Published : 14 Mar 2026, 10:45 AM
বছরের শুরুতেই চীনের বিদ্যুচ্চালিত গাড়ির বাজারে চমক দেখালো টেসলা। প্রথম দুই মাসে গাড়ি বিক্রিতে বড় ধরনের উন্নতি করতে পেরেছে মার্কিন কোম্পানিটি।
আমেরিকান সংবাদমাধ্যম সিএনবিসি প্রতিবেদনে লিখেছে, চীনে তৈরি টেসলার ইভি বিক্রি আগের বছরের তুলনায় বেড়ে যাওয়ায় বিওয়াইডির কাছে হারানো বাজারের কিছুটা অংশ ফিরে পেয়েছে ইলন মাস্কের নেতৃত্বাধীন কোম্পানিটি।
বৃহস্পতিবার ‘চায়না প্যাসেঞ্জার কার অ্যাসোসিয়েশন’ বা সিপিসিএ-এর প্রকাশিত তথ্য অনুসারে, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মিলিয়ে টেসলার চীনে তৈরি গাড়ির মোট বিক্রির পরিমাণ সোয়া লাখের সামান্য বেশি। গেল বছরের একই সময়ে এ বিক্রির পরিমাণ ছিল এক লাখের কম। সে হিসাবে আগের বছরের তুলনায় বিক্রি এবার ৩৫ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে।
ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে দুই সপ্তাহব্যাপী চীনা নববর্ষের ছুটির কারণে বিক্রির গতি কিছুটা ধীর ছিল, যা সমন্বয় করেই এই চূড়ান্ত হিসাব প্রকাশ করেছে সিপিসিএ।
টেসলার ‘সাংহাই গিগাফ্যাক্টরি’তে দেশীয় বাজার এবং ইউরোপ ও এশিয়া প্যাসিফিকের মতো বিদেশি বাজারের জন্য ‘মডেল ৩’ ও ‘মডেল ওয়াই’ গাড়ি তৈরি হয়, সেখানে বিক্রির মোট পরিমাণ এবার দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে।
অন্যদিকে, একই সময়ে টেসলার প্রতিদ্বন্দ্বী বিওয়াইডির গাড়ি সরবরাহের পরিমাণ গত বছরের তুলনায় ৩৬ শতাংশ কমেছে।
২০২৫ সালে টেসলাকে সরিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বের বৃহত্তম ইভি বিক্রেতার স্থান দখল করেছিল বিওয়াইডি।
তবে টেসলার সাম্প্রতিক বিক্রির তথ্য বলছে, তাদের চাহিদা এখনও বেশ ভালো। বর্তমানে চীনে তৈরি টেসলার গাড়ির মোট বিক্রি তাদের পরবর্তী নিকটতম প্রতিযোগী ‘লিপমোটর’-এর তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি।
রয়টার্সের গত সপ্তাহের প্রতিবেদন অনুসারে, ফেব্রুয়ারিতে পুরো ইউরোপ জুড়ে টেসলার নতুন রেজিস্ট্রেশন (যা বিক্রির একটি মাপকাঠি) ব্যাপকহারে বেড়েছে, যার বেশিরভাগ গাড়িই টেসলার সাংহাই কারখানায় তৈরি হয়েছিল।
তীব্র প্রতিযোগিতা
এরপরও আমেরিকান কোম্পানি টেসলা যে দেশীয় ও বিদেশি বাজারে বিওয়াইডির বড় ব্যবধান খুব দ্রুত কমিয়ে ফেলবে, এমন ইঙ্গিত খুব একটা নেই।
গত সপ্তাহে বিওয়াইডি তাদের নতুন ‘ব্লেড ব্যাটারি’ ও চার্জিং প্রযুক্তি উন্মোচন করেছে, যা প্রশংসা কুড়িয়েছে। দাবি করা হচ্ছে, এ প্রযুক্তির মাধ্যমে মাত্র ৯ মিনিটে চার্জ ১০ থেকে ৯৭ শতাংশে নিয়ে যাওয়া সম্ভব, যা ইভির ব্যাটারি রেঞ্জ নিয়ে সাধারণ মানুষের দুশ্চিন্তা দূর করবে।
বিশ্বজুড়ে বিওয়াইডির ক্রমাগত বিস্তার শেনজেনভিত্তিক কোম্পানিটিকে তাদের দেশীয় প্রতিযোগীদের তুলনায় অনেক এগিয়ে রেখেছে। ফেব্রুয়ারিতে প্রথমবারের মতো তাদের বিদেশে রপ্তানির পরিমাণ চীনে বিক্রির মোট সংখ্যাকেও ছাড়িয়েছে।
ম্যানেজমেন্ট কনসাল্টিং ফার্ম ‘ওয়াইসিপি’র মবিলিটি প্র্যাকটিস প্রধান লিওন চেং বলেছেন, “বিওয়াইডির মূল শক্তি হচ্ছে রপ্তানি। ২০২৫ সালে তাদের বিদেশি বাজারে বিক্রির পরিমাণ প্রথমবারের মতো ১০ লাখ ইউনিট ছাড়িয়েছে, যা কেবল দেশের ভেতরে ব্যবসা করে এমন প্রতিদ্বন্দ্বীদের পক্ষে ছোঁয়া সম্ভব নয়।”
চীনের অন্যান্য গাড়ি নির্মাতারাও এখন সাশ্রয়ী দামে অনেক বেশি ফিচার ও সুবিধা দিচ্ছে। ফলে তারা বেশ প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠেছে এবং টেসলা ও বিওয়াইডি উভয় কোম্পানির বাজারই কিছুটা দখল করে নিচ্ছে।
‘অটোহোম’-এর তথ্য অনুসারে, ফেব্রুয়ারিতে টেসলা ও বিওয়াইডির বিভিন্ন গাড়ির মডেলকে হারিয়ে ‘জিলি’র ‘সিংইউয়ান’ নামের মডেলটি চীনে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া গাড়ির স্থান অর্জন করেছে।
এর আগের মাসে, টেসলার ‘মডেল ওয়াই’ গাড়িকে সরিয়ে বিক্রির শীর্ষে এসেছিল শাওমি’র ‘ওয়াইউ৭ এসইউভি’ মডেলটি।
সিপিসিএ-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সার্বিক ইভি বাজারের গতিপ্রকৃতি বোঝার জন্য মার্চের চূড়ান্ত বিক্রির হিসাব ভালো মাপকাঠি হবে।
“বসন্ত উৎসবের ছুটির পর বিভিন্ন শিল্পখাত দ্রুত স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরে আসায় মার্চে উৎপাদন ও বিক্রির হার দ্রুত বাড়বে। নতুন পণ্য বাজারে আনার জন্য বসন্ত উৎসবের পরবর্তী সময়টি গুরুত্বপূর্ণ এবং এ সময়ে অনেক গাড়ি নির্মাতা বড় সংখ্যায় নতুন মডেলের গাড়ি বাজারে আনে।”