Published : 13 Jan 2026, 03:51 PM
অস্ট্রেলিয়ার ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিষেধাজ্ঞার আইন মেনে চলতে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে মেটা। প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার অ্যাকাউন্ট বন্ধ করেছে কোম্পানিটি।
‘মিডিয়াম’-এ দেওয়া এক বিবৃতিতে মার্কিন সামাজিক মাধ্যম জায়ান্টটি বলেছে, বন্ধ করা এসব অ্যাকাউন্টের মধ্যে রয়েছে ৩ লাখ ৩০ হাজার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট, ১ লাখ ৭৩ হাজার ফেইসবুক অ্যাকাউন্ট ও ৪০ হাজার থ্রেডস অ্যাকাউন্ট। এসব অ্যাকাউন্ট ছিল শিশুদের।
মেটা বলেছে, “আইন মেনে চলার এ প্রক্রিয়াটি হবে বহুমুখী এবং আমরা ক্রমাগত তা উন্নত করার কাজ চালিয়ে যাব। তবে কোনো বৈশ্বিক মানদণ্ড ছাড়াই অনলাইনে বয়স নির্ধারণের বিষয়টি নিয়ে আমাদের উদ্বেগ এখনও রয়ে গেছে।”
বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে গেল বছরের ১০ ডিসেম্বর থেকে ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করেছে অস্ট্রেলিয়া।
এ আইনের অধীনে ফেইসবুক, ইনস্টাগ্রাম, টিকটক, স্ন্যাপচ্যাট, এক্স, রেডিট ও টুইচ’সহ ১০টি প্রধান প্ল্যাটফর্ম তাদের অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যবহারকারীদের প্রবেশাধিকার বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি সাইট এনগ্যাজেট।
তবে অস্ট্রেলিয়ার এ নিষেধাজ্ঞার মুখে সব প্ল্যাটফর্ম হাত গুটিয়ে বসে নেই, বিশেষ করে দেশটির আইনের বিরুদ্ধে সরাসরি আইনি লড়াই শুরু করেছে অনলাইন আলোচনার প্ল্যাটফর্ম রেডিট।
অস্ট্রেলীয় সরকারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে রেডিট যুক্তি দিয়েছে, তাদের প্ল্যাটফর্মটিকে এ নিষেধাজ্ঞার আওতায় রাখা উচিত নয়। কারণ কোনো প্রচলিত ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মতো’ নয় রেডিট।
এ ছাড়া রেডিট সতর্ক করে বলেছে, এ আইনটি ব্যবহারকারীদের ‘ব্যক্তিগত প্রাইভেসি ও রাজনৈতিক মতপ্রকাশের স্বাধীনতার’ ওপর মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করবে।
মেটাও এই নিষেধাজ্ঞার তীব্র বিরোধিতা করেছে এবং এর পেছনে বেশ কিছু কারণ দেখিয়েছে কোম্পানিটি। তারা যুক্তি দিচ্ছে, টিনএজাদের হাত থেকে সামাজিক মাধ্যম কেড়ে নেওয়া তাদেরকে অনলাইন কমিউনিটি থেকে পাওয়া প্রয়োজনীয় সহায়তা থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিতে পারে।
মেটার আপত্তির মূল কারণ হচ্ছে, টিনএজারদের সামাজিক মাধ্যম থেকে দূরে সরিয়ে দিলে তারা ইন্টারনেটের এমন সব ‘অনিয়ন্ত্রিত বা অন্ধকার অংশে’ চলে যেতে পারে, যা তাদের জন্য আরও বেশি বিপজ্জনক।
মেটার দাবি, আইনটি মেনে চলার ব্যাপারে টিনএজার ও তাদের অভিভাবকদের মধ্যেও খুব একটা আগ্রহ বা সদিচ্ছা নেই।
তবে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার এক মাসের মাথায় মেটা প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার অ্যাকাউন্ট সরিয়ে ফেলল, যা থেকে ইঙ্গিত মেলে, আইনটি কোম্পানির আর্থিক মুনাফার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। কারণ বড় সংখ্যক ব্যবহারকারী কমে যাওয়া মানে বিজ্ঞাপনের বাজারেও ক্ষতির মুখে পড়া।
এ ছাড়া, শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তার ক্ষেত্রে মেটার আগের রেকর্ড মোটেও স্বচ্ছ নয়। অতীতেও শিশুদের ওপর সামাজিক মাধ্যমে ক্ষতির হারের বিষয়টি বারবার অস্বীকার করেছে মেটা।