Published : 26 Jun 2026, 10:06 AM
শক্তিশালী সাপ্লাই চেইন থাকার পরও মেমোরি চিপের চড়া মূল্যের ধাক্কা এড়াতে পারল না অ্যাপল। বিশ্ববাজারে চিপের সরবরাহ ঘাটতি ও ক্রমাগত খরচের কারণে আইপ্যাড ও ম্যাকবুকসহ কিছু জনপ্রিয় ডিভাইসের দাম বাড়িয়েছে কোম্পানিটি।
বৃহস্পতিবার অ্যাপল বলেছে, এআই শিল্পের ডেটা সেন্টার সম্প্রসারণের কারণে মেমোরি ও স্টোরেজ চিপের আকাশচুম্বী খরচের ধাক্কা থেকে তারা আর গ্রাহকদের সুরক্ষা দিতে পারছে না।
অ্যাপলের আয়ের মূল উৎস আইফোনের ওপর এ দামবৃদ্ধির কোনো প্রভাব পড়বে না। তবে সাশ্রয়ী উইন্ডোজ ও ক্রোমবুক ল্যাপটপের সঙ্গে বাজারে প্রতিযোগিতা করতে আসা কোম্পানিটির সবচেয়ে সাশ্রয়ী দামের ল্যাপটপ ‘নিও’-এর প্রারম্ভিক দামে সরাসরি প্রভাব ফেলবে। বাজারে আসার কেবল কয়েক মাসের মাথায় ল্যাপটপটির শুরুর দাম ৫৯৯ ডলার থেকে বেড়ে দাঁড়াবে ৬৯৯ ডলারে।
রয়টার্স লিখেছে, এ দামবৃদ্ধি থেকে প্রমাণ মেলে, গোটা বিশ্বে সবচেয়ে ঈর্ষণীয় ও শক্তিশালী সাপ্লাই চেইন নেটওয়ার্ক থাকার পরও অ্যাপলের মতো মূল্যবান কনজিউমার ইলেকট্রনিক্স কোম্পানিও মেমোরি চিপের এ অস্বাভাবিক দামবৃদ্ধি থেকে রেহাই পেল না।
চিপের এ বাড়তি দাম এরইমধ্যে স্মার্টফোন ও পিসি বিক্রির পূর্বাভাসের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মাইক্রনের মতো মেমোরি চিপ নির্মাতারা এনভিডিয়া’র মতো এআই চিপমেকারদের বিভিন্ন অর্ডারকে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে।
এতে চিপ নির্মাতারা রেকর্ড মুনাফা করলেও বাজারে চিপের সরবরাহ ঘাটতি দেখা দিয়েছে। ফলে অন্য ইলেকট্রনিক্স নির্মাতারা পণ্যের দাম বাড়াতে বাধ্য হচ্ছে।
এক বিবৃতিতে অ্যাপল বলেছে, “কোনো উপাদানের বা যন্ত্রাংশের দাম এত কম সময়ে এতটা বাড়তে আমরা আগে কখনো দেখিনি। এ পযন্ত আমরা গ্রাহকদের এ দামবৃদ্ধির প্রভাব থেকে দূরে রেখেছিলাম। কিন্তু এখন আমরা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছি, যেখানে বেশ কিছু পণ্যের দাম বাড়ানো জরুরি হয়ে পড়েছে। এর অংশ হিসেবেই আইপ্যাড ও ম্যাকের দাম বাড়াল।”
অ্যাপলের ওয়েবসাইটে আপডেটেড বা পরিবর্তিত দামের তালিকা অনুসারে, ৫১২ গিগাবাইট স্টোরেজের ম্যাকবুক এয়ারের দাম ১ হাজার ৯৯ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ২৯৯ ডলার করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ১ টেরাবাইট স্টোরেজের ম্যাকবুক প্রো’র দাম ১ হাজার ৬৯৯ ডলার থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯৯৯ ডলারে। এ ছাড়া অন্যান্য পরিবর্তনের পাশাপাশি ১২৮ গিগাবাইট স্টোরেজের আইপ্যাড এয়ারের দামও ৫৯৯ ডলার থেকে বাড়িয়ে ৭৪৯ ডলার করেছে অ্যাপল।
এ তথ্য আসার পরই প্রাক-বাজার লেনদেনে অ্যাপলের শেয়ারের দাম ০.৭ শতাংশ কমেছে।
এপ্রিলে অ্যাপল বলেছিল, মেমোরি চিপের ক্রমাগত খরচ এ মাসের শেষ নাগাদ তাদের ওপর চাপ তৈরি করতে শুরু করবে, যার ফলে সার্বিক মুনাফা কিছুটা কমে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে।
এপ্রিলের শেষদিকে বিশ্লেষকদের সঙ্গে এক কনফারেন্সে কোম্পানিটির বিদায়ী প্রধান নির্বাহী টিম কুক বলেছেন, “আমরা মেমোরি চিপের খরচ ব্যাপকহারে বাড়ার আশঙ্কা করছি।
“জুনের পরের সময়টুকুর সুনির্দিষ্ট কোনো রূপরেখা আমরা এখনই দিচ্ছি না ঠিকই, তবে আমি আপনাদের এটুকু বলতে পারি, জুন কোয়ার্টার বা প্রান্তিকের পর মেমোরি চিপের এ বাড়তি খরচ আমাদের ব্যবসায় ব্যাপকহারে প্রভাব ফেলবে।”