Published : 24 Feb 2026, 02:05 PM
নেটফ্লিক্সের বোর্ড সদস্য ও ওবামা প্রশাসনের সাবেক কূটনৈতিক উপদেষ্টা সুসান রাইসকে বরখাস্ত করতে স্ট্রিমিং জায়ান্ট কোম্পানিটিকে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।
শনিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশাল’-এ এক পোস্টে ট্রাম্প বলেছেন, নেটফ্লিক্স যদি সুসান রাইসকে তাদের পরিচালনা পর্ষদ থেকে বরখাস্ত না করে তবে কোম্পানিটিকে এর ‘পরিণতি ভোগ করতে হবে’।
প্রযুক্তি সাইট টেকক্রাঞ্চ প্রতিবেদনে লিখেছে, ২০১৮ সাল থেকে নেটফ্লিক্সের বোর্ড সদস্য হিসেবে কাজ করছেন রাইস। প্রীত ভারারার সঞ্চালিত ‘স্টে টিউনড উইথ প্রীত’ নামের পডকাস্টে রাইসের এক মন্তব্যের পর এই প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ট্রাম্প।
জাতিসংঘে ওবামা ও বাইডেন প্রশাসনের দূত ও কূটনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেছেন রাইস। এ পডকাস্টে রাইস বলেছেন, যেসব কোম্পানি ট্রাম্পের কাছে ‘নতি স্বীকার করবে’ ডেমোক্র্যাটরা ক্ষমতায় ফিরে এলে তাদের ‘জবাবদিহি’ করতে হবে।
“এসব কর্পোরেশন যদি মনে করে যে ডেমোক্র্যাটরা ক্ষমতায় ফিরে আসার পর আগের নিয়মেই চলবে এবং তারা বলবেন, ‘ওহ, আপনারা কিছু মনে করবেন না, আপনারা যাদের চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছেন, যেসব নীতি ও আদর্শ লঙ্ঘন করেছেন বা যেসব আইন এড়িয়ে চলেছেন তার সবকিছুর জন্য আপনাদের ক্ষমা করে দিলাম’, তবে আমি মনে করি তারা ভুলের স্বর্গে বাস করছেন।”
এর জবাবে নিজের সামাজিক মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশাল'-এ ট্রাম্প লিখেছেন, “নেটফ্লিক্সের উচিত বর্ণবাদী ও ট্রাম্পবিদ্বেষী রাইসকে অবিলম্বে বরখাস্ত করা, নয়ত এর পরিণতির জন্য প্রস্তুত থাকা। তার কোনো প্রতিভা বা দক্ষতা নেই, সে নিছকই একজন রাজনৈতিক দালাল! তার ক্ষমতা শেষ হয়ে গেছে এবং তা আর কখনোই ফিরে আসবে না। তাকে কত টাকা দেওয়া হচ্ছে এবং কিসের জন্য???”
এ পোস্টে কট্টর ডানপন্থী লরা লুমারের এক পোস্টের স্ক্রিনশটও জুড়ে দিয়েছেন ট্রাম্প, যেখানে রাইসের মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করে লুমার দাবি করেছেন, “নেটফ্লিক্স ও ওয়ার্নার ব্রাদার্স-এর একীভূত হওয়ার ফলে স্ট্রিমিং জগতে একচেটিয়া আধিপত্য তৈরি হবে। এতে ওবামা দম্পতির বড় পার্টনারশিপ থাকবে। কারণ নেটফ্লিক্সের সঙ্গে ওবামাদের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ‘হায়ার গ্রাউন্ড’-এর চুক্তি রয়েছে।”
ট্রাম্প নিজের পোস্টে সুনির্দিষ্ট কোনো ‘পরিণতি’ বা শাস্তির কথা উল্লেখ না করলেও নেটফ্লিক্সের বিশাল ‘ওয়ার্নার ব্রাদার্স’ অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ার জন্য ফেডারেল বা সরকারি নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদনের প্রয়োজন হবে।
এ চুক্তি ঘোষণা আসার আগেই নেটফ্লিক্সের কো সিইও টেড সারানোস ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করেছিলেন। ওই সময় ট্রাম্প বলেছিলেন, নেটফ্লিক্স “চমৎকার একটি কোম্পানি... তবে বাজারে তাদের অনেক বেশি আধিপত্য হয়ে যাচ্ছে। ফলে দেখা যাক কী হয়।”
গেল বছরও একই ধরনের একটি পোস্ট দিয়ে মার্কিন সফটওয়্যার জায়ান্ট মাইক্রোসফটকে তাদের গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স প্রেসিডেন্ট লিসা মোনাকোকে বরখাস্তের দাবি জানিয়েছিলেন ট্রাম্প, যাকে লরা লুমারও নিশানা করেছিলেন।
তবে লিসা মোনাকো এখনও মাইক্রোসফটেই কর্মরত আছেন।