Published : 17 Jan 2026, 10:33 AM
চলমান গণবিক্ষোভ দমনে ইতিহাসের অন্যতম দীর্ঘ ইন্টারনেট শাটডাউনের কবলে ইরান। দীর্ঘ এই ব্ল্যাকআউটে দেশটির কয়েক কোটি মানুষ ডিজিটাল দুনিয়া থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ৯ কোটি ২০ লাখ ইরানি নাগরিক এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে ইন্টারনেট থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন রয়েছেন, যা এখন পর্যন্ত বিশ্বের ইতিহাসে দীর্ঘতম ইন্টারনেট বন্ধের ঘটনাগুলোর মধ্যে একটি।
এর আগের বৃহস্পতিবার থেকে পুরো দেশজুড়ে ইন্টারনেট ও ফোন সংযোগ বন্ধ করে দিয়েছে ইরান সরকার। গত বছরের শেষ দিকে শুরু হওয়া বিশাল এক সরকার-বিরোধী বিক্ষোভের প্রতিক্রিয়ায় এই পদক্ষেপ নিয়েছে সেখানকার কর্তৃপক্ষ।
এ বিক্ষোভ দমনে দেশটির কর্তৃপক্ষ বর্তমানে অত্যন্ত কঠোর ও প্রাণঘাতী অভিযান চালাচ্ছে বলে প্রতিবেদেন লিখেছে প্রযুক্তি সাইট টেকক্রাঞ্চ। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ১৭০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারছেন না ইরানি নাগরিকরা।
ইন্টারনেট পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান ‘নেটব্লকস’-এর গবেষণা পরিচালক ইসিক মাটার বলেছেন, এর আগে ইরানে ২০১৯ সালে প্রায় ১৬৩ ঘণ্টা ও ২০২৫ সালে ১৬০ ঘণ্টা ইন্টারনেট বন্ধ ছিল।
মাটার বলেছেন, ইরানের বর্তমান ইন্টারনেট শাটডাউনটি এখন পর্যন্ত নথিবদ্ধ বিশ্বের তৃতীয় দীর্ঘতম ঘটনা। এ তালিকায় শীর্ষে রয়েছে ২০২১ সালের মাঝামাঝি সময়ে সুদানের ইন্টারনেট শাটডাউন, যা প্রায় ৩৫ দিন স্থায়ী হয়েছিল। এরপরেই রয়েছে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে মৌরিতানিয়ার ঘটনাটি, যা স্থায়ী হয়েছিল ২২ দিন।
“আমরা এ পর্যন্ত যত দেশব্যাপী ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট বা সংযোগ বিচ্ছিন্নের ঘটনা দেখেছি তার মধ্যে ইরানের এসব পদক্ষেপ অন্যতম ব্যাপক ও কঠোরভাবে কার্যকর করা হচ্ছে, বিশেষ করে কত সংখ্যক মানুষ এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, সেই বিচারে বিষয়টি অত্যন্ত ভয়াবহ।”
এ তালিকাটি ঠিক কেমন হবে তা সাধারণত নির্ভর করে প্রতিটি সংস্থা কীভাবে ইন্টারনেট বন্ধের ঘটনাকে পরিমাপ করে তার ওপর।
ডিজিটাল অধিকার নিয়ে কাজ করা অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ‘অ্যাক্সেস নাও’-এর গবেষক জ্যাক রসন বলেছেন, তাদের উপাত্ত অনুসারে ইতিহাসের দীর্ঘতম ১০টি শাটডাউনের তালিকায় স্থান করে নেওয়ার পথে রয়েছে ইরানে বর্তমানে চলমান এ ইন্টারনেট শাটডাউনটি।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এক মানবাধিকার সংগঠনের হিসাব অনুসারে, ইরানের বিভিন্ন শহরে এ পর্যন্ত ছয়শরও বেশি বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে। অন্য আরেকটি হিসাব মতে, ইরান সরকারের নেওয়া দমন অভিযানে অন্তত দুই হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।
৮ জানুয়ারি ইরানে এ আকস্মিক ইন্টারনেট শাটডাউনের ফলে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন সরকারি সংস্থাও ইন্টারনেট থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
তবে চলতি সপ্তাহে ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস প্রতিবেদনে লিখেছে, এরপর থেকে কিছু সরকারি দপ্তর ও অর্থনীতির নির্দিষ্ট কিছু খাত, যেমন ব্যাংক লেনদেন ও গ্যাস স্টেশনের পেমেন্ট সিস্টেমগুলোতে ইন্টারনেট সংযোগ ফিরিয়ে এনেছে ইরান।