Published : 23 Sep 2025, 08:26 PM
প্রযুক্তি খাতের আসন্ন ১০টি মেগাট্রেন্ড প্রকাশ এক শীর্ষ প্রযুক্তি কোম্পানি। এ প্রতিবেদনে আগামী ১০ বছরে সম্ভাব্য কিছু বড় প্রযুক্তিগত ঝোঁক উঠে এসেছে।
এ প্রতিবেদনে সম্ভাব্য যে পরিবর্তন উল্লেখ রয়েছে প্রতিবেদনে, তার মধ্যে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অর্থনীতি, উৎপাদন শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতসহ বিভিন্ন শিল্পে প্রযুক্তির প্রভাব নিয়ে আলোচনা করেছে তারা।
ট্রেন্ড ১: এজিআই
এ রূপান্তরের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চালিকাশক্তি হবে আর্টিফিশিয়াল জেনারেল ইন্টেলিজেন্স বা এজিআই। এজন্য এআইকে বাস্তব প্রয়োগের সঙ্গে একীভূত করা প্রয়োজন। এজিআইয়ের ফলে বিস্ময়কর প্রযুক্তিগত উন্নয়ন সম্ভব হবে।
ট্রেন্ড ২: এলএলএম
বিভিন্ন লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে এআই এজেন্ট সাধারণ কাজের মাধ্যম থেকে সিদ্ধান্ত গ্রহণের সহযোগীতে পরিণত হবে এবং বিভিন্ন শিল্পে বৈপ্লবিক পরিবর্তন নিয়ে আসবে।
ট্রেন্ড ৩: হিউম্যান-এআই প্রোগ্রামিং
হিউম্যান-এআই প্রোগ্রামিংয়ের মাধ্যমে সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট নতুন রূপ পাবে। ফলে মানুষ উচ্চ পর্যায়ের ডিজাইন ও সৃজনশীল চিন্তাভাবনার ওপর বেশি মনোযোগ দিতে পারবে। অন্যদিকে, এআই একই ধরনের বিভিন্ন কোডিংয়ের কাজ সক্ষমতার সঙ্গে পরিচালনা করবে।
ট্রেন্ড ৪: মাল্টিমোডাল ইন্টারফেইস
মানুষ ও কম্পিউটারের মধ্যকার যোগাযোগ পর্যায়ক্রমে গ্রাফিক্সভিত্তিক ইন্টারফেইস থেকে সাধারণ ভাষা ও মাল্টিমোডাল বা বহুমুখী ইন্টারফেইসভিত্তিক হয়ে উঠবে। ফলে সম্পূর্ণ ইন্দ্রিয়গত অভিজ্ঞতা পাওয়া সম্ভব হবে। এসব ইন্টারফেইস ব্যবহারকারীর কণ্ঠ, অঙ্গভঙ্গিসহ নানা উপায়ে ডিজিটাল বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ দেবে।
ট্রেন্ড ৫: এআই এজেন্ট
বিভিন্ন মোবাইল অ্যাপ আলাদা ইউনিট হিসেবে কাজ না করে এআই এজেন্টের মাধ্যমে বড় এক সিস্টেমের অংশ হিসেবে কাজ করবে। ফলে বিভিন্ন এআই এজেন্ট কেবল ব্যবহারকারীর কমান্ড নিয়েই অন্যান্য পরিষেবা দিতে পারবে।
ট্রেন্ড ৬: লেভেল ফোর মানের স্বয়ংক্রিয় গাড়ি
ওয়ার্ল্ড মডেল বা বাস্তব পরিস্থিতি বুঝতে পারে এমন গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তির অগ্রগতি লেভেল ফোর বা আরও উচ্চ স্তরের স্বয়ংক্রিয় গাড়ি তৈরিতে ভূমিকা রাখবে। এসব গাড়ি মোবাইল থার্ড স্পেস বা কেবল যাতায়াত নয়, বরং বসে কাজ করা, বিশ্রাম নেওয়া বা সময় কাটানোর জন্য ব্যবহার করা যায় এমন মাধ্যম হিসেবে কাজ করবে।
ট্রেন্ড ৭: কম্পিউটিং ইকোসিস্টেম
