এনভিডিয়ার এআরএম কেনায় বাধা দিতে আদালতে এফটিসি

মাইক্রোচিপ নকশায় বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠান এআরএম কে কেনার উদ্যোগ নিয়েছিল চিপ নির্মাতা শীর্ষ মার্কিন প্রতিষ্ঠান এনভিডিয়া। চার হাজার কোটি ডলারের ওই ক্রয় চুক্তি ঠেকাতে মামলা করেছে মার্কিন ফেডারেল ট্রেড কমিশন (এফটিসি)।

প্রযুক্তি ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 3 Dec 2021, 01:05 PM
Updated : 3 Dec 2021, 01:05 PM

বৃহস্পতিবার দায়ের করা ওই মামলায় এফটিসি বলেছে, এটি প্রতিযোগিতার কণ্ঠরোধ করবে এবং দুটি প্রতিষ্ঠান এক হয়ে গেলে তা গোটা শিল্পের ওপর ভারসাম্য নষ্ট করার মতো নিয়ন্ত্রণ হাতে পাবে।

এই সম্ভাব্য ক্রয় সেমিন্ডাক্টর জগতে বিশ্বে সর্বকালের বৃহত্তম চুক্তি হতে যাচ্ছিল। এরইমধ্যে এ নিয়ে বিদেশে নিয়ন্ত্রক সংস্থার যাচাই প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে সিএনএন।

এফটিসি এক বিবৃতিতে বলেছে, “সেমিকন্ডাক্টর চিপ কম্পিউটার এবং প্রযুক্তিকে শক্তি দেয় যা আমাদের আধুনিক অর্থনীতি এবং সমাজের জন্য অপরিহার্য।” অভিযোগ অনুযায়ী, এই ক্রয়ের ফলে “যৌথ প্রতিষ্ঠানটির প্রযুক্তি পরবর্তী প্রজন্মের প্রযুক্তিপণ্য যেমন ডেটাসেন্টার, বৈদ্যুতিক গাড়ির সিস্টেম চালানোর জন্য ব্যবহৃত হবে, সেখানে অসম্ভব ক্ষমতাধর হয়ে উঠবে।”

এআরএম-এর সিংহভাগ শেয়ারের মালিক জাপানি প্রযুক্তি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান সফটব্যাংক।

এনভিডিয়া গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে সফটব্যাংক মালিকানা থেকে এআরএম কেনার চুক্তি ঘোষণা করে। সে সময় প্রতিষ্ঠানটি ধারণা প্রকাশ করে ১৮ মাসের মধ্যে চুক্তিটি সম্পন্ন করা যাবে। কিন্তু এই ক্রয় বিশ্বব্যাপী নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর যাচাইয়ের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে, যার মধ্যে চীনের পাশাপাশি রয়েছে যুক্তরাজ্য, যেখানে এআরএম অবস্থিত। ইউরোপীয় কমিশনও মাত্র এক মাস আগে এই চুক্তি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছিল।

এনভিডিয়ার একজন মুখপাত্র বিবৃতিতে বলেছেন, “এই হাতবদল প্রযুক্তি শিল্পের উপকার করবে এবং প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র বাড়াবে ও তা প্রদর্শনের জন্য কাজ চালিয়ে যাবে।”

এআরএম এবং সফটব্যাংক তাৎক্ষণিকভাবে মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি।

এফটিসির এই মামলার পেছনের কারণ কী?

এক সময়ের শীর্ষস্থান দখলকারী ইনটেলকে সরিয়ে বাজারে সবচেয়ে দামি চিপ নির্মাতার অবস্থান নিয়েছে এনভিডিয়া। প্রতিষ্ঠানটি পরিচিত গ্রাফিক্স প্রসেসরের নির্মাতা হিসেবে। সাম্প্রতিক বছরে নিজেদের মূল কম্পিউটার চিপ ব্যবসার পাশাপাশি ডেটা সেন্টার, অটোমোবাইল, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবসায় হাত দিয়েছে এনভিডিয়া।

অপরদিকে, এআরএম প্রসেসর তৈরি করে না বরং প্রসেসরের কাঠামো নকশা করে। সেই নকশা ব্যবহার করে এনভিডিয়া, স্যামসাং, অ্যাপলের মতো প্রতিষ্ঠান তৈরি করে তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী প্রসেসর। অ্যাপলের নতুন এম১ চিপ এআরএম নকশার ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা। সকল আইফোন, আইপ্যাড এবং অ্যাপল ওয়াচ চলে এআরএম কাঠামোয় তৈরি করা প্রসেসরের সাহায্যে।

এর মানে হচ্ছে, এখন পর্যন্ত এআরএম এমন একটি প্রতিষ্ঠান যার তৈরি করা নকশা ব্যবহার করছে এনভিডিয়াসহ বিভিন্ন শীর্ষ প্রসেসর নির্মাতা ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান। এখন এর মালিকানা হাতে পেলে এই প্রযুক্তির ওপর একচ্ছত্র ক্ষমতা হাতে পাবে এনভিডিয়া। এর ফলে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর পড়তে পারে এর বিরূপ প্রভাব।

ট্রাম্প প্রশাসন চীনা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে এআরএম তাদের প্রযুক্তি হুয়াওয়ের কাছ থেকে প্রত্যাহার করে নিয়েছিল। সে সময়ের শীর্ষ মোবাইল ফোন নির্মাতা হুয়াওয়ে এখন ছিটকে গেছে তিন নম্বরে।

যে কোনো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের একচেটিয়া ক্ষমতাভোগের বিরোধী সংস্থা এফটিসি এ কারণেই বিষয়টি নিয়ে গেছে আদালতে।

সংশ্লিষ্ট খবর:

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক