Published : 13 Mar 2026, 10:49 AM
কাজের গতি বাড়াতে গিয়ে কি উল্টো ক্লান্তি বাড়ছে? অতিরিক্ত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই টুল ব্যবহারের ফলে কর্মীরা চরম মানসিক অবসাদে ভুগছেন বলে উঠে এসেছে সাম্প্রতিক এক গবেষণায়।
নতুন গবেষণা বলছে, এআই টুল ব্যবহারের ফলে কর্মীরা মানসিক ক্লান্তি ও ‘ব্রেইন ফ্রাই’ নামের চরম মানসিক অবসাদের মুখে পড়ছেন।
‘হার্ভার্ড বিজনেস রিভিউ’-এর গবেষকরা বিভিন্ন খাতের প্রায় দেড় হাজার মার্কিন কর্মীর ওপর এক জরিপ চালিয়েছেন। ব্রিটিশ দৈনিক ইন্ডিপেনডেন্ট প্রতিবেদনে লিখেছে, যারা উৎপাদনশীলতা ও কর্মদক্ষতা বাড়াতে এআই ব্যবহার করছেন তাদের বেলায় ক্ষতিকর এক প্রবণতা তৈরি হচ্ছে বলে দেখা গেছে ওই গবেষণায়।
বিভিন্ন এআই টুলকে সারাক্ষণ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ বা তদারকি করার ফলে কর্মীদের মধ্যে এক ধরনের ‘মানসিক অবসাদ’ তৈরি হচ্ছে। গবেষকরা বলেছেন, এতে তাদের জন্য কোনো কাজে মনোযোগ দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।
অংশগ্রহণকারীদের অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিতে গবেষকরা ‘ব্রেইন ফ্রাই’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন, যার মানে ‘নিজের মানসিক সক্ষমতার অতিরিক্ত এআই টুল ব্যবহার বা তদারকির ফলে যে চরম মানসিক ক্লান্তি তৈরি হয়’।
জরিপে অংশগ্রহণকারীরা তাদের সমস্যার লক্ষণ হিসেবে মাথাব্যথা, সিদ্ধান্ত নিতে দেরি হওয়া ও মাথায় এক ধরনের ‘কুয়াশাচ্ছন্ন’ ভাবের কথা বলেছেন।
কেউ কেউ একে এআই টুলের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কাজের ফলে তৈরি এক ধরনের ‘মানসিক হ্যাংওভার’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
এ গবেষণায় অংশ নেওয়া একজন সিনিয়র ইঞ্জিনিয়ারিং ম্যানেজার বলেছেন, “দ্রুত কাজের পরিবর্তে আমার মস্তিষ্ক তখন জট পাকানো বা অগোছালো বোধ করতে শুরু করছিল।
“মনে হচ্ছিল আমার মাথার ভেতরে ডজনখানেক ব্রাউজার ট্যাব একসঙ্গে খোলা ও এরা সবাই মনোযোগ পাওয়ার জন্য লড়াই করছে। আমার চিন্তা করার সক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়নি ঠিকই। তবে সব এলোমেলো লাগছিল, ঠিক যেন রেডিওর নয়েজ বা স্ট্যাটিকের মতো।
“আমি তখনই সম্বিৎ ফিরে পেলাম যখন বুঝতে পারলাম যে, মূল সমস্যার সমাধানের চেয়ে এসব টুলকে সামলাতেই আমাকে বেশি খাটতে হচ্ছে।”
মার্কেটিং বিভাগে কর্মরত ব্যক্তিদের মধ্যে এই ‘ব্রেইন ফ্রাই’ বা মানসিক ক্লান্তির হার সবচেয়ে বেশি। এ খাতের এক-চতুর্থাংশের বেশি মানুষ এ সমস্যার কথা বলেছেন।
অন্যান্য পেশার মধ্যে হিউম্যান রিসোর্স, ফাইন্যান্স ও সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্টের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের মধ্যেও উচ্চ মাত্রায় এ সমস্যা দেখা গেছে।
গবেষকরা বলছেন, এআই ব্যবহারের ফলে তৈরি হওয়া এই ‘ব্রেইন ফ্রাইয়ের’ সঙ্গে কর্মক্ষেত্রে ছোট-বড় নানা ভুলের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে।
“যারা কর্মক্ষেত্রে এআই ব্যবহার করছেন তাদের মধ্যে যারা ব্রেইন ফ্রাইয়ে ভুগছেন তারা অন্যদের তুলনায় বেশি ভুল করছেন।
“পরিমাপ অনুসারে, তাদের ক্ষেত্রে ছোটখাটো ভুলের হার ১১ শতাংশ ও বড় ধরনের ভুলের হার ৩৯ শতাংশ বেশি।
“গবেষণার এসব তথ্য থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট যে, সাধারণ ‘বার্নআউট’ যেখানে আবেগজনিত অবসাদ, সেখানে এআই ব্রেইন ফ্রাই হচ্ছে তীব্র এক মানসিক বা বুদ্ধিবৃত্তিক চাপ।”