Published : 10 Jul 2026, 05:02 PM
হরিণ শিকারিদের পাতা ফাঁদে আটকে আহত হওয়ার ছয় মাস পর সুন্দরবনে ফিরছে একটি বাঘিনী।
সবকিছু ঠিক থাকলে রোববার বাগেরহাটের সুন্দরবন পূর্ব বনবিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের আন্ধারমানিক ইকো ট্যুরিজম কেন্দ্রসংলগ্ন বনাঞ্চলে বাঘিনীকে অবমুক্ত করা হবে বলে জানান খুলনার বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা নির্মল কুমার পাল।
তিনি বলেন, পুনর্বাসনকেন্দ্রে থাকা ১০ থেকে ১১ বছর বয়সী বাঘিনীটি এখন সম্পূর্ণ সুস্থ। উদ্ধার করার সময় সেটি ছিল কঙ্কালসার। বর্তমানে তার ওজন স্বাভাবিক হয়েছে। হারানো ক্ষিপ্রতা ও চলাফেরার সক্ষমতাও ফিরে এসেছে।
নির্মল কুমার পাল বলেন, “ফাঁদে আটকে পড়ার সময় বাঘিনীটির সামনের বাঁ পায়ের প্রায় তিন ইঞ্চি জায়গাজুড়ে চামড়া, মাংসপেশি ও শিরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফাঁদের রশিতে বারবার টানাটানির কারণে ক্ষতস্থানে পচন ধরেছিল। নিয়মিত ড্রেসিং ও অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগের মাধ্যমে মার্চ মাসের দিকে ক্ষত পুরোপুরি শুকিয়ে আসে।”
তিনি বলেন, “শনিবার বাঘ বিশেষজ্ঞদের একটি দল বাঘিনীটিকে পর্যবেক্ষণ করবে। তাদের মতামতের ভিত্তিতে রোববার বাঘিনীটিকে অবমুক্ত করা হবে।”
সুন্দরবন পূর্ব বনবিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, বাঘিনীটি সুস্থ হওয়ার পর জুলাই মাসের মধ্যেই বনে ফিরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। তবে বিভিন্ন জটিলতায় স্যাটেলাইট কলার সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি।
“তাই বিকল্প হিসেবে প্রায় আট কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ২০টি ট্র্যাপ ক্যামেরা বসানো হচ্ছে। এসব ক্যামেরার মাধ্যমে বাঘিনীটির চলাফেরা ও আচরণ পর্যবেক্ষণ করবে বনবিভাগ।”
তিনি বলেন, শুক্রবার সকাল থেকেই ক্যামেরা বসানোর কাজ শুরু হয়েছে। রোববার বাঘিনী অবমুক্ত করার সময় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলামের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
৩ জানুয়ারি সুন্দরবনের পূর্ব অংশের চাঁদপাই রেঞ্জের বৈদ্যমারী ফরেস্ট টহল ফাঁড়ির আওতাধীন শরকির খালসংলগ্ন বনাঞ্চলে হরিণ শিকারিদের পাতা ফাঁদে আটকে পড়ে বাঘিনীটি।
খবর পেয়ে পর দিন ট্রাঙ্কুইলাইজার গান ব্যবহার করে বাঘিনীটিকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে বনবিভাগ।
পরে ফাঁদ কেটে লোহার খাঁচায় করে খুলনার বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের পুনর্বাসনকেন্দ্রে নেওয়া হয়। সেখানে ছয় মাস চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের পর বাঘিনীটিকে আবারও বনে ফিরিয়ে দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।