Published : 24 Jun 2026, 05:36 PM
বিজ্ঞান ও সাইবার নিরাপত্তার চিত্র বদলে দিতে পারে এমন কোয়ান্টাম প্রযুক্তির বৈশ্বিক লড়াইয়ে চীনকে পেছনে ফেলতে বড় পদক্ষেপ নিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।
২০২৮ সালের মধ্যে শক্তিশালী কোয়ান্টাম কম্পিউটার তৈরি এবং সম্ভাব্য সাইবার হামলা থেকে সরকারি ডেটা সিস্টেমকে সুরক্ষিত করতে সোমবার দুটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন তিনি।
রয়টার্স লিখেছে, এ আদেশের লক্ষ্য বৈজ্ঞানিক গবেষণার জন্য শক্তিশালী কোয়ান্টাম কম্পিউটার তৈরি এবং এর সঙ্গে সম্পর্কিত সাইবার হুমকি থেকে বিভিন্ন সরকারি ব্যবস্থাকে রক্ষার প্রক্রিয়াকে বাড়ানো।
এ পদক্ষেপের আগাম আভাস দিয়ে কোয়ান্টাম কম্পিউটারের উন্নয়ন প্রসঙ্গে হোয়াইট হাউসের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নীতি বিষয়ক কার্যালয়ের পরিচালক মাইকেল ক্রাতসিওস বলেছেন, “আমরা বিশ্বাস করি, ২০২৮ সালের মধ্যেই এমনটা সম্ভব হতে পারে।”
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দুটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন। যার মধ্যে একটির উদ্দেশ্য, কোয়ান্টাম কম্পিউটার-চালিত সম্ভাব্য সাইবার আক্রমণ থেকে সরকারি কম্পিউটারগুলোকে রক্ষা করা। এর অংশ হিসেবে ২০৩০ বা ২০৩১ সালের মধ্যে সরকারের প্রধান প্রধান কম্পিউটিং সিস্টেমগুলোকে ‘পোস্ট-কোয়ান্টাম ক্রিপ্টোগ্রাফি’তে স্থানান্তরিত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ হয়েছে।
কোয়ান্টাম কম্পিউটার কোয়ান্টাম পদার্থবিদ্যার বিভিন্ন সূত্র ব্যবহার করে তথ্য প্রক্রিয়াজাত করে। ফলে তা এমন কিছু জটিল সমস্যার সমাধান আজকের দিনের সুপারকম্পিউটারের চেয়েও বহুগুণ দ্রুত গতিতে করতে পারে।
তবে এ প্রযুক্তি কম্পিউটারকে হ্যাকিং থেকে সুরক্ষিত রাখা বর্তমানের এনক্রিপশন ব্যবস্থাকেও ভেঙে ফেলতে পারে, যা ভবিষ্যতে বড় ধরনের সাইবার আক্রমণের আশঙ্কাও তৈরি করছে।
এসব আদেশ চীনের বিরুদ্ধে কোয়ান্টাম প্রযুক্তির প্রতিযোগিতায় আমেরিকার নেতৃত্ব নিশ্চিত করার বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টিই স্পষ্ট করেছে।
এ প্রযুক্তি একদিকে যেমন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই, মেটেরিয়ালস সায়েন্স বা পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়নের অগ্রগতিতে গতি আনতে পারে তেমনই এর মাধ্যমে তৈরি হওয়া বিভিন্ন সাইবার নিরাপত্তা হুমকি থেকেও সুরক্ষা দেবে।
পাশাপাশি এ আদেশে ২০২৮ সালের মধ্যে পেন্টাগনকে ‘কোয়ান্টাম সেন্সর’ মোতায়েনের আহ্বান জানানো হয়েছে। এ ধরনের সেন্সরগুলো যুদ্ধক্ষেত্রে ‘গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম’ বা জিপিএস জ্যাম করা হলেও যুদ্ধবিমানগুলোকে সঠিক দিকনির্দেশনা পেতে সাহায্য করবে।
এ ছাড়া, স্যাটেলাইটে এসব সেন্সর বসালে মহাকাশ থেকেই ভূগর্ভস্থ কার্যক্রম, যেমন সুড়ঙ্গ নির্মাণ বা মিসাইল সাইলো বা ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি তৈরির মতো নানা বিষয় শনাক্ত করা সম্ভব।
ওভাল অফিসে এ আদেশ স্বাক্ষরের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকা প্রযুক্তি কোম্পানি ‘ইনফ্লেকশন’-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ম্যাথিউ কিনসেলা বলেছেন, “কোয়ান্টাম কম্পিউটিং আসার আগেই কোয়ান্টাম সেন্সিং আমাদের অনেক চমৎকার জিনিস উপহার দিতে পারে। এ ধরনের সময়সীমার মধ্যে লক্ষ্য পূরণ করা সম্ভব।”
গেল মাসেই মার্কিন বাণিজ্য মন্ত্রণালয় নতুন এক আইবিএম ভেঞ্চারসহ মোট নয়টি কোয়ান্টাম কম্পিউটিং কোম্পানিতে ২০০ কোটি ডলারের মালিকানা অংশীদারিত্ব নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
মাইকেল ক্রাতসিওস বলেছেন, এসব আদেশের অন্যতম লক্ষ্য এমন প্রতিদ্বন্দ্বী ও শত্রুপক্ষ যারা আমেরিকার অর্থনৈতিক ও জাতীয় নিরাপত্তাকে দুর্বল করতে চায় তাদের হাত থেকে বাঁচতে বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদ সুরক্ষা এবং সরবরাহ চেইনের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করা।
এ প্যাকেজে অন্তর্ভুক্ত আরেকটি পদক্ষেপে সরকারি বিভিন্ন সংস্থাকে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে কোয়ান্টাম-সক্ষম সেন্সর ও নেটওয়ার্ক মোতায়েনের জন্য সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।