Published : 25 Mar 2026, 01:08 PM
এআই মডেলে নতুন সক্ষমতা যোগ করেছে অ্যানথ্রপিক, যা মাউস নাড়ানো থেকে শুরু করে ফর্ম পূরণ বা অ্যাপ খোলার ক্ষেত্রে মানুষের জন্য ডিজিটাল সহকারীর মতো কাজ করবে বলে দাবি কোম্পানিটির।
বর্তমানে প্রযুক্তি বিশ্বে বেশ আলোচিত ওপেন সোর্স এআই এজেন্ট ‘ওপেনক্ল’-এর সঙ্গে পাল্লা দিতেই অ্যানথ্রপিক নিজেদের জনপ্রিয় এআই মডেল ক্লড-এ নতুন ‘এআই এজেন্ট’ তৈরি করেছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে আমেরিকান সংবাদমাধ্যম সিএনবিসি।
সোমবার অ্যানথ্রপিক বলেছে, ব্যবহারকারীরা এখন তাদের ফোন থেকে ক্লড’কে কোনো কাজের নির্দেশ দিলে সেই এআই এজেন্টটি কম্পিউটারে ওই কাজটি করে দেবে।
একবার নির্দেশ দিলে ক্লড ব্যবহারকারীর কম্পিউটারের বিভিন্ন অ্যাপ খুলতে, ওয়েব ব্রাউজারে তথ্য খুঁজতে ও স্প্রেডশিট বা এক্সেল ফাইলের তথ্য পূরণ করতে পারবে।
অ্যানথ্রপিকের এক ভিডিওতে দেখা গেছে, একজন ব্যবহারকারী মিটিংয়ে পৌঁছাতে দেরি হওয়ায় ক্লড’কে একটি প্রেজেন্টেশন ফাইল পিডিএফ করে মিটিং ইনভাইটেশনে পাঠিয়ে দিতে বলেন। নির্দেশ পাওয়ার পর ভিডিওতে ক্লডকে নিখুঁতভাবে সেই কাজটি করতে দেখা গেছে।
কোম্পানিটির এ সর্বশেষ আপডেটটি থেকে প্রমাণ মেলে, বড় বড় এআই কোম্পানি এখন এমন ‘এজেন্ট’ তৈরির দিকেই ঝুঁকছে, যা মানুষের হয়ে দিন-রাত যে কোনো সময় স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করে দিতে পারবে।
এ বছর ‘ওপেনক্ল’ বাজারে আসার পর থেকেই ‘এআই এজেন্ট’-এর সক্ষমতা সবার নজরে আসে। ওপেনএআই ও অ্যানথ্রপিকের বিভিন্ন এআই মডেলের সঙ্গে যোগ হয়ে কাজ করে ওপেনক্ল।
ব্যবহারকারীরা হোয়াটসঅ্যাপ বা টেলিগ্রামের মতো জনপ্রিয় অ্যাপের মাধ্যমে ওপেনক্ল’কে মেসেজ পাঠিয়ে বিভিন্ন কাজ করিয়ে নিতে পারেন।
অ্যানথ্রপিকের নতুন ফিচারের মতো ওপেনক্ল’ও ব্যবহারকারীর ডিভাইসে সরাসরি কাজ করে। ফলে কম্পিউটারের বিভিন্ন ফাইল ব্যবহার করতে পারে এআই এজেন্টটি।
এনভিডিয়ার সিইও জেনসেন হুয়াং বলেছেন, ওপেনক্ল নিশ্চিতভাবেই ‘পরবর্তী চ্যাটজিপিটি’ হতে যাচ্ছে। বড় বিভিন্ন প্রযুক্তি কোম্পানি এখন এর প্রতিদ্বন্দ্বী তৈরিতে ব্যস্ত।
মার্কিন চিপ নির্মাতা জায়ান্টটি গেল সপ্তাহে বড় ধরনের কোম্পানির জন্য ‘নিমোক্ল’ নামের ওপেনক্ল-এর বিশেষ এক সংস্করণ ঘোষণা করেছে।
এদিকে, গত মাসে ওপেনক্ল-এর নির্মাতা পিটার স্টেইনবার্জারকে নিয়োগ দিয়েছে চ্যাটজিপিটির নির্মাতা ওপেনএআই। তাদের লক্ষ্য, পরবর্তী প্রজন্মের ‘পার্সোনাল এজেন্ট’ বা ব্যক্তিগত এআই সহকারী তৈরি করা।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা
অ্যানথ্রপিক সতর্ক করে বলেছে, কোডিং বা টেক্সট নিয়ে কাজ করার তুলনায় ক্লডের এই ‘কম্পিউটার ব্যবহারের’ সক্ষমতা এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।
“ক্লড ভুল করতে পারে ও আমরা আমাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা উন্নত করার আপ্রাণ চেষ্টা করলেও সাইবার জগতের হুমকি প্রতিনিয়ত পাল্টাচ্ছে।”
তবে কোম্পানিটি বলেছে, এ ফিচারটি এমনভাবে তৈরি হয়েছে যাতে ঝুঁকি কম হয়। ক্লড যে কোনো নতুন অ্যাপ ব্যবহারের আগে সব সময় ব্যবহারকারীর কাছ থেকে অনুমতি চাইবে।
ব্যবহারকারীরা গত সপ্তাহে ‘ক্লড কোওয়ার্ক’-এ যোগ হওয়া নতুন ফিচার ‘ডেসপ্যাচ’ ব্যবহার করতে পারবেন। এর মাধ্যমে ফোন বা ডেস্কটপ থেকে ক্লডের সঙ্গে সরাসরি কথা বলা এবং একে বিভিন্ন কাজ বুঝিয়ে দেওয়া যাবে।