Published : 30 Mar 2026, 05:07 PM
প্রথমবারের মতো পারমাণবিক ফিউশন রকেটের ভেতরে প্লাজমা ইগনিশন বা অগ্নিসংযোগ ঘটাতে পেরে ইতিহাস গড়ল ব্রিটিশ বিজ্ঞানীদের একটি দল, যা মহাকাশ ভ্রমণের নতুন যুগের পথে বড় মাইলফলক।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেনডেন্ট প্রতিবেদনে লিখেছে, এ প্রযুক্তির সফল ব্যবহারে মঙ্গলে কেবল কয়েক সপ্তাহে পৌঁছানো যাবে, যা ভবিষ্যতের মহাকাশ ভ্রমণ ও অর্থনীতিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে পারে।
ব্লেচলেভিত্তিক কোম্পানি পালসার ফিউশন ক্যালিফোর্নিয়ায় অ্যামাজনের ‘মার্স কনফারেন্স’-এ সরাসরি সম্প্রচারের মাধ্যমে এ সাফল্য প্রদর্শন করেছে। বিষয়টিকে তাদের জন্য ‘অসাধারণ মুহূর্ত’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন কোম্পানির সিইও রিচার্ড ডিনান।
এই প্রথম প্লাজমা তৈরির জন্য বিদ্যুচ্চালিত ও চৌম্বকীয় ক্ষেত্রের সংমিশ্রণ ব্যবহৃত হয়েছে, যা স্টার্টআপটির ‘সানবার্ড’ নামের নিউক্লিয়ার ফিউশন একজস্ট টেস্ট সিস্টেমের ভেতর দিয়ে চার্জওয়ালা বিভিন্ন কণাকে চালিত করে।
এ পরবর্তী প্রজন্মের প্রপালশন সিস্টেম বা চালিকাশক্তির কার্যসক্ষমতা বাড়াতে আরও পরীক্ষানিরীক্ষা ও আধুনিকায়নের পরিকল্পনা করেছে পালসার।
পারমাণবিক ফিউশন সূর্যের ভেতরে ঘটা প্রাকৃতিক বিক্রিয়ার অনুকরণে কাজ করে, যা প্রায় অসীম শক্তি উৎপাদন করতে পারে। অনেকে একে পরিবেশবান্ধব শক্তির ‘হলি গ্রেইল’ হিসেবেও বর্ণনা করেছেন।
শক্তিশালী চৌম্বকীয় ক্ষেত্রের মধ্যে প্রচণ্ড উত্তপ্ত প্লাজমাকে নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন কাজ। তবে পৃথিবীর তুলনায় মহাকাশের প্রচণ্ড ঠান্ডা তাপমাত্রা ও বায়ুশূন্য পরিবেশ এ কাজটি অনেক সহজ করে তুলতে পারে।
সফলভাবে এমনটি করা গেল ফিউশন প্রপালশন বর্তমানে কক্ষপথে ব্যবহৃত রকেটের তুলনায় ১ হাজার গুণ বেশি সক্ষমতা দিতে পারবে। তাত্ত্বিকভাবে এ রকেটের সর্বোচ্চ গতি হতে পারে ঘণ্টায় প্রায় আট লাখ কিলোমিটার।
কার্যকর পারমাণবিক ফিউশন রকেট মঙ্গলে যাওয়ার সময়কে কয়েক মাস থেকে কমিয়ে কেবল কয়েক সপ্তাহে নামিয়ে আনবে। ফলে লাল গ্রহ মঙ্গলে মানুষের অভিযান বাস্তবসম্মত হয়ে উঠবে।
ভ্রমণের সময় কমে আসায় নভোচারীরা মহাকাশের ক্ষতিকর বিকিরণ ও দীর্ঘদিন মহাকর্ষহীন অবস্থায় থাকার স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকেও রক্ষা পাবেন।
এ সাফল্যের পর পালসার ফিউশন এক বিবৃতিতে বলেছে, “২০৩৫ সালের মধ্যে মহাকাশ অর্থনীতি ১.৮ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে। ফলে মহাকাশে দ্রুতগতির পরিবহন ব্যবস্থা এখন কেবল বিজ্ঞানভিত্তিক লক্ষ্যই নয়, বরং অর্থনৈতিক লক্ষ্যও বটে।”
তাদের ‘সানবার্ড’ একজস্ট সিস্টেমের পরবর্তী ধাপগুলোর মধ্যে রয়েছে কর্মসক্ষমতা পরীক্ষা, সুপার কন্ডাক্টিং ম্যাগনেট বা শক্তিশালী চুম্বকের আধুনিকায়ন ও পর্যায়ক্রমে নতুন ধরনের জ্বালানি চক্র নিয়ে পরীক্ষানিরীক্ষা।