Published : 21 Dec 2025, 08:15 PM
টেসলা থেকে ইলন মাস্কের ৫ হাজার ৬০০ কোটি ডলারের বেতন প্যাকেজটি পুনরায় বহালের নির্দেশ দিয়েছে ডেলাওয়্যার সুপ্রিম কোর্ট। দুই বছর আগে এই বিশাল পারিশ্রমিক চুক্তিটিকে ‘অকল্পনীয়’ বর্ণনা করে বাতিল করে দিয়েছিল সেখানকার এক নিম্ন আদালত।
নিউ ইয়র্ক টাইমস প্রতিবেদনে লিখেছে, পুনরায় বহাল হওয়া এই বেতন প্যাকেজের বর্তমান মূল্য প্রায় ১৩ হাজার ৯০০ কোটি ডলারে গিয়ে ঠেকতে পারে। এর কেবল দুই মাস আগে মাস্কের জন্য নতুন এক বেতন প্যাকেজ পরিকল্পনা অনুমোদন করেছেন টেসলার বিনিয়োগকারীরা, যার মূল্য আগামী এক দশকে ১ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে।
বর্তমানে বিশ্বের শীর্ষ ধনী ব্যক্তি মাস্কের মোট সম্পদের পরিমাণ আনুমানিক ৬০ হাজার কোটি ডলার বলে প্রতিবেদনে লিখেছে ব্রিটিশ পত্রিকা গার্ডিয়ান।
শুক্রবার ডেলাওয়্যার সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা তাদের রায়ে বলেছেন, ২০১৮ সালের এ বেতন চুক্তি বাতিল করা ‘অন্যায্য’ হবে। এমনটি করলে গত ছয় বছর ধরে মাস্ক যে সময় ও শ্রম দিয়েছেন তার বিপরীতে তাকে ‘বিনা পারিশ্রমিকে’ কাজ করানো হবে। বিচারপতিদের এমন বক্তব্য এ বছরের শুরুতে টেসলার বোর্ড সদস্যদের দেওয়া যুক্তিরই প্রতিধ্বনি।
এ বছরের নভেম্বরে টেক্সাসের অস্টিনে কোম্পানির বার্ষিক সভায় মাস্কের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন এক ব্যবস্থা অনুমোদন করেছিলেন টেসলার বিনিয়োগকারীরা। যার উদ্দেশ্য ছিল, ডেলাওয়্যার সুপ্রিম কোর্টের রায় যাই হোক না কেন মাস্ক যেন সেই ৫ হাজার ৬০০ কোটি ডলার পান। কারণ তাদের মতে, এমন বেতন মাস্কের প্রাপ্য।
এ রায়ের বিষয়ে গার্ডিয়ানের মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি মার্কিন বিদ্যুচ্চালিত গাড়ি নির্মাতা টেসলা।
তবে উভয় পারিশ্রমিক প্যাকেজসহ শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদিত অন্যান্য পরিকল্পনার ক্ষেত্রে একটি শর্ত রয়েছে, যেখানে এই বিপুল অর্থ হাতে পেতে মাস্ককে বেশ কিছু উচ্চাকাঙ্খী লক্ষ্য পূরণ করতে হবে। যার মধ্যে রয়েছে পণ্যের অভাবনীয় উন্নয়ন ও কোম্পানির মোট বাজারমূল্য ৮.৫ ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার মতো বিষয়।
মাস্কের মূল পারিশ্রমিক প্যাকেজটি বাতিলের মামলাটি শুরু হয়েছিল সাত বছর আগে। সে সময় টেসলার কেবল নয়টি শেয়ারের মালিক এক বিনিয়োগকারী মামলাটি দায়ের করেছিলেন।
তার দাবি ছিল, এ পরিকল্পনাটি বিশ্বের শীর্ষ ধনী ব্যক্তিকে অতিরিক্ত অর্থ দেওয়ার উদ্দেশ্যে সাজানো হয়েছে। প্রথম আদালতের সেই রায়ে মাস্কের শত শত কোটি ডলার পাওনা বাতিল হয়ে যায়, যা টেসলার এ সহ-প্রতিষ্ঠাতাকে ওই সময় চরম অসন্তুষ্ট করেছিল।
ওই সময় মাস্ক কেবল টেসলার প্রধান কার্যালয় ডেলাওয়্যার থেকে টেক্সাসে সরিয়েই নেননি, বরং প্রকাশ্যে ওই অঙ্গরাজ্যের বিরুদ্ধে নিজের ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন তিনি, বিশেষ করে ডেলাওয়্যারের ‘কোর্ট অব চ্যান্সারি’ ও আদালতের প্রধান বিচারক চ্যান্সেলর ক্যাথলিন ম্যাককরমিকের কড়া সমালোচনা করেছিলেন মাস্ক।
২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে নিজের সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ মাস্ক লিখেছিলেন, “আধুনিক ইতিহাসের যে কোনো বিচারকের চেয়ে ডেলাওয়্যার অঙ্গরাজ্যের বেশি ক্ষতি করেছেন ম্যাককরমিক।”
২০২৪ সালে টেসলার শেয়ারহোল্ডারদের কাছে ২০১৮ সালের ওই পারিশ্রমিক প্যাকেজটির ওপর আবারও ভোট দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। এতে তারা অনুমোদন দিলেও আবারও তা বাতিল করে দেন বিচারক ম্যাককরমিক।
রায়ে মাস্ককে ‘সুপারস্টার সিইও’ হিসেবে বর্ণনা করে তিনি বলেছিলেন, নিজের বেতন প্যাকেজ তৈরিতে মাস্কের ‘অনুচিত প্রভাব’ ছিল। এ ছাড়া ভোটের আগে শেয়ারহোল্ডারদের এই বিষয়ে পুরোপুরি তথ্য দেওয়া হয়নি বলেও উল্লেখ করেছিলেন তিনি।
তখন থেকেই নিজের অসন্তোষ প্রকাশ করে আসছেন মাস্ক।
এ বছরের শুরুর দিকে এক পোস্টে মাস্ক লিখেছিলেন, “এখনও কোনো আইনজীবী যদি কোনো কোম্পানিকে ডেলাওয়্যারে নিবন্ধিত হওয়ার পরামর্শ দেন তবে তার বিরুদ্ধে পেশাগত অবহেলার দায়ে মামলা হওয়া উচিত।”
শুক্রবার দেওয়া রায়ে ম্যাককরমিকের আগের পর্যবেক্ষণের সঙ্গে একমত হয়েছেন বিচারপতিরা, যেখানে মূল বেতন প্যাকেজটি তৈরি এবং তা বিনিয়োগকারীদের সামনে উপস্থাপনের ক্ষেত্রে ‘আমানতকারীর বাধ্যবাধকতা’ লঙ্ঘন হয়েছে। এর শাস্তি হিসেবে মামলার বাদিকে ‘নামমাত্র ক্ষতিপূরণ’ বাবদ ১ ডলার দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
তবে পাঁচজন বিচারকই এই বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, মাস্কের পুরো বেতন প্যাকেজটি বাতিল যথাযথ নয়।