টেসলার কুখ্যাত টুইটের পর দেওয়া সাক্ষাৎকারে ‘নেশাগ্রস্ত ছিলেন’ মাস্ক?

এর আগে অবশ্য মাস্ক বলেছেন, তিনি অবৈধ নেশাজাতীয় দ্রব্য পছন্দ করেন না। তবে, গাঁজা বা মানসিক অবসাদ কাটাতে ক্যাটামিনের ছোট ছোট ডোজ সেবনের জন্য বিশেষ পরিচিতি আছে মার্কিন এ ধনকুবেরের।

প্রযুক্তি ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 7 Jan 2024, 11:39 AM
Updated : 7 Jan 2024, 11:39 AM

ইভি নির্মাতা টেসলা’র প্রধান ইলন মাস্ক ২০১৮ সালে টুইট করে বলেছিলেন, কোম্পানিকে ব্যক্তিমালিকানাধীন করার বিষয়টি বিবেচনায় রেখেছেন তিনি। তবে, কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের শঙ্কা, সে টুইট করার সময় মাস্ক সম্ভবত ‘নেশাগ্রস্থ’ ছিলেন।

সে সময় টেসলার চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন মাস্ক। তবে, একই বছরের অগাস্টে মাস্ক হঠাৎ করেই ঘোষণা দেন, ‘টেসলাকে ৪২০ ডলারে (গাঁজা সেবনকারীদের কাছে সুপরিচিত এক সংখ্যা) ব্যক্তিমালিকানাধীন করে নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রেখেছেন তিনি। মাস্কের এমন ঘোষণা তখন কোম্পানির শেয়ারমালিকদের চমকে দিয়েছিল।

ওই টুইটে তিনি আরও যোগ করেন, “ফান্ডিং সিকিওর্ড।”

মার্কিন দৈনিক ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুসারে, মাস্কের এমন বার্তা কোম্পানির পর্ষদকেও বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে ফেলেছিল। তবে, এর আগের বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, টুইটটি পোস্ট করার সপ্তাহখানেক আগেই পর্ষদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছিলেন টেসলা সিইও মাস্ক।

জার্নালের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, সে সময় টেসলার কয়েকজন পর্ষদ সদস্য নিজেদের মধ্যে শঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন, মাস্ক সম্ভবত টুইট করার সময় নেশাগ্রস্থ ছিলেন। এমনকি তাকে কয়েকদিনের ছুটি দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় রেখেছিলেন তারা।

ওই টুইটের পর মার্কিন সংবাদপত্র নিউ ইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মাস্ক বলেছিলেন, এর আগের বছর টেসলা খুবই ‘যন্ত্রনাদায়ক’ বছর কাটিয়েছে। এমনকি একে ‘নিজের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে কষ্টদায়ক বছর’ বলেও আখ্যা দেন তিনি।

এ ছাড়া, মাস্কের নেশাগ্রস্থ অবস্থায় মধ্যরাতে টুইট করার প্রবণতা নিয়ে টেসলার পরিচালনা পর্ষদের শঙ্কার বিষয়টিও উঠে এসেছিল ওই সাক্ষাৎকারে।

তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র জার্নালকে বলেছে, মাস্ক সম্ভবত টাইমসে সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময়ও ‘নেশাগ্রস্থ’ ছিলেন। তারা আরও যোগ করে, মাস্ক যে একজন সংবাদ উপস্থাপককে সাক্ষাৎকার দেবেন, সে বিষয়ে ওয়াকিবহাল ছিল না টেসলার যোগাযোগ বিষয়ক দল।

এর আগে অবশ্য মাস্ক বলেছেন, তিনি অবৈধ নেশাজাতীয় দ্রব্য পছন্দ করেন না। তবে, গাঁজা বা মানসিক অবসাদ কাটাতে ক্যাটামিনের ছোট ছোট ডোজ সেবনের জন্য বিশেষ পরিচিতি আছে মার্কিন এ ধনকুবেরের।

জার্নালের প্রতিবেদন অনুসারে, এর আগে লস অ্যাঞ্জেলসে আয়োজিত এক পার্টিতে একাধিকবার ‘এসিড নেওয়ার’ পাশাপাশি ২০১৯ সালে মেক্সিকোতে ‘সাইকেডেলিক মাশরুম’ সেবন করতে দেখা গেছে মাস্ককে।

গত বছর জার্নালের আরেক প্রতিবেদনে উঠে আসে, সিলিকন ভ্যালির শীর্ষ ব্যক্তিদের মধ্যে ‘ড্রাগ সেবন’ একটি প্রচলিত ঘটনা। তবে, মাস্কের মতো কেউ, যার রকেট কোম্পানি স্পেসএক্স সরকারিভাবে শত শত কোটি ডলারের প্রকল্প কাজ করছে, তার এমন অবৈধ মাদক সেবনের বিষয়টি সত্যিই শঙ্কার বিষয়।

মার্কিন নিয়ন্ত্রক সংস্থা ‘সাবস্টেন্স অ্যাবিউজ অ্যান্ড মেন্টাল হেলথ সার্ভিসেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন’ বলেছে, সরকারি চুক্তি পাওয়ার ক্ষেত্রে বিভিন্ন কোম্পানিকে ‘ড্রাগ-ফ্রি ওয়ার্কপ্লেস’ নামের আইন মেনে চলার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

২০১৮ সালে ওই টুইট করার পর রোষানলে পড়েছেন মাস্ক নিজেও।

এমন বক্তব্যের পরপরই মাস্কের বিরুদ্ধে মামলা করে মার্কিন নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিস অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি), যা শেষ পর্যন্ত গড়িয়েছে চার কোটি ডলার জরিমানা গোনা পর্যন্ত। এ ছাড়া, টেসলার চেয়ারম্যান পদ থেকে অব্যাহতি নেওয়ার পাশাপাশি কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদে দুইজন স্বাধীন পরিচালক নিয়োগ দিতেও বাধ্য হন মাস্ক।

এ প্রসঙ্গে বিজনেস ইনসাইডার মাস্কের অ্যাটর্নি অ্যালেক্স স্পিরো’র মন্তব্য জানতে চাইলেও তাৎক্ষণিক সাড়া মেলেনি।