Published : 23 Oct 2025, 12:41 PM
ইউটিউব ব্যবহারকারীদের মধ্যে অনেকেই শর্টস দেখায় আসক্ত। এই অতি-স্ক্রলিং বা ‘ডুমস্ক্রলিং’ অভ্যাস নিয়ন্ত্রণে আনতে ইউটিউব এবার নিয়ে এসেছে নতুন টাইমার ফিচার। এটি ব্যবহারকারীদের শর্টস ভিডিও দেখার সময় সীমা নির্ধারণের সুযোগ দেবে।
নতুন ফিচারটি ব্যবহারকারীরা ইউটিউব অ্যাপের সেটিংস থেকে চালু করতে পারবেন। এতে দৈনিক শর্টস দেখার জন্য সময়সীমা নির্ধারণ করা যাবে। নির্ধারিত সময় শেষ হলে ফিচারটি স্ক্রিনে একটি পপ-আপ নোটিফিকেশন দেখাবে, যাতে উল্লেখ থাকবে যে, শর্টস ফিড সাময়িকভাবে বিরত রাখা হয়েছে।
তবে, চাইলে ব্যবহারকারী সেই পপ-আপ বন্ধ করে আবার স্ক্রল চালিয়ে যেতে পারবেন বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি সাইট টেকক্রাঞ্চ।
বর্তমানে এই ফিচারটি প্যারেন্টাল কন্ট্রোলের সঙ্গে যুক্ত নয়। অর্থাৎ, অভিভাবকরা এখনই তাদের সন্তানের শর্টস দেখার নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করতে পারবেন না। তবে ইউটিউব বলেছে, আগামী বছর এই নিয়ন্ত্রণ যুক্ত করা হবে যেখানে শিশু ব্যবহারকারীরা আর টাইমার নোটিফিকেশন উপেক্ষা করতে পারবে না।
এর আগে ইউটিউব ‘টেইক এ ব্রেক’ এবং ‘বেড টাইম রিমাইন্ডার’ ফিচার চালু করেছিল যাতে ব্যবহারকারীরা নির্দিষ্ট সময় পরপর ভিডিও দেখা থেকে বিরতি নিতে পারেন।
‘টেইক এ ব্রেক’ ফিচারে ব্যবহারকারীরা প্রতি ১৫, ৩০, ৬০, ৯০ অথবা ১৮০ মিনিট পর একটি রিমাইন্ডার সেট করতে পারেন। সময়সীমা পূর্ণ হলে ভিডিও থেমে যায় এবং ব্যবহারকারী চাইলে বিরতি নিয়ে অ্যাপ বন্ধ করতে পারেন বা রিমাইন্ডার বাতিল করে দেখা চালিয়ে যেতে পারেন।
অন্যদিকে ‘বেড টাইম রিমাইন্ডার’ ফিচারটি ব্যবহারকারীদের নির্দিষ্ট ঘুমের সময় নির্ধারণের সুযোগ দেয়। নির্ধারিত সময়ে ইউটিউব একটি নোটিফিকেশন পাঠিয়ে জানায় ‘এখন ঘুমানোর সময়, দেখা বন্ধ করুন’।
এই ধরনের ফিচারগুলো ইউটিউবের ডিজিটাল ওয়েলবিয়িং উদ্যোগের অংশ যা কর্পোরেট দায়িত্ববোধ দেখানোর পাশাপাশি ব্যবহারকারীদের সময় ব্যবস্থাপনায় সহায়তা করে। তবে এগুলো সম্পূর্ণ ঐচ্ছিক হওয়ায় ব্যবহারকারীর অংশগ্রহণই নির্ধারণ করবে এর কার্যকারিতা।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় দুই হাজার মামলা চলছে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানির বিরুদ্ধে। ‘ব্লুমবার্গ ল’-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসব মামলায় পরিবার, স্কুল ডিস্ট্রিক্ট ও অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেলরা অভিযোগ করেছেন, প্ল্যাটফর্মগুলো সচেতনভাবে এমন নকশা তৈরি করেছে যা আসক্তি সৃষ্টি করে এবং শিশু-কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।