Published : 12 Mar 2026, 11:52 AM
সৌরজগত পেরিয়ে এখন আবার আন্তনাক্ষত্রিক মহাকাশে ফিরে যাচ্ছে ধূমকেতু ৩আই অ্যাটলাস। তবে এটি চলে গেলেও পৃথিবীর কাছে দিয়ে যাওয়ার সময় যে ডেটা রেখে গেছে, তা বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা এখনও নতুন তথ্য পাচ্ছেন, যার কোনোটা চমক জাগানিয়া।
ওয়্যার্ড ম্যাগাজিনে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, এই ধূমকেতুর লেজ বা গ্যাসীয় আবরণ বিশ্লেষণ করে গবেষকেরা একটি অদ্ভুত বিষয় পেয়েছেন। এতে স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি মিথানল রয়েছে, যা এক ধরনের অ্যালকোহল এবং জ্বালানি ও দ্রাবকে ব্যবহার হয়।
চিলির আতাকামা মরুভূমিতে থাকা অ্যালমা টেলিস্কোপের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, ধূমকেতুটির কোমা বা গ্যাসমণ্ডলে মিথানলের পরিমাণ অস্বাভাবিকরকম বেশি। সাধারণত সৌরজগতের ধূমকেতুতেও মিথানল পাওয়া যায়, তবে ৩আই অ্যাটলাসে এর পরিমাণ স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় চার গুণ।
এখনও পর্যালোচনায় থাকা এ গবেষণাপত্রটি আরক্সিভ আর্কাইভে রয়েছে। এতে বলা হয়েছে, এখন পর্যন্ত পরিমাপ করা ধূমকেতুগুলোর মধ্যে মিথানল সমৃদ্ধির দিক থেকে ৩আই অ্যাটলাস দ্বিতীয় স্থানে। এর আগে ২০১৬ সালে আবিষ্কৃত সি/২০১৬ আর২ ধূমকেতুতে সবচেয়ে বেশি মিথানল পাওয়া গিয়েছিল।
একইসঙ্গে অন্য গবেষণাতেও ধূমকেতুটিতে কার্বন ডাইঅক্সাইড, লোহা ও নাইট্রোজেনের মতো আরও কিছু জৈব যৌগের উচ্চ উপস্থিতি ধরা পড়েছে। এসব তথ্য বিজ্ঞানীদের ধারণা জোরালো করছে যে, এই ধূমকেতুর রাসায়নিক গঠন সাধারণ ধূমকেতুর মতো নয়।
গবেষকদের মতে, অতিরিক্ত মিথানল এবং কার্বন ডাইঅক্সাইড সমৃদ্ধ কোমা ইঙ্গিত দেয় যে, ৩আই অ্যাটলাস সম্ভবত এমন কোনো পরিবেশে তৈরি হয়েছে, যা সৌরজগতের ধূমকেতু তৈরি হওয়ার অঞ্চলের তুলনায় অনেক বেশি ঠান্ডা বা ভিন্ন ধরনের রাসায়নিক পরিবেশ ছিল।
গবেষণাপত্রে আরও বলা হয়েছে, এটি সম্ভবত ‘হাইপারঅ্যাকটিভ’ ধূমকেতুর একটি উদাহরণ হতে পারে। এ ধরনের ধূমকেতুতে পৃষ্ঠের আকার অনুযায়ী যতটা পানি বাষ্প বের হওয়ার কথা, বাস্তবে তার চেয়ে বেশি গ্যাস নির্গত হয়।
এ ক্ষেত্রে কিছু গ্যাস ধূমকেতুর মূল কেন্দ্র থেকে নয়, বরং কোমায় ভাসমান বরফ কণা থেকে বের হয়, যা সূর্যের কাছে এলে বাষ্পে পরিণত হয়। গবেষকেরা মনে করেন, ৩আই অ্যাটলাস থেকে মিথানল, পানি ও কার্বন ডাইঅক্সাইড বের হয়েছে কেন্দ্রীয় অংশ এবং এই বরফ কণা দুই উৎস থেকেই।
বিশেষ করে সূর্যের কাছে আসার সময় আলাদা হয়ে যাওয়া বরফ কণা থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মিথানল বাষ্পে পরিণত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই আচরণ হাইপারঅ্যাকটিভ ধূমকেতুর বৈশিষ্ট্যের সঙ্গেও মিলে যায়।
গবেষকেরা বলছেন, এসব তথ্য ইঙ্গিত দেয় যে ৩আই অ্যাটলাস একটি প্রাকৃতিক মহাজাগতিক বস্তু, যা অত্যন্ত ঠান্ডা পরিবেশে তৈরি হয়েছে এবং যার রাসায়নিক গঠন বেশ জটিল। ফলে এটি কৃত্রিম কোনো বস্তুর ধারণাকেও বাতিলের খাতাতেই ফেলে দেয়।
বর্তমানে ধূমকেতুটি প্রায় প্রতি সেকেন্ডে ৬০ কিলোমিটার গতিতে সৌরজগত থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। ইতিহাসে এটি তৃতীয় নিশ্চিত আন্তনাক্ষত্রিক বস্তু। তবে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা মনে করেন, ভবিষ্যতে আরও উন্নত যন্ত্র দিয়ে অনুসন্ধান করলে এ ধরনের আরও অনেক বস্তু ধরা পড়তে পারে।