অ্যাপলের বিরল স্নিকার নিলামে, দাম হতে পারে ৫০ হাজার ডলার
৯০’র দশকে কোম্পানির কর্মীদের জন্য এই বিশেষ জুতা বানিয়েছিল অ্যাপল। আর একটি আয়োজনের মাধ্যমে শুধু একবারই এগুলো বিতরণ করেছিল কোম্পানিটি।
অ্যাপলের একজোড়া বিরল ট্রেইনার সু তালিকায় তুলেছে যুক্তরাজ্যের নিলাম কোম্পানি ‘সোথবি’স’। এর সম্ভাব্য দাম ধরা হয়েছে ৫০ হাজার ডলার।
৯০’র দশকে কোম্পানির কর্মীদের জন্য এই বিশেষ জুতা বানিয়েছিল অ্যাপল। আর একটি আয়োজনের মাধ্যমে শুধু একবারই এইসব জুতা বিতরণ করেছিল কোম্পানিটি।
এর আগে এই জুতা কখনও জনসমক্ষে বিক্রির জন্য আসেনি।
‘সোথবি’স’ বলেছে, মূলত জুতার সাদা চামড়ার ওপরের অংশে ব্যবহৃত হয়েছে অ্যাপলের পুরনো ‘রেইনবো’ লোগো। আর এই জুতার ফিতাও বেশ নজরকাড়া।
বিক্রেতা কোম্পানি একে ব্যাখ্যা করেছে ‘বিশ্বের অন্যতম দুষ্প্রাপ্য বস্তু’ হিসেবে। এর মাধ্যমে এই স্নিকারের বিরলতা ও পুনরায় বাজারে বিক্রির বেলায় মূল্যমানের বিষয়টি ফুটে উঠেছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে বিবিসি।
‘ওমেগা এক্স অ্যাপল’ নামের এই স্নিকার ‘আনকোড়া নতুন’ হিসেবে এলেও এর ব্যাখ্যা বলছে, এগুলোতে কিছু ত্রুটি রয়েছে। এর একটি হলো জুতার সোলের চারপাশ হলুদ হয়ে যাওয়া।
এই জুতার হিলে ব্যবহৃত হয়েছে ‘এয়ার কুশনিং উইন্ডো’। যুক্তরাষ্ট্রের মাপ অনুসারে এর সাইজ সাড়ে ১০, আর যুক্তরাজ্যের হিসাবে সাড়ে আট। এ ছাড়া, জুতার বাক্সে একজোড়া লাল ফিতাও রয়েছে।
বেশ কিছু সময় ধরেই অ্যাপলের বিভিন্ন স্মারক পণ্যের মূল্যমান বাড়তে দেখা গেছে। আর এমন অনেক ‘রেট্রো গ্যাজেট’ এখন সৌখিন সংগ্রাহকদের কাছে উচ্চমূল্যে বিক্রি হচ্ছে। তবে, কোম্পানির সকল পণ্যই যে সাফল্য পেয়েছে, বিষয়টি এমন নয়।
এক সময় ‘পিপিন’ নামে প্রচলিত একটি ভিডিও গেইম ছিল অ্যাপলের। তবে, সেটির দাম অনেক বেশি ছিল। এ ছাড়া, বন্ধ হয়ে যাওয়া সামাজিক নেটওয়ার্ক ‘পিং’ ও ‘নিউটন মেসেজপ্যাড’ নামের ডিভাইসগুলোকে ‘ব্যর্থ’ হিসেবেই দেখা হয়।
সম্প্রতি অ্যাপল পণ্যের সবচেয়ে সফল নিলাম হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে একেবারে নতুন চার জিবির প্রথম সংস্করণের আইফোন। আর যুক্তরাষ্ট্রে এটি নিলামে বিক্রি হয়েছে এক লাখ ৯০ হাজার ডলারেরও বেশি দামে।
বিভিন্ন গ্যাজেট ও উদ্ভাবনের জন্য জনপ্রিয়তা পেলেও কখনও কখনও প্রযুক্তিপ্রেমীদের নিজ ব্র্যান্ডের কাপড় বা অন্যান্য প্রসাধনী পণ্য কেনার সুযোগও দিয়েছে অ্যাপল।
এক সময় অ্যাপলের নিজস্ব ক্লোদিং লাইন সংগ্রহ ছিল, যেখানে ব্যবহৃত হতো রেইনবো লোগো ও ম্যাকিনটশ কম্পিউটারের ছবি। এইসব প্রসাধনীর মধ্যে ছিল টি-শার্ট, পোলো শার্ট, সোয়েটশার্ট ও হ্যাট।
এগুলো তৈরি হয়েছিল অ্যাপল ব্র্যান্ডের প্রচারণা ও একটি কমিউনিটি তৈরির উদ্দেশ্যে। তবে, এগুলো তেমন সাফল্য দেখাতে না পারায় পরবর্তীতে সেগুলোর উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়।
২০১৫ সালে কোম্পানির ঘড়ির স্ট্র্যাপ তৈরির জন্য বিলাসবহুল ফ্যাশন ব্র্যান্ড ‘হারমিস’-এর সঙ্গে জোট বাঁধে অ্যাপল। এ ছাড়া, ২০২০ সালে ‘ব্ল্যাক হিস্ট্রি মান্থ’ উদযাপনের লক্ষ্যে একটি স্ট্যাপ প্রকাশ করেছিল কোম্পানিটি।
ক্যালিফোর্নিয়ার কুপারটিনো শহরে অবস্থিত কোম্পানির সদর দপ্তরের কর্মীদের জন্যেও ‘অ্যাপল পার্ক’ নামের জ্যাকেট নকশা করেছিল কোম্পানিটি।
