১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

২ পাল ও বায়ু-সহায়ক প্রপালশনে সমুদ্র পাড়ি দেয় এই জাহাজ

সিস্টেমটি প্রচলিত পাল জাহাজের মতোই বায়ুর শক্তি ব্যবহার করে জাহাজকে এগিয়ে নিয়ে যায়। তবে জ্বালানির ব্যবহার কমাতে এতে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে কোম্পানিটি।

২ পাল ও বায়ু-সহায়ক প্রপালশনে সমুদ্র পাড়ি দেয় এই জাহাজ
২০২৪ সালে নিজের প্রথম যাত্রা সফলভাবে সম্পন্ন করেছে ‘পাইক্সিস ওশান’ জাহাজটি। ছবি: বার টেকনোলজিস

প্রযুক্তি ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 06 Nov 2025, 01:39 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:36 PM

সমুদ্রযাত্রার ইতিহাসে দীর্ঘ যুগ ধরে জাহাজ চালানোর প্রধান মাধ্যম ছিল পাল। তবে আধুনিক যুগের বেশিরভাগ জাহাজে আর পালের চল নেই, এর বদলে ব্যবহৃত হয় ইঞ্জিনের শক্তি।

ডিজেল ইঞ্জিন ব্যবহারের ফলে জাহাজগুলো বাতাসের ওপর নির্ভর না করে আরও দ্রুত ও ভালোভাবে চলতে পারে। তবে, এর ফলে পরিবেশে প্রচুর পরিমাণে দূষণ ও কার্বন নির্গমনও ঘটে।

অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংগঠন বা ওইসিডি-এর তথ্য বলছে, ২০২২ সালে কেবল শিপিং শিল্প থেকেই বিশ্বজুড়ে প্রায় ৮৫ লাখ ৮০ হাজার টন কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গত হয়েছে পরিবেশে, যা প্লেন শিল্পের তুলনায় এক কোটি টনেরও বেশি।

এজন্য ‘বার টেকনোলজিস’ নামের ব্রিটিশ মেরিন ডিজাইন কোম্পানি অনন্য এক সিস্টেম তৈরি করেছে, যা বাণিজ্যিক জাহাজের কার্বন নির্গমন কমাতে সাহায্য করে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি বিষয়ক সাইট স্ল্যাশগিয়ার।

সিস্টেমটি প্রচলিত পাল জাহাজের মতোই বায়ুর শক্তি ব্যবহার করে জাহাজকে এগিয়ে নিয়ে যায়। তবে জাহাজের ডিজেল বা অন্যান্য জ্বালানির ব্যবহার কমাতে এখানে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে কোম্পানিটি।

এ সিস্টেমে তৈরি কোম্পানিটির প্রথম জাহাজের নাম ‘পাইক্সিস ওশান’, যা ২০২৪ সালে নিজের প্রথম যাত্রা সফলভাবে সম্পন্ন করেছিল। এ জাহাজে ‘উইন্ডউইংস’ নামে একজোড়া শক্তপোক্ত পাল লাগিয়েছে বার। এগুলোতে সেন্সর রয়েছে, যা বাতাসের গতি ও দিক পরিবর্তনের সঙ্গে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পালের অবস্থান সামঞ্জস্য করতে পারে, ফলে জাহাজের গতি ও কার্যসক্ষমতা বেড়ে যায়।

সম্পূর্ণ নতুন এক জাহাজ তৈরির বদলে ‘উইন্ডউইংস’কে প্রচলিত জাহাজের ওপরও লাগানো যায়। এগুলো ব্যবহারের কারণে বাতাসের শক্তি জাহাজকে এগিয়ে নিয়ে যায়, যা ইঞ্জিনের ওপর চাপ কমিয়ে আনে এবং জাহাজ স্বাভাবিক গতিতে চলতে পারে। ফলে এ সিস্টেম ব্যবহারে জ্বালানি খরচ কমে।

এ প্রযুক্তির বাধা

‘বার টেকনোলজিস’-এর সিইও জন কুপার বলেছেন, নিজের প্রথম যাত্রায় প্রতি দিনে প্রায় ১১ টন জ্বালানি সাশ্রয় করেছে জাহাজটি।

তবে এ যাত্রায় কিছু সমস্যা ও সীমাবদ্ধতাও সামনে এসেছে, যা ‘উইন্ড অ্যাসিস্টেড প্রোপালশন’ বা ডব্লিউএপি প্রযুক্তি ব্যবহারে বাধা দিচ্ছে। সবচেয়ে বড় সমস্যা হল, অনেক বন্দরই এ ধরনের জাহাজ ভেড়ানোর জন্য উপযোগী নয়। এ সমস্যা সমাধানও সহজ নয়। এক্ষেত্রে কিছু বন্দরকে বিশেষভাবে পরিবর্তন বা মানিয়ে নিতে হবে। অন্যথায় এ ধরনের জাহাজ সেখানে প্রবেশ করতে পারবে না।

বিশ্বের অনেক বড় জাহাজই কন্টেইনার জাহাজ এবং এ ধরনের জাহাজে পাল বসানো কোনো সমাধান হবে না। কারণ এগুলো বন্দরে ক্রেনের চলাফেরার পথে বাধা হয়ে যাবে, যা জাহাজে লোডিং ও আনলোডিং প্রক্রিয়া ব্যাহত করতে পারে।

এ সীমাবদ্ধতার কারণে ‘উইন্ডউইংস’-এর ব্যবহার সাম্প্রতিক সময়ে সাধারণ দৃশ্য হয়ে ওঠার সম্ভাবনা কম। তবে ভবিষ্যতে শিপিং শিল্পের কার্বন নির্গমন কমানোর ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখতে পারে এই জাহাজ। ততদিন পর্যন্ত বেশিরভাগ জাহাজ তাদের প্রধান শক্তির উৎস হিসেবে ডিজেল ইঞ্জিন ব্যবহার করে চলতে থাকবে।