Published : 29 Dec 2025, 10:48 AM
এ বছর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই কোম্পানির শেয়ার বাজারে ব্যাপক উন্নতির ফলে প্রায় আধা ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি বেড়েছে আমেরিকার প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ ধনকুবেরদের সম্পদের পরিমাণ।
ব্লুমবার্গের পরিসংখ্যান অনুসারে, ক্রিসমাস ইভ বা বড়দিনের আগের রাত পর্যন্ত বিশ্বের অন্যতম বড় বিভিন্ন প্রযুক্তি কোম্পানির শীর্ষ ১০ মার্কিন প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধানদের সম্পদের পরিমাণ ১.৯ ট্রিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে প্রায় দাঁড়িয়েছে ২.৫ ট্রিলিয়ন ডলারে।
আবারও নিজেকে সবচেয়ে বড় বিজয়ীদের একজন হিসেবে প্রমাণ করেছেন এরইমধ্যে বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি ইলন মাস্ক। এআইতে বিনিয়োগের প্রবল জোয়ার মার্কিন শেয়ার বাজারকে ইতিহাসের সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছে দিয়েছে, যার বড় সুবিধা পেয়েছেন মার্কিন এই ধনকুবের।
ব্রিটিশ পত্রিকা গার্ডিয়ান লিখেছে, এ বছরে মাস্কের সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়ে ৬৪ হাজার ৫০০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। এই টাইকুনের ব্যবসায়িক সাম্রাজ্যের মধ্যে এআই স্টার্টআপ ‘এক্সএআই’ রয়েছে। এ বছরের অক্টোবরে প্রথম ব্যক্তি হিসেবে ৫০ হাজার কোটি বা আধা ট্রিলিয়ন ডলার সম্পদের মালিক হওয়ার রেকর্ডও গড়েছেন মাস্ক।
বিদ্যচ্চালিত গাড়ি বা ইভি নির্মাতা টেসলার নির্ধারিত বিভিন্ন লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারলে বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার ডলারের মালিক হতে পারবেন কোম্পানিটির প্রধান নির্বাহী মাস্ক।
বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের তালিকায় মার্কিন সার্চ জায়ান্ট গুগল-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেইজ ও মার্কিন ই কমার্স জায়ান্ট অ্যামাজন-এর প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোসকে পেছনে ফেলে শীর্ষে অবস্থান করছেন মাস্ক। বর্তমানে পেইজের সম্পদের পরিমাণ ২৭ হাজার কোটি ডলার ও বেজোসের ২৫ হাজার ৫০০ কোটি ডলার।

অতি-ধনীদের হাতে সম্পদের এই ক্রমাগত পুঞ্জীভবন অর্থনীতির ভারসাম্য রক্ষার উপায় নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ফলে এই অসমতা দূর করতে এখন ধনীদের ওপর আরও বেশি কর বা ‘সম্পদ কর’ বসানোর দাবি জোরালো হচ্ছে।
এই দৌড়ে সবচেয়ে বেশি লাভবান হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে অন্যতম মার্কিন চিপ নির্মাতা এনভিডিয়া’র প্রধান নির্বাহী জেনসেন হুয়াং। তার বিনিয়োগ, শেয়ার ও অন্যান্য সম্পদের মূল্য ৪ হাজার ১৮০ কোটি ডলার বেড়ে তার ব্যক্তিগত সম্পদের পরিমাণ ১৫ হাজার ৯০০ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে।
ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের আলাদা এক প্রতিবেদন অনুসারে, তার এই সম্পদের পরিমাণ ‘ব্লুমবার্গ বিলিয়নেয়ার ইনডেক্স’-এ সামগ্রিকভাবে নবম ও শীর্ষ ১০ মার্কিন প্রযুক্তি ধনকুবেরের মধ্যে অষ্টম স্থানে নিয়ে এসেছে হুয়াংকে।
এনভিডিয়ার শেয়ারের ক্রমাগত দাম বৃদ্ধির সুযোগ নিয়ে এ বছর প্রায় ১০০ কোটি ডলার মূল্যের শেয়ার বিক্রি করেছেন হুয়াং। এআইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তিশালী প্রসেসিং সক্ষমতা তৈরিতে এনভিডিয়ার উন্নত বিভিন্ন কম্পিউটার চিপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।

গত অক্টোবরে বিশ্বের প্রথম ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের কোম্পানিতে পরিণত হয়েছে এনভিডিয়া, যা জাপান বা ভারতের মতো বিশ্বের অন্যতম বড় অর্থনীতির মোট জাতীয় উৎপাদনের চেয়েও বেশি।
গুগলের দুই সহ-প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেইজ ও সার্গেই ব্রিনের সম্পদের পরিমাণ যথাক্রমে প্রায় ১০ হাজার ২০০ কোটি ডলার এবং ৯ হাজার ২০০ কোটি ডলার বেড়েছে। বিনিয়োগকারীরা গুগলের এআই খাতের উন্নতির ওপর আস্থা রাখায় এই মোটা অংকের লাভ হয়েছে তাদের। যার মধ্যে গুগলের নিজস্ব উদ্যোগে তৈরি ‘টেনসর প্রসেসিং ইউনিট’ বা টিপিইউ নামের নতুন প্রজন্মের শক্তিশালী চিপ বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্টের অন্যতম বড় কারণ।
তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এআই খাতে বিনিয়োগের জোয়ার এতটাই প্রবল যে, ব্যাংক অফ ইংল্যান্ড সতর্কবার্তা জারি করে বলেছে, বিনিয়োগকারীদের এই প্রবল আত্মবিশ্বাস শেষ পর্যন্ত ভুল প্রমাণিত হলে বিশ্ব বাজারে শেয়ারের দামে ‘আকস্মিক পতন’ ঘটতে পারে।
অক্টোবরে ইংল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শীর্ষ নীতি-নির্ধারকরা বলেছেন, “বেশ কিছু মাপকাঠিতে দেখা যাচ্ছে, শেয়ার বাজারের মূল্যায়ন স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি বাড়িয়ে ধরা হয়েছে, বিশেষ করে এআই নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন প্রযুক্তি কোম্পানির ক্ষেত্রে।”
কেবল প্রযুক্তি নয়, ফ্যাশন ও শৌখিন পণ্যের ব্যবসাতেও বড় অংকের মুনাফা হয়েছে এ বছর। ধনকুবেরদের তালিকায় প্রযুক্তি খাত প্রাধান্য পেলেও এই তালিকার শীর্ষে আরও কিছু পরিচিত নাম রয়েছে। বিলাসবহুল পণ্য উৎপাদনকারী ফরাসি কোম্পানি এলভিএমএইচ-এর চেয়ারম্যান বার্নার্ড আর্নো তাদের অন্যতম।
আরও রয়েছেন লুই ভুইতোঁ ব্যাগ ও দোম পেরিনঁ শ্যাম্পেনের মতো বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ডের মালিক আর্নোর সম্পদ গত এক বছরে ২ হাজার ৮৫০ কোটি ডলার বেড়েছে। ৭৬ বছর বয়সী এই ব্যবসায়ী এলভিএমএইচ-এর প্রায় অর্ধেক অংশের মালিক।
উত্তর আমেরিকার ধনী ক্রেতাদের কেনাকাটার হার বেড়ে যাওয়ায় সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এই কোম্পানির শেয়ার নিয়ে আরও ইতিবাচক হয়ে উঠেছেন বিশ্লেষকরা।