে। এরপরও ‘ইউএসবি পাওয়ার ডেলিভারি’র মতো উন্নত চার্জিং প্রযুক্তির কল্যাণে এখন স্মার্টফোনের মতো ছোট বিভিন্ন ডিভাইসকেও আগের চেয়ে উচ্চ গতিতে চার্জ করা সম্ভব হচ্ছে।
সাম্প্রতিক অ্যান্ড্রয়েড ফোন ওয়ানপ্লাস ১৫ প্রায় ১২০ ওয়াট স্পিডে চার্জ নিতে পারে। এসব বিষয় মাথায় রেখে এবার আইফোন বা আইপ্যাডের সর্বোচ্চ চার্জিং স্পিড কত জেনে নেওয়া যাক।
আইফোন ও আইপ্যাড ৪০ থেকে ৬০ ওয়াটের মধ্যে চার্জ হয়
অ্যাপলের নতুন আইফোন ও আইপ্যাডের চার্জিং স্পিডে যে বড় কোনো বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে তা নয়। আবার, বছরের পর বছর ধরে এতে যে কোনো উন্নতিই হয়নি এমনও বলা যাবে না।
সর্বশেষ আইফোন ১৭ সিরিজ অনুসারে, আইফোন ১৭, ১৭ প্রো ও ১৭ প্রো ম্যাক্স সর্বোচ্চ ৪০ ওয়াট স্পিডে চার্জ হতে পারে। অন্যদিকে, আইফোন এয়ারের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ২০ ওয়াট পর্যন্ত সাপোর্ট করে, যা এর পাতলা ডিজাইন ধরে রাখার জন্য বড় আপস। তবে অ্যাপল এখন আর নতুন আইফোনের বক্সের সঙ্গে কোনো চার্জার না দেওয়ায় গ্রাহকরা সর্বোচ্চ গতি বা স্পিডের সুবিধা নিতে চাইলে তাদের আলাদাভাবে চার্জার কিনে নিতে হবে।
শেষবার অ্যাপল বক্সের ভেতরে যে চার্জার দিয়েছিল তা ছিল আইফোন ১১-এর সঙ্গে থাকা ৫ ওয়াটের সাধারণ ব্রিক। আইফোন ১১ প্রো ব্যবহারকারীরা পেয়েছিলেন ১৮ ওয়াটের অ্যাডাপ্টার। ফলে যারা এখনও সেই পুরানো চার্জার আঁকড়ে ধরে আছেন তারা নিজেদের নতুন আইফোনে ধীরগতির চার্জিং অভিজ্ঞতার মুখে পড়ছেন।
আইপ্যাডের ক্ষেত্রে ২০২৫ সালে বাজারে আসা বেইস মডেলের আইপ্যাডটি বেশ প্রশংসনীয়, যা সর্বোচ্চ ৪৫ ওয়াট পর্যন্ত স্পিডে চার্জ হতে পারে, যা স্যামসাংয়ের মতো প্রতিযোগী বিভিন্ন কোম্পানির ট্যাবলেটের সমান। সর্বশেষ এম৫ আইপ্যাড প্রো আরও এক ধাপ এগিয়ে সর্বোচ্চ ৬০ ওয়াট পর্যন্ত সাপোর্ট করে।
অ্যাপল তাদের ট্যাবলেটের সঙ্গে এখনও চার্জার দেওয়া বন্ধ করেনি। তবে সেগুলো এক প্রকারের ই-বর্জ্য বললেই চলে। যার কারণ, সব আইপ্যাডের সঙ্গেই দেওয়া হয় কেবল ২০ ওয়াটের চার্জার। ফলে বহু সাধারণ ব্যবহারকারী না জেনেই তাদের এসব ডিভাইস চার্জ করতে প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় অপচয় করছেন।
যারা নিজেদের আইফোন বা আইপ্যাড সর্বোচ্চ গতিতে চার্জ করতে চান তাদের এমন চার্জারে বিনিয়োগ করা উচিত, যা সত্যিই এনে গতি দেবে। অ্যাপল নিজস্ব ফাস্ট চার্জার বিক্রি করলেও বাজারে কেবল তারাই একমাত্র বিকল্প নয়।
২০২৬ সালের সেরা বিভিন্ন চার্জারের মধ্যে রয়েছে ‘অ্যাঙ্কার’, ‘ইউগ্রিন’ ও ‘সাটেচি’র মতো থার্ড-পার্টি কোম্পানিগুলোর চার্জার। ব্যবহারকারী যে চার্জারই বেছে নিন না কেন কেবল নিশ্চিত হয়ে নিন যে সেটির সর্বোচ্চ ওয়াটের সক্ষমতা যেন তার ফোন বা ট্যাবলেটের সর্বোচ্চ চার্জিং স্পিডের সমান হয়।