Published : 19 Oct 2025, 07:48 PM
ইসরায়েলের স্পাইওয়্যার কোম্পানি এনএসও’কে হোয়াটসঅ্যাপের ওপর যে কোনো ধরনের নজরদারি বা আক্রমণ চালানো বন্ধ করতে বলেছে মার্কিন আদালত। একইসঙ্গে আদালত মেটাকে দেওয়া ক্ষতিপূরণের পরিমাণও কিছুটা কমিয়ে দিয়েছে।
এর আগে, ২০১৯ সালে এনএসও গ্রুপের বিরুদ্ধে মামলা করেছিল মার্কিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম জায়ান্টটি। এনএসও গ্রুপ-এর সঙ্গে বছরের পর বছর ধরে চলা আইনি লড়াইয়ের পর শুক্রবার এই রায় দিল বিচারকদের জুরি। এ রায়ের মাধ্যমে মেটা বড় আইনি জয় পেল বলে প্রতিবেদনে লিখেছে রয়টার্স।
মামলায় মেটা বলেছিল, পেগাসাস নামের নজরদারি সফটওয়্যার ব্যবহার করে ২০টি দেশের এক হাজার চারশও বেশি ব্যক্তিকে হোয়াটসঅ্যাপে টার্গেট করেছিল এনএসও। যাদের মধ্যে রয়েছেন সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীরা। ‘অত্যাধুনিক এ সাইবার আক্রমণে’ হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীরা কল না ধরলেও ভিডিও কলের মাধ্যমে ভাইরাস ছড়িয়েছিল কোম্পানিটি।
এনএসও ‘পেগাসাস’ নামের এমন এক ধরনের স্পাইওয়্যার বা গোপন নজরদারি সফটওয়্যার তৈরি করে, যা কারও ফোনে ঢুকে তথ্য চুরি করতে বা নজরদারি চালাতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের আদালতের এই সিদ্ধান্তে এনএসও গ্রুপ বলেছে, এতে তাদের ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। কারণ তাদের মূল কাজটাই এমন সফটওয়্যার তৈরি ও বিক্রি করা।
শুক্রবার দেওয়া ২৫ পৃষ্ঠার এক রায়ে এক অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন মার্কিন ডিস্ট্রিক্ট আদালতের বিচারক ফিলিস হ্যামিলটন। এ নিষেধাজ্ঞায় বলা হয়েছে, ইসরায়েলি কোম্পানি এনএসও গ্রুপ যেন আর হোয়াটসঅ্যাপে ঢোকার বা সেটি হ্যাকিংয়ের কোনো চেষ্টা না করে।
হোয়াটসঅ্যাপ বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর একটি। ফলে এই সিদ্ধান্ত খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে প্রতিবেদনে লিখেছে রয়টার্স।
এনএসও গ্রুপকে ক্ষতিপূরণের ক্ষেত্রে কিছুটা ছাড় দিয়েছেন বিচারক হ্যামিলটন। এর আগে, এ মামলার বিচারে জুরি মেটাকে প্রায় ১৬ কোটি ৭০ লাখ ডলার জরিমানা দেওয়ার আদেশ দিয়েছিল এনএসও’কে। তবে এখন সেই জরিমানা কমিয়ে মাত্র ৪০ লাখ ডলার করেছেন বিচারক।
রয়টার্স লিখেছে, মার্কিন আদালতের এ নিষেধাজ্ঞা এনএসও গ্রুপের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে। কারণ, অনেক বছর ধরেই তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তাদের প্রধান হ্যাকিং সফটওয়্যার ‘পেগাসাস’ ব্যবহার করে বিভিন্ন সরকার ও সংস্থা মানবাধিকার লঙ্ঘনে সহায়তা করেছে।
২০২১ সালের নভেম্বরে এনএসও গ্রুপকে কালো তালিকাভূক্ত করেছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। পেগাসাস হ্যাকিং টুল ব্যবহার করে সংবাদকর্মী ও অধিকারকর্মীদের ওপর বেআইনি নজরদারি চালানোর অভিযোগ রয়েছে এনএসও গ্রুপের বিরুদ্ধে। ইসরায়েলি প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে মুখ খুলেছে মাইক্রোসফট, মেটা প্ল্যাটফর্মস এবং অ্যালফাবেট ইনকর্পোরেটেডের মতো একাধিক শীর্ষ প্রযুক্তি কোম্পানি।
এসব কোম্পানির পণ্যের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পাশ কাটানোর উপায় খুঁজে বের করে তা ডিভাইস হ্যাকিংয়ের টুল হিসেবে বিভিন্ন দেশের সরকারের কাছে বিক্রিরও অভিযোগ রয়েছে এনএসও গ্রুপের বিরুদ্ধে।
পেগাসাস সফটওয়্যার সাধারণত ব্যবহৃত বিভিন্ন সফটওয়্যারের দুর্বল দিক বা নিরাপত্তা ঘাটতি কাজে লাগিয়ে গোপনে নজরদারি চালায়। এ কারণেই হোয়াটসঅ্যাপ এসএসও-এর প্রধান লক্ষ্যগুলোর মধ্যে একটি ছিল।
এনএসও গ্রুপ আগেই যুক্তি দিয়েছিল, আদালত তাদের হোয়াটসঅ্যাপে ‘প্রবেশ বা নজরদারি চালানো বন্ধ করার’ নির্দেশ দেয়, তবে তাদের ‘পুরো ব্যবসা ঝুঁকির মুখে পড়বে ও কোম্পানিটিও বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
মার্কিন আদালতের এ সিদ্ধান্তকে বড় জয় হিসেবে দেখছেন মেটা কোম্পানির কর্মকর্তারা।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে হোয়াটসঅ্যাপের প্রধান উইল ক্যাথকার্ট বলেছেন, “আজকের এ রায়, স্পাইওয়্যার নির্মাতা এনএসওকে আর কখনো হোয়াটসঅ্যাপ ও আমাদের গোটা বিশ্বের ব্যবহারকারীদের লক্ষ্য করার অনুমতি দেবে না। আমরা এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানাই, যা ছয় বছর ধরে চলা আইনি লড়াইয়ের পর এল।”
আরও পড়ুন…