Published : 30 Dec 2025, 03:59 PM
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহারের ওপর কঠোর নিয়ম আনছে চীন। বিভিন্ন চ্যাটবট যেন মানুষের আবেগ নিয়ে খেলা বা প্রভাব বিস্তার করে কারো ক্ষতি করতে না পারে সেই লক্ষ্যেই কঠোর নিয়ম চালু করছে দেশটি।
শনিবার প্রকাশিত চীনের খসড়া নিয়ম অনুসারে, এআইচালিত বিভিন্ন চ্যাটবট মানুষের আবেগ নিয়ন্ত্রণ করে তাদের আত্মহত্যা বা নিজের ক্ষতি করতে প্ররোচিত করতে না পারে সেজন্য এসব বটকে সীমিত করার পরিকল্পনা করছে চীন।
নথি অনুসারে, চীনের সাইবারস্পেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের প্রস্তাবিত এসব নীতিমালা মূলত সেইসব পরিষেবাকে লক্ষ্য করে তৈরি হয়েছে, যেগুলোকে ‘মানুষের মতো আলাপ করতে পারে এমন এআই পরিষেবা’ হিসেবে বর্ণনা করেছে সংস্থাটি।
এসব নীতিমালা চূড়ান্ত হয়ে গেলে চীনের সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত সেসব এআই পণ্য বা সেবার ওপর কার্যকর হবে, যেগুলো মানুষের ব্যক্তিত্ব অনুকরণ করে ও টেক্সট, ছবি, অডিও বা ভিডিওর মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের সঙ্গে আবেগীয় সম্পর্ক তৈরি করে।
এ প্রস্তাবিত খসড়ার ওপর জনমত জানানোর সময়সীমা আগামী ২৫ জানুয়ারি শেষ হবে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে আমেরিকান সংবাদমাধ্যম সিএনবিসি।
‘নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটি স্কুল অফ ল’-এর খণ্ডকালীন অধ্যাপক উইনস্টন মা বলেছেন, বেইজিংয়ের এই পরিকল্পিত নীতিমালা হবে মানুষের বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন বা মানুষের মতো আচরণ করা এআই নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে কোনো দেশের নেওয়া প্রথম পদক্ষেপ।
বিভিন্ন চীনা কোম্পানি যখন দ্রুত ‘এআই সঙ্গী’ ও ‘ডিজিটাল তারকা’ তৈরি করে চলেছে ঠিক তখনই এসব নতুন প্রস্তাবনা সামনে আনল চীন।
২০২৩ সালে চীনের জেনারেটিভ এআই সংক্রান্ত নীতিমালার সঙ্গে তুলনা করে উইনস্টন মা বলেছেন, চীনের নতুন এসব প্রস্তাবনা ‘তথ্যের নিরাপত্তা থেকে মানসিক বা আবেগনির্ভর বিষয়ে নিরাপত্তার দিকে একটি বড় পদক্ষেপ’।
খসড়া নিয়মে প্রস্তাব করা হয়েছে–
● বিভিন্ন এআই চ্যাটবট এমন কোনো তথ্য বা কনটেন্ট তৈরি করতে পারবে না, যা আত্মহত্যা বা নিজের ক্ষতি করতে উৎসাহিত করে। এ ছাড়া, কোনো ধরনের মৌখিক সহিংসতা বা আবেগনির্ভর কারসাজিও করতে পারবে না, যা ব্যবহারকারীর মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে।
● কোনো ব্যবহারকারী যদি সরাসরি আত্মহত্যার প্রস্তাব বা ইচ্ছা প্রকাশ করেন তবে প্রযুক্তি সরবরাহকারী বিভিন্ন কোম্পানিকে অবশ্যই সেই আলাপের দায়িত্ব একজন মানুষ বা হিউম্যান এজেন্ট-এর হাতে তুলে দিতে হবে এবং অবিলম্বে ব্যবহারকারীর অভিভাবক বা নির্ধারিত কোনো ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।
● এসব এআই চ্যাটবট জুয়া সংক্রান্ত, অশ্লীল বা সহিংস কোনো তথ্য বা কনটেন্ট তৈরি করতে পারবে না।
● অপ্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে আবেগনির্ভর সাহচর্য বা বন্ধুত্বের জন্য এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে অবশ্যই অভিভাবকের সম্মতি থাকতে হবে এবং এ ব্যবহারের ওপর নির্দিষ্ট সময়সীমা বা টাইম লিমিট আরোপ করতে হবে।
● ব্যবহারকারী যদি তার বয়স প্রকাশ না-ও করেন তবুও বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মকে শনাক্ত করতে হবে যে সেই ব্যবহারকারী একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক কি না। কোনো ক্ষেত্রে সন্দেহ তৈরি হলে, ডিফল্টভাবে অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য নির্ধারিত বিভিন্ন সেটিং কার্যকর করতে হবে। তবে এক্ষেত্রে ব্যবহারকারীর জন্য আপিলের সুযোগ থাকতে হবে।
খসড়ার অতিরিক্ত কিছু ধারায় বলা হয়েছে, টানা দুই ঘণ্টা এআইয়ের সঙ্গে কথা বলার পর বিভিন্ন প্রযুক্তি কোম্পানিকে অবশ্যই ব্যবহারকারীকে সতর্কবার্তা বা রিমাইন্ডার দিতে হবে।
এ ছাড়া, যেসব এআই চ্যাটবটের ১০ লাখের বেশি নিবন্ধিত ব্যবহারকারী রয়েছে বা প্রতি মাসে ১ লাখের বেশি সক্রিয় ব্যবহারকারী রয়েছে তাদের জন্য নিরাপত্তা মূল্যায়ন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
তবে নথিতে ‘সংস্কৃতি প্রচার ও বয়স্কদের সাহচর্য বা সঙ্গ দেওয়ার’ ক্ষেত্রে মানুষের মতো আচরণকারী এআইয়ের ব্যবহারকে উৎসাহিত করেছে চীন।