২০৩৫ সালের মধ্যে বিশ্বজুড়ে কম্পিউটিং সক্ষমতা ‘ভন নিউম্যান আর্কিটেকচার’ বা আধুনিক কম্পিউটারের মূল ডিজাইন সীমা পেরিয়ে এক লাখ গুণ বৃদ্ধি পাবে। ফলে কম্পিউটিং ইকোসিস্টেম নতুনভাবে গড়ে উঠবে। সেমিকন্ডাক্টরের উপকরণ ও ডিভাইস, প্রক্রিয়াজাতকরণের প্রযুক্তি, কম্পিউটিং আর্কিটেকচার এবং কম্পিউটিং প্যারাডাইম– এ চারটি মূল ক্ষেত্রে যুগান্তকারী উদ্ভাবন ঘটবে।
ট্রেন্ড ৮: এজেন্টিক এআই
ডেটা স্টোরেজের ক্ষেত্রে মৌলিক পরিবর্তন আনবে এজেন্টিক এআই। কারণ, ২০২৫ সালের তুলনায় এআই স্টোরেজের চাহিদা পাঁচশ গুণ বৃদ্ধি পাবে। বিশ্বের মোট স্টোরেজের ৭০ শতাংশ হবে এআই স্টোরেজ।
ট্রেন্ড ৯: এজেন্টিক ইন্টারনেট
নয়শো কোটি মানুষ নয়শো বিলিয়ন এজেন্টের সঙ্গে সংযুক্ত হবে। ফলে মোবাইল ইন্টারনেট, এআই এজেন্টের স্বয়ংক্রিয় ক্ষমতাওয়ালা এজেন্টিক ইন্টারনেটে রূপান্তরিত হবে।
ট্রেন্ড ১০: শক্তি ব্যবহারে বৈপ্লবিক পরিবর্তন
২০৩৫ সালের মধ্যে বিভিন্ন গ্লোবাল ডেটা সেন্টারের বিদ্যুতের ব্যবহার প্রতি ঘণ্টায় প্রায় দেড় ট্রিলিয়ন কিলোওয়াট-আওয়ার হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নতুন এনার্জি সিস্টেমে এআই পুরোপুরি অন্তর্ভুক্ত না হওয়া পর্যন্ত শক্তির চাহিদা এর দ্রুত প্রসারকে বাধাগ্রস্ত করবে। এসব পরিবর্তনের কারণে ২০৩৫ সালের মধ্যে বৈশ্বিক পর্যায়ে ব্যবহৃত শক্তির মিশ্রণে বায়ু ও সৌর শক্তির অংশ হবে ৫০ শতাংশ।
উল্লিখিত এ বিষয়গুলো উঠে এসেছে চীনা প্রযুক্তি জায়ান্ট হুয়াওয়ের ‘ইন্টেলিজেন্ট ওয়ার্ল্ড ২০৩৫ রিপোর্টে’ প্রতিবেদনে। এতে ২০৩৫ সালের মধ্যে এআই কীভাবে আমাদের দৈনন্দিন জীবন, ঘরবাড়ি, ব্যবসা ও পরিবেশে ব্যবহৃত হবে তার চিত্র তুলে ধরেছে। এআই সক্রিয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে ৮০ শতাংশের বেশি দীর্ঘস্থায়ী রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করবে এবং চীনের ৯০ শতাংশের বেশি বাড়িতে এআই রোবট থাকবে।
অর্থনীতি, সমাজবিজ্ঞান ও আইসিটি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কাজ করে গ্লোবাল ডিজিটাইজেশন ইনডেক্স বা জিডিআই’কে নতুনভাবে প্রকাশ করেছে হুয়াওয়ে। গত দুই বছরে হুয়াওয়ের গবেষণা দল বিশ্বজুড়ে দুইশোরও বেশি কর্মশালা আয়োজন করেছে এবং একশরও বেশি বিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদ, গ্রাহক ও অংশীদারের সঙ্গে পর্যালোচনা করেছে। এর ভিত্তিতেই তৈরি হয়েছে ‘ইন্টেলিজেন্ট ওয়ার্ল্ড ২০৩৫ রিপোর্ট’।
এ বিষয়ে হুয়াওয়ের বোর্ডের নির্বাহী পরিচালক ডেভিড ওয়াং বলেছেন, “জেনারেটিভ এআই এমন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিচ্ছে, যা আমরা আগে কল্পনাও করতে পারিনি। ফলে আমাদের অবশ্যই ভবিষ্যতের দিকে তাকাতে হবে এবং নতুন বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি ও ধারণা গড়ে তুলতে হবে।”