Published : 05 Dec 2025, 08:15 PM
অর্থের বিনিময়ে ব্লু টিক বা ব্যাজ দেওয়ার ‘অপরাধে’ ইলন মাস্কের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স’কে ১২ কোটি ইউরো জরিমানা করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)।
কমিশন বলেছে, এক্স প্ল্যাটফর্মে কোনো ব্যবহারকারী চাইলে অর্থের বিনিময়ে তাদের প্রোফাইলে ব্লু টিক চিহ্ন বা ব্যাজ পেতে পারেন। যার ফলে ওই ব্লু টিকধারী অ্যাকাউন্ট নিয়ে ব্যবহারকারীদের মধ্যে ‘ভ্রান্ত ধারণা’ তৈরি হয়। কারণ প্লাটফর্মটি আসলে ‘ঠিকভাবে যাচাই’ করছে না, ওই অ্যাকাউন্টের পেছনে কে বা কারা আছেন।
“এই ভ্রান্তির কারণে প্রতারণা ও জালিয়াতির মুখে পড়তে পারেন ব্যবহারকারীরা, যেমন কারও পরিচয় নকল করা ও খারাপ ব্যক্তিদের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিকর বা মিথ্যা প্রভাবের শিকার হতে পারেন তারা।”
কমিশনের করা এ জরিমানা নিয়ে বিবিসির মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি এক্স।
ইইউ’র নিয়ন্ত্রকরা বলেছেন, প্ল্যাটফর্মটি বিজ্ঞাপনের ব্যাপারে স্বচ্ছতা দেখাচ্ছে না এবং গবেষকদের জন্য পাবলিক ডেটায় প্রবেশাধিকারও দিচ্ছে না।
“আজ যে জরিমানা আরোপ হয়েছে তা এক্স-এর নিয়ম ভঙ্গের ধরন, এতে কতজন ইইউ ব্যবহারকারীর ওপর প্রভাব পড়েছে এবং এই ভ্রান্তি কতদিন ধরে চলেছে সেইসব বিষয় বিবেচনায় নির্ধারিত হয়েছে।”
কমিশনের প্রযুক্তি বিষয়ক নির্বাহী ভাইস-প্রেসিডেন্ট হেনা ভির্কুনেন বলেছেন, “ইইউ ব্যবহারকারীদের ব্লু টিক দিয়ে ভুল ধারণায় ফেলা, বিজ্ঞাপনের তথ্য লুকানো ও অনলাইন পরিবেশে গবেষকদের বাইরে রাখা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”
এ সিদ্ধান্তের মানে এক্স-এর এখন কমিশনকে জানাতে হবে কীভাবে তারা ইইউর নিয়ম বা আইন মেনে চলবে এবং কোম্পানিটির এই ভুল বা অবৈধ রেওয়াজ ঠিক করবে। অন্যথায় প্লাটফর্মটিকে ধারাবাহিক আরও জরিমানার মুখে পড়তে হবে।
ইইউর দেশগুলোতে পরিষেবা দিতে চাইলে বিভিন্ন অনলাইন কোম্পানিকে বড় দুটি আইন অবশ্যই মানতে হয়। এর মধ্যে একটি হচ্ছে ‘ডিজিটাল সার্ভিসেস অ্যাক্ট’ বা ডিএসএ। এ আইনে, অনলাইন বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মকে ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা, স্বচ্ছতা ও অন্যান্য নিয়ম মেনে চলতে হয়।
এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ডিএসএ আইন না মানার কারণে প্রথমবারের মতো কোনো প্ল্যাটফর্মকে জরিমানা করল ইউরোপীয় কমিশন। প্রতিবেদনে বিবিসি লিখেছে, ভবিষ্যতে অন্যান্য বিভিন্ন অনলাইন কোম্পানির জন্য এটি উদাহরণ হয়ে থাকবে।
বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মকে কনটেন্ট, ব্যবহারকারীর ডেটা ও বিজ্ঞাপন সংক্রান্ত কী কী নিয়ম মেনে চলতে হবে তা ডিএসএ আইনে বলা আছে। অন্যদিকে ‘ডিজিটাল মার্কেটস অ্যাক্ট’ বা ডিএমএ আইনে বলা হয়েছে, বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে কীভাবে কাজ করতে হবে, যাতে ভোক্তারা সুবিধা পায় ও বাজারে সুষ্ঠু প্রতিযোগিতা বজায় থাকে।
ইইউর এ ধরনের নিয়মকে এখন বেশি নজরে আনছেন যুক্তরাষ্ট্রের নেতারা।
তারা সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাজ্য সরকার ও বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক সংস্থা যদি মার্কিন বিভিন্ন প্রযুক্তি কোম্পানির ওপর খুব কঠোর নিয়ম চাপায় তবে তা সমস্যা তৈরি করতে পারে।
বৃহস্পতিবার ইইউর সম্ভাব্য জরিমানার খবর শুনে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।
তিনি অভিযোগ করে বলেছেন, এক্সকে আসলে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে, কারণ, তারা ‘সেন্সরশিপে অংশ নিচ্ছে না বা মানুষের কথা বা মতামত দমন করতে রাজি নয়’।