Published : 29 Dec 2025, 11:48 AM
প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র আবারও চাঁদে যাবে বলে জানিয়েছেন নাসার নবনিযুক্ত প্রশাসক জ্যারেড আইজ্যাকম্যান।
শুক্রবার আমেরিকান সংবাদমাধ্যম সিএনবিসির ‘ক্লোজিং বেল ওভারটাইম’ অনুষ্ঠানে মার্কিন ধনকুবের ও মহাকাশ কোম্পানি স্পেসএক্স-এর সিইও ইলন মাস্কের ঘনিষ্ঠ সহযোগী আইজ্যাকম্যান বলেছেন, আবারও চাঁদে যাওয়ায় ট্রাম্পের এই সংকল্প ‘অরবিটাল ইকোনমি’ বা কক্ষপথভিত্তিক অর্থনীতি উন্মোচনের চাবিকাঠি।
“আমরা চাঁদের বৈজ্ঞানিক, অর্থনৈতিক ও জাতীয় নিরাপত্তার বিভিন্ন সম্ভাবনা খুঁজে দেখতে ও সেগুলো কাজে লাগাতে চাই।”
নাসার দায়িত্ব পাওয়ার পর এটিই মিডিয়ার সামনে আইজ্যাকম্যানের প্রথম বড় কোনো বক্তব্য। দীর্ঘ আলোচনার পর গত সপ্তাহে নাসার প্রধান হিসেবে আইজ্যাকম্যানের নাম চূড়ান্ত করে মার্কিন সেনেট, যার মাধ্যমে ২০২৫ সাল জুড়ে চলা এক দীর্ঘ নাটকীয় প্রক্রিয়ার অবসান ঘটে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে সিএনবিসি।
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে আইজ্যাকম্যানকে নাসা প্রধানের পদের জন্য মনোনীত করেছিলেন ট্রাম্প। তবে চলতি বছেরের মে মাসে হঠাৎ করেই নিজের এ সিদ্ধান্ত বাতিল করে নেন প্রেসিডেন্ট। কারণ হিসেবে তিনি আইজ্যাকম্যানের ‘অতীতের কিছু সংশ্লিষ্টতার’ কথা উল্লেখ করেছেন।
ট্রাম্প সুনির্দিষ্টভাবে কোনো কারণ না জানালেও অনেকের ধারণা ছিল মাস্কের সঙ্গে আইজ্যাকম্যানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের যোগসূত্র এর কারণ হতে পারে। ওই সময় মাস্কের সঙ্গে ট্রাম্পের বিরোধ চরমে পৌঁছেছিল।
এ বছরের নভেম্বরে পুনরায় আইজ্যাকম্যানকে নাসা প্রধান হিসেবে মনোনীত করেন ট্রাম্প। একজন উদ্যোক্তা ও বেসামরিক নভোচারী আইজ্যাকম্যান ২০২১ সালে স্পেসএক্স-এর ‘ক্রু ড্রাগন’ মহাকাশযানে করে কক্ষপথ অভিযানের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।
আইজ্যাকম্যান বলেছেন, চাঁদ অভিযানের মধ্যে রয়েছে পৃথিবীর একমাত্র প্রাকৃতিক উপগ্রহটিতে স্পেস ডেটা সেন্টার বা মহাকাশভিত্তিক তথ্য কেন্দ্র ও অবকাঠামো তৈরি করা। সেইসঙ্গে চাঁদের উপরিভাগে মিশে থাকা বিরল গ্যাস ‘হিলিয়াম-৩’ সংগ্রহ, যা ফিউশন পাওয়ার বা পারমাণবিক ফিউশন শক্তির প্রধান জ্বালানি হয়ে উঠতে পারে।
তিনি আরও বলেছেন, ‘চাঁদে ঘাঁটি’ তৈরির পর পারমাণবিক শক্তি ও মহাকাশ পারমাণবিক প্রপালশন ব্যবস্থায় বিনিয়োগের দিকে নজর দেবে নাসা, যাতে মহাকাশ গবেষণাকে আরও অনেক দূর এগিয়ে নেওয়া যায়।
সংস্থাটির ‘আর্টেমিস’ মিশনে কাজের জন্য বর্তমানে স্পেসএক্স, জেফ বেজোসের ব্লু অরিজিন ও বোয়িং-এর মতো বিভিন্ন বেসরকারি মহাকাশ কোম্পানির সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে নাসা। ভবিষ্যতে মঙ্গল গ্রহে অভিযানের জন্য প্রস্তুতি নেওয়াও এ মিশনের লক্ষ্য।
এ বছরের শুরুর দিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ‘ওয়ান বিগ বিউটিফুল বিল’-এ নাসার জন্য ৯৯০ কোটি ডলার বরাদ্দ হয়েছে। ফলে এ চাঁদ মিশন আরও গতি পেয়েছে।
আইজ্যাকম্যান বলেছেন, ‘আর্টেমিস ২’ মিশনটি খুব দ্রুত উৎক্ষেপিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। মিশনটি হবে নাসার ‘স্পেস লঞ্চ সিস্টেম’ রকেট ও ‘ওরিয়ন’ মহাকাশযানের মাধ্যমে পরিচালিত প্রথম মানববাহী পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন।
এ মিশনের পর হবে ‘আর্টেমিস ৩’ মিশন। এ মিশনের জন্য চাঁদে নামার বিশেষ অবতরণ ব্যবস্থা বা ‘লুনার ল্যান্ডিং সিস্টেম’ তৈরির চুক্তি দেওয়া হয়েছে স্পেসএক্সকে।
বর্তমানে নিজেদের বিশাল সক্ষমতার রকেট বা ‘হেভি লিফট লঞ্চ ভেহিকল’কে আরও উন্নত করছে স্পেসএক্স ও ব্লু অরিজিন। এসব রকেটে কক্ষপথে অবস্থানকালে ‘ক্রায়োজেনিক প্রপেলান্ট ট্রান্সফার’ বা এক মহাকাশযান থেকে অন্যটিতে অতিশীতল জ্বালানি স্থানান্তর প্রযুক্তি ব্যবহৃত হচ্ছে, যাতে এগুলোকে খুব সহজেই বারবার ব্যবহার করা যায়।
আইজ্যাকম্যান বলেছেন, “এর মাধ্যমেই আমরা সাশ্রয়ীভাবে ও বারবার চাঁদে যাতায়াত করতে পারব, যা মঙ্গল ও তারও দূরের বিভিন্ন মিশনের ভিত্তি তৈরি করে দেবে।