Published : 07 Jul 2026, 11:37 AM
অ্যাপলের বহুপ্রতীক্ষিত প্রথম ফোল্ডএবল আইফোন বাজারে আসার পর উৎপাদন জটিলতার কারণে শুরুতেই তীব্র সরবরাহ সংকটে পড়তে পারে।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রায় আড়াই হাজার ডলারের ‘আল্ট্রা’ ফোনের চাহিদা আকাশচুম্বী হলেও প্রথম প্রান্তিকে চাহিদার তুলনায় সীমিত সংখ্যক ডিভাইস বাজারে ছাড়তে পারবে অ্যাপল।
বাজার বিশ্লেষক মিং-চি কুও’র সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায় এ তথ্য উঠে এসেছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি সংবাদের সাইট এনগ্যাজেট।
কুও বলেছেন, অ্যাপলের প্রথম এ ফোল্ডএবল স্মার্টফোনটির চাহিদা বাজারে আকাশচুম্বী হবে। তবে ২০২৬ সালের তৃতীয় প্রান্তিকের শেষদিকে ফোনটি বাজারে আসার পর শুরুতে অ্যাপল কেবল ৫ লাখ থেকে ১০ লাখ ডিভাইস তৈরি করতে পারে।
এ প্রাথমিক প্রান্তিক পার হওয়ার পর অ্যাপল তাদের উৎপাদন গতি বাড়াবে এবং ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ প্রায় ৭০ থেকে ৮০ লাখ ইউনিট বাজারে সরবরাহ করতে পারবে।
কুও বলেছেন, শুরুতে এ ধীরগতির মূল কারণ আইফোন আল্ট্রা’র উদ্ভাবনী ফোল্ডিং ডিজাইন, যার কারণে উৎপাদন শুরুর প্রথম দিকে ফোনটিকে বেশ কিছু উৎপাদনগত চ্যালেঞ্জ বা জটিলতার মুখে পড়তে হবে।
এ পরিস্থিতিটি অনেকটাই আইফোন এক্স-এর বাজারে আসার সময়ের মতো হবে। ওই সময়েও অল-স্ক্রিন ওএলইডি ডিসপ্লে, নচ ও ‘ট্রু-ডেপথ ফেইসআইডি’ ক্যামেরার মতো প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের কারণে শুরুতে ফোনটির উৎপাদন বেশ ধীরগতির ছিল।
মোবাইল অপারেটর, বিক্রয় মাধ্যম ও রিসেলারদের সঙ্গে আলোচনার সূত্র ধরে বিশ্লেষক মিং-চি কুও বলেছেন, প্রায় আড়াই হাজার ডলার দাম হওয়ার পরও ২০২৬ সালের শেষদিকে বিশেষ এ আইফোন মডেলের চাহিদা থাকবে তুঙ্গে।
তার অনুমান, প্রি-অর্ডার শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ফোনটি পুরোপুরি স্টক-আউট বা বিক্রি হয়ে যাবে ও ডিসেম্বর পর্যন্ত ফোনটি হাতে পাওয়ার জন্য ক্রেতাদের ছয় সপ্তাহ বা তারও বেশি সময় অপেক্ষা করতে হতে পারে।
নিজের নোটে কুও লিখেছেন, “শুরুতে সীমিত সরবরাহ, এক নজরে চেনা যায় এমন আকর্ষণীয় ডিজাইন ও নতুন ধরনের ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা সব মিলিয়ে বাজারে আসার পর অল্প সময়ের জন্য ফোনটি বাড়তি দামে পুনরায় বিক্রির প্রবণতা তৈরি হতে পারে।”
অ্যাপল এখনও নিজেদের এ দীর্ঘ প্রতীক্ষিত আনুষ্ঠানিক নাম না পাওয়া ফোল্ডএবল ফোন নিয়ে কিছুই বলেনি। তবে অ্যাপলের সাম্প্রতিক আইওএস ২৭ বিটা সংস্করণটি এ ফোনের আগমন যে একেবারে সন্নিকটে ব্যবহারকারীদের সেই বিশ্বাসকে আরও দৃঢ় করেছে।
কারণ এ নতুন সফটওয়্যারে ‘ফোল্ডস্টেইজ’ ও ‘অ্যান্জেলডিগ্রিস’-এর মতো কিছু টেকনিক্যাল টার্ম রয়েছে, যার পাশাপাশি মূল ডিভাইসে মোট কতটি বিল্ট-ইন ডিসপ্লে রয়েছে তা নির্ধারণের একটি ভেরিয়েবলও যোগ হয়েছে।
‘আইফোন আল্ট্রা’ বা ‘আইফোন ফোল্ড’ নামটি কেবলই একটি গুঞ্জন, যা পরবর্তীতে পরিবর্তন হতে পারে। এ ফোনে ৫ দশমিক ৫ ইঞ্চির বাইরের ডিসপ্লে ও একটি ৭ দশমিক ৮ ইঞ্চির অভ্যন্তরীণ ডিসপ্লে থাকবে, যা ৮ দশমিক ৩ ইঞ্চির আইপ্যাড মিনি’র চেয়ে কিছুটা ছোট।
ভাঁজ করা অবস্থায় ‘স্যামসাং গ্যালাক্সি জেড ফোল্ড ৭’-এর তুলনায় এ আইফোনটি কিছুটা বেশি কোনা আকৃতির হতে পারে, যার ফলে ভাঁজ খুললে তা বেশ চওড়া দেখাবে।
ভাঁজের ওপর চাপ কমাতে এতে লেজার দিয়ে তৈরি মেটাল সাপোর্ট প্লেটসহ নমনীয় ওএলইডি ডিসপ্লে ব্যবহার করা হবে। ফলে স্ক্রিনের ভাঁজটি প্রায় অদৃশ্য থাকবে।