Published : 08 Jun 2026, 08:35 PM
বকেয়া বেতন-ভাতার দাবিতে ঢাকার মহাখালীতে বিক্ষোভে নামা নাসা গ্রুপের তিনটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা মূল সড়ক ছেড়ে পাশের সড়কে সরে যাওয়ায় প্রায় পৌনে তিন ঘণ্টা পর মগবাজার থেকে বিমানবন্দরের পথে যান চলাচল শুরু হয়েছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার ইবনে মিজান জানান, তাদের অনুরোধে সোমবার সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে আন্দোলনরত শ্রমিকরা মূল রাস্তা ছেড়ে পাশের গুলশান লিংক রোডে সরে যান।
"তারা এখন নাসা অফিসের কাছে অবস্থান নিয়ে আছেন । তাদেরকে বোঝানো হচ্ছে, মালিকপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হচ্ছে। শ্রমিকরা রাস্তা ছেড়ে দেওয়ার পরে মহাখালীতে দুই দিকে গাড়ি চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।"
নাসা গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘নাসা মেইনল্যান্ডের’ তিনটি কারখানার শ্রমিক-কর্মচারীরা এই আন্দোলনে অংশ নিচ্ছেন। কারখানা তিনটি হল— নাসা নিট লিমিটেড, নাসা অ্যাপারেলস লিমিটেড ও ওয়েস্টার্ন ড্রেসেস লিমিটেড।
বকেয়া বেতন-ভাতার দাবিতে তারা বিকাল সোয়া ৪টার দিকে সড়ক অবরোধ করলে মহাখালী বাস টার্মিনালের সামনের সড়ক দিয়ে যান চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। ফলে মহাখালী থেকে সাত রাস্তা পর্যন্ত সড়কের উভয় লেইনে শত শত গাড়ি আটকা পড়ে।
সগির হোসেন নামে এক শ্রমিক বলেন, ঈদের পর তাদের কারখানা বন্ধ হয়ে যায়। এর আগে গত ৪ জুন তারা আন্দোলনে নামলে কারখানা কর্তৃপক্ষ সোমবার (৮ জুন) বিষয়টি মিটমাট করার প্রতিশ্রুতি দেয়। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি না রাখায় তারা আন্দোলনে নেমেছেন।
আন্দোলনকারীরা বলছেন, তাদের মে মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে। অন্যান্য ভাতাও দেওয়া হয়নি।
চব্বিশের আন্দোলনে সরকার পতনের পর আওয়ামী লীগ সরকারের ঘণিষ্ঠ ব্যাবসায়ী হিসেবে পরিচিত নাসা গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ব্যাংক মালিকদের সংগঠন বিএবির সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার গ্রেপ্তার হলে তার কারখানায় সংকট দেখা দেয়। নজরুল ইসলাম গ্রেপ্তারের পর থেকে এখনো কারাগারে আছেন।