Published : 21 Jul 2026, 11:47 AM
কুষ্টিয়া শহরে বিয়ের আশ্বাসে এক তরুণীকে ডেকে নিয়ে একটি ছাত্রাবাসে চার দিন আটকে রেখে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার ওই তরুণী কৌশলে ছাত্রাবাস থেকে বেড়িয়ে চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন এক যুবককে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে বলে জানান কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি কবির হোসেন মাতুব্বর।
পরে ২০ বছর বয়সি ওই তরুণীর পরিবারের পক্ষ থেকে করা মামলায় যুবককে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয় বলে জানান তিনি।
কারাগারে যাওয়া রাফিউজ্জামান রবিন (২৪) দৌলতপুর উপজেলার লক্ষীখোলা গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশ জানায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয় থেকে স্বামী পরিত্যক্তা ওই নারীর সঙ্গে রবিনের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এর মধ্যে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে ওই তরুণীকে শহরের আড়ুয়াপাড়া এলাকার একটি বহুতল ভবনের নিচতলার ছাত্রাবাসে ডেকে নেয় রবিন।
সেখানে তাকে আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তরুণীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। এ ছাড়া আটক করা হয় এক যুবককে।
ভুক্তভোগী তরুণীর দাবি, “চার দিন ধরে আমাকে আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতন ও ধর্ষণ করেন রবিন। আমার পরিচয় গোপন করতে ব্যাগে থাকা জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র পুড়িয়ে ফেলা হয়।
“কৌশলে ছাত্রাবাস থেকে পালিয়ে রাস্তায় বের হয়ে চিৎকার করে সাহায্য চাইলে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে আমাকে উদ্ধার করেন।”
কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ইকবাল হাসান বলেন, “ওই নারী ‘হিস্ট্রি অব সেক্সুয়াল অ্যাসাল্ট’ জনিত আহত হওয়ায় তাকে গাইনি ওয়ার্ডে রেখে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।”
ওসি কবির হোসেন মাতুব্বর বলেন, “ভুক্তভোগীর তরুণীর পরিবারের পক্ষ থেকে ধর্ষণ মামলা করা হয়েছে। এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত আছে কি-না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”