০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩

ইন্টারনেটের এমবিপিএস ও এমবি/এস গতির পার্থক্য কীভাবে বুঝবেন?

বাড়ির ইন্টারনেটের গতি বা স্পিড কেমন তা সঠিকভাবে যাচাইয়ের জন্য প্রতি সেকেন্ডে মেগাবিটের হার জানা জরুরি।

ইন্টারনেটের এমবিপিএস ও এমবি/এস গতির পার্থক্য কীভাবে বুঝবেন?

পরিমাপের এই দুটি এককই ডেটা স্থানান্তরের হার বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। ছবি: ম্যাগনিফিক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 02 Nov 2026, 12:15 PM

Updated : 02 Nov 2026, 12:15 PM

ইন্টারনেট সেবাদাতা কোম্পানির বেছে নেওয়ার প্রক্রিয়ায় নানা রকম কারিগরি পরিভাষার মারপ্যাঁচে পড়া খুবই স্বাভাবিক ঘটনা।

ইন্টারনেটের গতি বা স্পিড নাকি ব্যান্ডউইথ কোনটিকে প্রাধান্য দেবেন বা বাসা বা অফিসের জন্য ওয়াই-ফাই ৭ রাউটার সত্যিই প্রয়োজন কি না এসব বিষয় নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়।

এক্ষেত্রে কোন বিষয়টি প্রয়োজন তা জানা না থাকলে সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

সবচেয়ে বেশি ও গুরুত্ববহ ভুলটি ঘটে মেগাবিটস প্রতি সেকেন্ড (এমবিপিএস) ও মেগাবাইটস প্রতি সেকেন্ডের (এমবি/এস) পার্থক্য বুঝতে না পারার কারণে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি সংবাদের সাইট এনগ্যাজেট।

পরিমাপের এই দুটি এককই ডেটা স্থানান্তরের হার বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। তবে দুটির পার্থক্য না বুঝে সিদ্ধান্ত নিলে বড় ধরনের বিভ্রান্তিতে পড়তে হতে পারে। এ ব্যবধান স্পষ্টভাবে বুঝতে ‘বিট’ ও ‘বাইট’-এর পার্থক্য জানা জরুরি।

কম্পিউটিং ব্যবস্থায় তথ্যের সবচেয়ে মৌলিক একক বিট, যা বাইনারি সংকেতের ‘১’ ও ‘০’ প্রকাশ করে। সাধারণ ভাষায় ইন্টারনেট স্ট্রিমিং বা ডাউনলোডের ক্ষেত্রে ডেটা স্থানান্তরের গতি মাপতে প্রতি সেকেন্ডে কত বিট পরিবাহিত হচ্ছে তা হিসাব করা হয়।

অন্যদিকে, আটটি বিট মিলে তৈরি হয় একটি ‘বাইট’। কোনো একটি বর্ণ, চিহ্ন বা সংখ্যা প্রকাশের জন্য এক বাইট পরিমাণ ডেটার প্রয়োজন হয়। বিভিন্ন ডিজিটাল ফাইলের আকার বা ডিজিটাল স্টোরেজ বা তথ্য ধারণসক্ষমতা প্রকাশের ক্ষেত্রে বাইট পরিমাপটি ব্যবহৃত হয়।

যেমন, একটি চলচ্চিত্রের ফাইলের আকার কত বড় তা বাইট এককে প্রকাশ করা হয়। যখন ‘বাইট প্রতি সেকেন্ড’ পরিমাপটি আসে তখন ওই আকারের ফাইলটি কত দ্রুত স্থানান্তরিত হতে পারছে তা নির্দেশ করে।

বর্তমান আধুনিক কম্পিউটিং ব্যবস্থার তুলনায় একক বিট বা বাইট অতি ক্ষুদ্র পরিমাপ। ফলি এগুলোর সঙ্গে ‘মেগা’ শব্দটি যোগ করে গতির স্কেল বাড়ানো হয়, যার মানে প্রতি ক্ষেত্রে ১০ লাখ একক।

‘এমবিপিএস’ ও ‘এমবি/এস’ সংকেত দুটি দিয়ে যথাক্রমে প্রতি সেকেন্ডে ১০ লাখ বিট এবং ১০ লাখ বাইট কত দ্রুত পরিবাহিত হচ্ছে সেই হিসাবটিই প্রকাশ পায়।

প্রতিটি পরিভাষা কী কাজে ব্যবহৃত হয়?

