Published : 15 Nov 2025, 10:33 AM
চীনা সাইবার অপরাধীরা অ্যানথ্রপিকের এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাইবার আক্রমণ চালিয়েছে বলে জানিয়েছে কোম্পানিটি।
‘ক্লড’ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই চ্যাটবট নির্মাতা কোম্পানিটি বলেছে, তাদের এই চ্যাটবট ব্যবহার করে প্রায় ৩০টি দেশের বিভিন্ন সংগঠনের ওপর স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাইবার আক্রমণ চালিয়েছে এমন কিছু চীনা হ্যাকারকে চিহ্নিত করেছে তারা।
অ্যানথ্রপিক বলেছে, সাইবার নিরাপত্তা গবেষণা চালানোর আড়ালে স্বয়ংক্রিয় হ্যাকিংয়ের কাজে ব্যবহার করে চ্যাটবটকে বোকা বানিয়েছে ওই চীনা হ্যাকাররা।
এক ব্লগ পোস্টে কোম্পানিটি বলেছে, এর মাধ্যমে ‘এআই ব্যবহার করে সাইবার গুপ্তচর পরিচালনার ঘটনা প্রথমবারের মতো প্রকাশ পেল’।
তবে কেউ কেউ অ্যানথ্রপিকের এমন দাবি ঠিক কি না এবং এর পেছনের কোম্পানির উদ্দেশ্য কী তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন বলে প্রতিবেদনে লিখেছে বিবিসি।
কোম্পানিটি বলেছে, হ্যাকারদের কার্যকলাপ সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে ধরা পড়েছে।
হ্যাকাররা নিজেরা বৈধ সাইবার নিরাপত্তা কর্মী সেজে চ্যাটবটটি দিয়ে ছোট ছোট স্বয়ংক্রিয় কাজ করিয়েছিল। এসব ছোট কাজ একসঙ্গে জুড়ে দিয়ে ‘অত্যন্ত জটিল গুপ্তচর অভিযান’ তৈরি করেছে।
অ্যানথ্রপিকের গবেষকরা বলেছেন, তাদের ‘দৃঢ়বিশ্বাস’ এসব সাইবার আক্রমণ চালানো হয়েছে ‘চীনা সরকার সমর্থিত হ্যাকার দলের মাধ্যমে’।
বড় প্রযুক্তি কোম্পানি, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, রাসায়নিক পণ্য উৎপাদন কোম্পানি ও বিভিন্ন সরকারি সংস্থাকে টার্গেট করেছিল চীনা হ্যাকাররা। তবে এ নিয়ে সুনির্দিষ্টভাবে কোনও তথ্য প্রকাশ করেনি কোম্পানিটি।
এরপর ক্লড-এর কোড ব্যবহার করে অনির্দিষ্ট এক প্রোগ্রাম তৈরি করে হ্যাকাররা, যা ‘কম কর্মী রয়েছে এমন বাছাই করা টার্গেটে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আক্রমণ চালাতে পারত’।
অ্যানথ্রপিকের দাবি, বিভিন্ন নামহীন সংগঠনের সিস্টেমে প্রবেশ করে সংবেদনশীল তথ্য বের করার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও আলাদা করে তা বিশ্লেষণও করেছিল চ্যাটবটটি।
কোম্পানিটি বলেছে, এ ঘটনায় ওইসব হ্যাকারদের চ্যাটবট ব্যবহার বন্ধ করেছে তারা। আক্রমণের শিকার বিভিন্ন সংগঠন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকেও তারা এ বিষয়ে জানিয়েছে।
বিবিসি লিখেছে, অ্যানথ্রপিকের ঘোষণা সম্ভবত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ, যেখানে কোনো কোম্পানি নিজেই বলেছে, স্বয়ংক্রিয়ভাবে হ্যাকিং চালাতে ব্যবহৃত হচ্ছে তাদের এআই টুল।
তবে কোম্পানিটি এখনও প্রকাশ করেনি কীভাবে তারা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে যে, এ সর্বশেষ হ্যাকিং অভিযানের সঙ্গে চীনা সরকার জড়িত রয়েছে।