Published : 18 Apr 2026, 11:52 AM
মহাবিশ্বের প্রসারণ হার নিয়ে নির্ভুল পরিমাপ বের করার দাবি করেছেন বিজ্ঞানীরা।
তবে নতুন এ তথ্য মহাবিশ্বের প্রসারণ নিয়ে তৈরি হওয়া পুরানো রহস্য সমাধানের বদলে বরং বাড়িয়ে তুলেছে, যা বর্তমান পদার্থবিদ্যার প্রচলিত বিভিন্ন ধারণাকেই চ্যালেঞ্জ করছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেনডেন্ট প্রতিবেদনে লিখেছে, কয়েক বছর ধরে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা ‘হাবল টেনশন’ নামের এক সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছেন, যা মহাবিশ্বের প্রসারণ হার মাপার দুটি ভিন্ন পদ্ধতির মধ্যে থাকা বড়সড় অমিল।
এ সমস্যাটি তৈরির কারণ হচ্ছে, মহাবিশ্বের প্রসারণের হার মাপার মূলত দুটি পদ্ধতি রয়েছে। তবে পদ্ধতি দুটির ফলাফল একইরকম না এসে আলাদা আসছে।
প্রথম পদ্ধতিটি মহাজাগতিক ‘মাইক্রোওয়েভ ব্যাকগ্রাউন্ড’ বা মহাবিশ্বের শুরুর সময়ের অবশিষ্ট বিকিরণ পরীক্ষা করে করা হয়। দ্বিতীয় পদ্ধতিটি পৃথিবীর কাছের বিভিন্ন তারা ও ছায়াপথ কত দ্রুত দূরে সরে যাচ্ছে তা পর্যবেক্ষণ করে।
তত্ত্ব অনুসারে, দুটি পদ্ধতিরই ফলাফল একই হওয়া ও মহাবিশ্বের গতি সম্পর্কে নির্দিষ্ট ধারণা থাকা উচিত। তবে বাস্তবে তা হচ্ছে না।
কাছের বা নিকটবর্তী মহাবিশ্ব পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, প্রতি মেগাপারসেকে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৭৩ কিলোমিটার গতিতে প্রসারিত হচ্ছে মহাবিশ্ব।
অন্যদিকে, মহাজাগতিক মাইক্রোওয়েভ ব্যাকগ্রাউন্ডের ওপর ভিত্তি করে করা হিসাব বলছে, এ গতি কিছুটা কম, প্রায় ৬৭ বা ৬৮ কিলোমিটার।
জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের ধারণা ছিল, এসব পরিমাপ আরও নির্ভুলভাবে করতে পারলে এ দুটি সংখ্যা হয়ত একবিন্দুতে মিলবে।
তবে নতুন সব গবেষণা ও পরিমাপ থেকে উঠে এসেছে, এই পার্থক্য বা ‘টেনশন’ আগের মতোই রয়েছে।
বিশ্বজুড়ে জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের কয়েক দশকের পর্যবেক্ষণকে এক কাঠামোর আওতায় এনে তৈরি করা এ নতুন গবেষণাপত্র এসব পরিমাপকে আরও নিখুঁত করেছে প্রায় ১ শতাংশ পর্যন্ত, যেখানে তারা নিশ্চিত করেছেন, মহাবিশ্বের প্রসারণ হারের এই অমিল বা রহস্য এখনও কাটেনি।
গবেষণাপত্রের লেখকরা লিখেছেন, “এ গবেষণার কাজ কার্যকরভাবে হাবল টেনশনের সেইসব ব্যাখ্যাকে বাতিল করে দিয়েছে, যা স্থানীয় দূরত্ব পরিমাপের ক্ষেত্রে কোনো এক সাধারণ ভুলের ওপর নির্ভর করত।
“প্রমাণ যেহেতু ক্রমেই জোরালো হচ্ছে ফলে সমস্যাটি সত্যি হলে তা আমাদের প্রচলিত মহাজাগতিক মডেলের বাইরের নতুন কোনো দিকে ইঙ্গিত করতে পারে।”
গবেষকরা বলছেন, সমস্যাটি সম্ভবত পরিমাপে নয়, বরং পদার্থবিদ্যা সম্পর্কে আমাদের উপলব্ধিতে। এর থেকে ইঙ্গিত মেলে, এখানে এমন কিছু কাজ করছে, যা এখনও হিসাব করা হয়নি। যেমন, ডার্ক এনার্জি বা কোনো আবিষ্কৃত কণা বা মহাকর্ষকে বোঝার ক্ষেত্রে আমাদের কোনো ভুল।
‘লোকাল ডিসটেন্স নেটওয়ার্ক: এ কমিউনিটি কনসেনসাস রিপোর্ট অন দ্য মেজারমেন্ট অফ দ্য হাবল কনস্ট্যান্ট অ্যাট ∼১% প্রিসিশন’ শিরোনামে গবেষণাপত্রটি প্রকাশ পেয়েছে বিজ্ঞানিভিত্তিক জার্নাল ‘অ্যাস্ট্রোনমি অ্যান্ড অ্যাস্ট্রোফিজিক্স’তে।