Published : 10 May 2026, 03:21 PM
ইউএফও বা ভিনগ্রহের যান ও এলিয়েন নিয়ে বিশ্বজুড়ে কৌতূহলের শেষ নেই। সেই কৌতূহলকে আরও উসকে দিয়ে মার্কিন যুদ্ধ বিভাগ (প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়) সম্প্রতি চালু করেছে বিশেষ এক ওয়েবসাইট।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে তৈরি এই পোর্টালে রহস্যময় সব ছবি ও ফাইল প্রকাশ করা হলেও এলিয়েনদের অস্তিত্ব নিয়ে এখনও পর্যন্ত কোনো অকাট্য প্রমাণের দেখা মেলেনি বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি সংবাদের সাইট এনগ্যাজেট।
যুদ্ধ বিভাগ বলেছে, ‘ওয়ার ডটগভ স্ল্যাশইউএফও’ নামের ওয়েবসাইটটিতে এখন থেকে নিয়মিতভাবে এ সংক্রান্ত আরও তথ্য যোগ হতে থাকবে।
ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে পেন্টাগনের কিছু গোপন ভিডিও উন্মুক্ত করা হলেও এবারের উদ্যোগটি তার সাম্প্রতিক নির্দেশেরই ফল।
ফেব্রুয়ারিতে নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প যুদ্ধ বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থাকে নির্দেশ দিয়েছেন, তারা যেন ভিনগ্রহের প্রাণী, এলিয়েন ও ইউএফও সংক্রান্ত সব সরকারি ফাইল খুঁজে বের করে সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়। তারই ধারাবাহিকতায় এ নতুন পেইজটি তৈরি হয়েছে।
এ ওয়েবসাইটটিতে যুদ্ধ বিভাগ, এফবিআই, নাসা ও আরও কিছু সংস্থার অসংখ্য ছবি ও ফাইল রাখা হয়েছে। পুরো সাইটটি এমনভাবে সাজানো হয়েছে, যা দেখে মনে হয়, এ যেন সাধারণ মানুষের ইউএফও সংক্রান্ত কৌতূহল বা রহস্যময় চিন্তাভাবনাকে উসকে দেওয়ার জন্যই তৈরি।
তবে একটু সময় নিয়ে ছবি দেখলে বা ফাইলগুলো ডাউনলোড কররে বুঝতে পারা যায়, ভিনগ্রহের প্রাণীদের অস্তিত্ব সম্পর্কে এখানে আসলে তেমন কোনো অকাট্য প্রমাণ নেই।
ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় মেয়াদে চলা অন্যান্য ব্যর্থতা, যেমন ইরানের সঙ্গে বিধ্বংসী যুদ্ধ থেকে মানুষের নজর সরিয়ে নিতে এসব ফাইল প্রকাশ করা হয়েছে কি না এমন প্রশ্ন উঠতেই পারে।
তবে এলিয়েনরা পৃথিবীতে এসেছে কি না তার অকাট্য প্রমাণের চেয়েও এসব ফাইল অন্য এক কারণে বেশি আকর্ষণীয়। তা হচ্ছে, এক আমলাতান্ত্রিক বা সরকারি ব্যবস্থা কীভাবে রহস্যময় বা ব্যাখ্যাতীত বিভিন্ন ঘটনাকে নথিবদ্ধ করে এবং সেগুলোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তারই এক চমৎকার উদাহরণ এ ওয়েবসাইট।
দীর্ঘ কয়েক দশক ধরেই এমন সন্দেহ রয়েছে, আনআইডেন্টিফাইড অ্যানোমালাস ফেনোমেনা’ বা ইউএপি (আগে ইউএফও নামে পরিচিত ছিল) সম্পর্কে মার্কিন সরকার যতটুকু প্রকাশ করছে তার চেয়ে অনেক বেশি তথ্য তারা জানে।
তবে এ বিষয়ে যে সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে গবেষণা চালাচ্ছে, তার সত্যতা নিশ্চিত হয় ২০১৭ সালে ‘অ্যাডভান্সড অ্যারোস্পেস থ্রেট আইডেন্টিফিকেশন প্রোগ্রাম’ বা এএটিআইপি-এর কথা প্রকাশ্যে আসে।
২০০৭ সালে এসব রহস্যময় বস্তু নিয়ে গবেষণার জন্য গঠিত হয়েছিল এএটিআইপি এবং ২০১২ সালে তা বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। তবে মার্কিন সরকারি অন্যান্য বিভাগ ও টাস্কফোর্স এ গবেষণার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
বর্তমানে যুদ্ধ বিভাগের অধীনে থাকা ‘অল-ডোমেইন অ্যানোমালি রেজোলিউশন অফিস’ বা এএআরও এসব কাজ তদারকি করছে, যারা সম্প্রতি এসব নতুন ফাইল প্রকাশের ক্ষেত্রে মূল ভূমিকা পালন করেছে।
ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ইউএপি’র যেসব ভিডিও প্রকাশ হয়েছিল সেগুলোর কোনো ব্যাখ্যা মেলেনি। তবে সরকারের একটি প্রতিবেদনে স্পষ্ট বলা হয়েছিল, ওগুলো ভিনগ্রহের কোনো মহাকাশযান নয়।
যুদ্ধ বিভাগ এখন যেসব নতুন ফাইল প্রকাশ করেছে, সেগুলো দিয়ে পরিস্থিতির খুব একটা পরিবর্তন হবে কি না তা নিশ্চিত নয়। তবে অন্তত কৌতূহল মেটানোর মতো বিষয় হিসেবে এগুলো বেশ আকর্ষণীয়।