বাড়ির ইন্টারনেটের গতি বা স্পিড কেমন তা সঠিকভাবে যাচাইয়ের জন্য প্রতি সেকেন্ডে মেগাবিটের হার জানা জরুরি। ডাউনলোড স্পিড বা তথ্য নামানোর গতি আপলোড স্পিডের চেয়ে বেশি হয়।

মার্কিন ‘ফেডারেল কমিউনিকেশনস কমিশন’ বা এফসিসি’র তথ্য অনুসারে, ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের ন্যূনতম মানদণ্ড হিসেবে ১০০ এমবিপিএস গতিকে ধরা হয়েছে, যেখানে তথ্য আপলোডের প্রয়োজনীয় হার কেবল ২০ এমবিপিএস।

ইন্টারনেট স্পিড টেস্ট বিষয়ক কোম্পানি ‘ওকলা’র ২০২৬ সালের অগাস্টের এক প্রতিবেদন অনুসারে, মার্কিন পরিবারগুলোর বেলায় ডাউনলোড ও আপলোড গতি ছিল যথাক্রমে ৩০৭ এমবিপিএস ও ৬৩ এমবিপিএস।

গেল এক দশকে এ গড় গতি বিস্ময়কর হারে বেড়েছে। যেমন, ২০১৫ সালে উচ্চগতির ইন্টারনেটের জন্য এফসিসি’র নির্ধারিত মানদণ্ড বর্তমানের চার ভাগের এক ভাগেরও কম ছিল।

ব্যবহারকারীর ইন্টারনেট সংযোগের গতি সন্তোষজনক না হয় তবে কয়েকটি সাধারণ পদক্ষেপের মাধ্যমে এমবিপিএস বাড়িয়ে নিতে পারেন।

অন্যদিকে, ‘মেগাবাইটস পার সেকেন্ড’ সাধারণত বড় অক্ষরের ‘বি’ দিয়ে লেখা হয়, যা কোনো স্টোরেজ ডিভাইস বা সংরক্ষণ মাধ্যমে বড় ডেটা স্থানান্তরের গতি বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।

যেমন, ক্লাউডে কোনো ফাইল কত দ্রুত আপলোড হচ্ছে বা হার্ড ডিস্ক থেকে সেটি কতটা দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে তা বোঝাতে এ এককটি ব্যবহৃত হয়।

মেগাবাইটস প্রতি সেকেন্ড পরিমাপ ব্যবহার করে ব্যবহারকারী খুব সহজেই হিসাব করতে পারবেন, একটি ভিডিও ফাইল ডাউনলোড করতে বা কোনো নথিপত্র স্থানান্তর করতে ঠিক কত সময় লাগবে।

ক্ষেত্রবিশেষে এ দুটি পরিমাপকে অনেকেই গুলিয়ে ফেলেন। তবে এ দুই মেট্রিকের তুলনা বা রূপান্তর করা বেশ সহজ। এমবিপিএস মানকে কেবল আট দিয়ে ভাগ করলেই ফল পেয়ে যাবেন।

যেমন, কারো ইন্টারনেট সংযোগ যদি ১০০ এমবিপিএস গতিতে ফাইল আপলোড করতে পারে বলে দাবি করে তবে তা ১২.৫ এমবি/এসের সমান। এর বিপরীতে, এমবিপিএস মান পেতে হলে এমবিপিএস মানকে ৮ দিয়ে গুণ করতে হবে।