Published : 01 Apr 2026, 01:01 PM
প্রায় ১০ দিনের এক রোমাঞ্চকর অভিযানের মধ্য দিয়ে অ্যাপোলো যুগের পর প্রথমবারের মতো চাঁদের দেশে পাড়ি জমাচ্ছে মানুষ।
নাসার আর্টেমিস ২ মিশনটি কেবল মহাকাশ যাত্রা নয়, বরং মহাকাশে মানুষের টিকে থাকার সক্ষমতা ও ওরিয়ন ক্যাপসুলের কার্যকারিতা প্রমাণের চূড়ান্ত এক পরীক্ষা।
রয়টার্স লিখেছে, এ মিশনে চারজন নভোচারী চাঁদের চারপাশ প্রদক্ষিণ করে পৃথিবীতে ফিরে আসবেন। এ দশকের শেষদিকে নভোচারীদের আবারও চাঁদের পৃষ্ঠে নামানোর লক্ষ্য নিয়ে পরবর্তী মিশনগুলোর পথ প্রশস্ত করতেই আর্টেমিস ২ মিশনকে সাজিয়েছে নাসা।
১ এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাওয়া এ ঐতিহাসিক সফরের প্রতিটি ধাপ, পৃথিবীর কক্ষপথ ত্যাগ থেকে শুরু করে চাঁদের পেছন দিক ঘুরে প্রশান্ত মহাসাগরে অবতরণ পর্যন্ত কীভাবে পরিচালিত হবে তারই এক যাত্রাপথ একনজরে দেখে নেওয়া যাক–
ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে নাসার এ যাবতকালের সবচেয়ে শক্তিশালী রকেট ‘স্পেস লঞ্চ সিস্টেম’ বা এসএলএস-এ করে আর্টেমিস ২ উৎক্ষেপিত হবে।
নাসা বলেছে, উৎক্ষেপণের সময়সূচি ১ এপ্রিল থেকে শুরু হবে। তবে আবহাওয়া, কারিগরি প্রস্তুতি ও রেঞ্জ সহজলভ্যতার ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী দিনগুলোতেও উৎক্ষেপণ হতে পারে।
উৎক্ষেপণের পর মহাকাশযানের ওরিয়ন ক্রু ক্যাপসুলটি রকেটের উপরের অংশ থেকে আলাদা হয়ে পৃথিবীর চারপাশে এক উপবৃত্তাকার কক্ষপথে প্রবেশ করবে।

প্রথম ১-২ দিন: পৃথিবীর কক্ষপথে পরীক্ষা-নিরীক্ষা
নভোচারীরা প্রথম এক থেকে দুই দিন পৃথিবীর উচ্চ কক্ষপথে অবস্থান করে মহাকাশযানের বিভিন্ন সিস্টেম পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করবেন।
যার মধ্যে রয়েছে ওরিয়নের ‘লাইফ সাপোর্ট’ বা জীবন রক্ষাকারী ব্যবস্থা, প্রপালশন বা চালিকাশক্তি, ন্যাভিগেশন ও যোগাযোগ ব্যবস্থা যাচাই করা, যাতে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, মহাকাশযানটি অভিযানের পরবর্তী অংশের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
ট্রান্সলুনার ইনজেকশন
পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর ওরিয়নের প্রপালশন সিস্টেম গুরুত্বপূর্ণ ইঞ্জিন বার্ন বা ‘ট্রান্সলুনার ইনজেকশন’ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে।
এর মাধ্যমে মহাকাশযানটি পৃথিবীর কক্ষপথ থেকে বেরিয়ে চাঁদের অভিমুখে নিজের যাত্রা শুরু করবে।
দিন ৩-৪: চাঁদের দিকে যাত্রা
চাঁদে পৌঁছানোর এ কয়েক দিনের যাত্রাপথে নভোচারীরা মহাকাশযানের বিভিন্ন সিস্টেম পর্যবেক্ষণের কাজটি চালিয়ে যাবেন। এ অভিযানে মানুষ পৃথিবী থেকে আগের যে কোনো মহাকাশ ভ্রমণের তুলনায় বেশি দূরত্ব পার করবে।
ওরিয়ন যখন গভীর মহাকাশে এগিয়ে চলবে তখন মিশন কন্ট্রোল থেকে এর যোগাযোগ ও ন্যাভিগেশন ব্যবস্থার কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণ করা হবে।
চাঁদ প্রদক্ষিণ
ওরিয়ন ‘ফ্রি রিটার্ন ট্র্যাজেক্টোরি’ বা কক্ষপথ ব্যবহার করে চাঁদের পেছন দিক দিয়ে ঘুরে আসবে। এ বিশেষ পথটি এমনভাবে তৈরি, যাতে কোনো বাড়তি জ্বালানি খরচ না করেই মহাকাশযানটি প্রাকৃতিকভাবে আবার পৃথিবীর দিকে ফিরে আসতে পারে।
অভিযানের এ পর্যায়েই মহাকাশযানটি পৃথিবী থেকে নিজের সর্বোচ্চ দূরত্বে পৌঁছাবে।
দিন ৫-৮: পৃথিবীতে প্রত্যাবর্তন
চাঁদ প্রদক্ষিণ শেষ করে নভোচারীরা পরবর্তী কয়েক দিন পৃথিবীর দিকে ফিরে আসার যাত্রায় কাটাবেন।
এ সময়ে তারা মহাকাশে আরও কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাবেন, যার মধ্যে রয়েছে ‘লো আর্থ অরবিট’ বা পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, তাপ নিয়ন্ত্রণ ও ক্রু অপারেশন বা নভোচারীদের কার্যক্রম মূল্যায়ন করা।
পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ ও অবতরণ
পৃথিবীর কাছাকাছি পৌঁছানোর পর ওরিয়ন এর মূল বিভিন্ন অংশ থেকে আলাদা হয়ে যাবে ও ঘণ্টায় প্রায় ৪০ হাজার ২৩৩ কিলোমিটার বেগে বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করবে।
প্রচণ্ড গতির কারণে তৈরি উত্তাপে ওরিয়ন ক্যাপসুলের ‘হিট শিল্ড’ বা তাপ সুরক্ষা কবচ কতটা কার্যকর থাকে তা পরীক্ষা করা এ মিশনের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য।
অবশেষে মহাকাশযানটি প্রশান্ত মহাসাগরে অবতরণ করবে, যেখান থেকে উদ্ধারকারী দল নভোচারীদের ফিরিয়ে আনবে।