০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ছায়াপথের নতুন ছবির বিস্তারিত দেখালেন বিজ্ঞানীরা

গবেষকরা বলছেন, ছায়াপথের বিভিন্ন অংশের রঙের ভিন্নতা দেখে সেই অংশগুলোর বয়স, গঠন ও গতি সম্পর্কে জানতে পারবেন তারা।

ছায়াপথের নতুন ছবির বিস্তারিত দেখালেন বিজ্ঞানীরা
ছবিটি তৈরিতে ছায়াপথটিকে ৫০ ঘণ্টা ধরে পর্যবেক্ষণ করেছেন বিজ্ঞানীরা। ছবি: ইএসএ

প্রযুক্তি ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 20 Jun 2025, 04:59 PM

Updated : 26 Aug 2026, 01:13 PM

কোনো ছায়াপথের সবচেয়ে বিস্তারিত একটি ছবি তৈরি করেছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। এমন ছবি আগে কখনও দেখা যায়নি বলে দাবি তাদের। 

জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা বলছেন, ‘বিস্ময়করভাবে বিস্তারিত’ এ ছবিতে ‘স্কাল্পচার’ নামের ছায়াপথের এমন কিছু অংশ দেখা যাচ্ছে, যা আগে কখনও দেখা যায়নি।

‘ইউরোপিয়ান সাউদার্ন অবজারভেটরি’র ‘ভেরি লার্জ টেলিস্কোপ’ ব্যবহার করে এখন পর্যন্ত ছায়াপথের সবচেয়ে বিস্তারিত ছবিটি তৈরি করেছেন বিজ্ঞানীরা, যেখানে  হাজার হাজার রং একসঙ্গে দেখা যাচ্ছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে ব্রিটিশ দৈনিক ইন্ডিপেনডেন্ট।

ছবিটি তৈরিতে ছায়াপথটিকে ৫০ ঘণ্টা ধরে পর্যবেক্ষণ করেছেন বিজ্ঞানীরা এবং একশটি আলাদা ছবি একসঙ্গে জোড়া দিয়ে এটি তৈরি করেছেন তারা। ছবির প্রস্থে ৬৫ হাজার আলোকবর্ষ জুড়ে মহাকাশ দেখা যাচ্ছে, যা প্রায় পুরো ছায়াপথটির ছবিই ধারণ করেছে।

স্কাল্পচার ছায়াপথটির আনুষ্ঠানিক নাম হচ্ছে ‘এনজিসি ২৫৪’। এটি ‘স্টারবার্স্ট’ প্রকৃতির ছায়াপথ। এ ধরনের ছায়াপথে মূলত ক্রমাগতভাবে নতুন নতুন তারা তৈরি হয়।

নতুন ছবিটির বিস্তারিত বিবরণ ছায়াপথের তারা, গ্যাস ও ধুলিকণার মতো মূল বিভিন্ন উপাদানের গঠন খুব স্পষ্টভাবে দেখার সুযোগ করে দিয়েছে বিজ্ঞানীদের, যাদের প্রত্যেকটি নিজস্ব আলোর রং তৈরি করে। তাই ছবিতে এত সূক্ষ্ম রং ও বিশদভাবে এগুলো দেখতে পাওয়ার কারণে বিজ্ঞানীরা ছায়াপথের ভেতরে ছোট ছোট বিভিন্ন ঘটনা আরও গভীরভাবে বুঝতে পারবেন বলে দাবি তাদের।

‘হাইডেলবার্গ ইউনিভার্সিটি’র অধ্যাপক ও এ গবেষণার সহলেখক ক্যাথরিন ক্রেকেল বলেছেন, “আমরা এতটািই স্পষ্টভাবে জুম করে এই ছায়াপথে দেখতে পারি যে, কোথায় নতুন তারা তৈরি হচ্ছে, তা প্রায় প্রতিটি তারার স্কেলের কাছাকাছি গিয়ে বিশ্লেষণ করা যায়। আবার চাইলে পুরো গ্যালাক্সিটিকেও একসঙ্গে দেখে বোঝা সম্ভব।”

গবেষকরা বলছেন, ছায়াপথের বিভিন্ন অংশের রঙের ভিন্নতা দেখে সেই অংশগুলোর বয়স, গঠন ও গতি সম্পর্কে জানতে পারবেন তারা।

গবেষণায় নেতৃত্ব দিয়েছেন ‘ইউরোপিয়ান সাউদার্ন অবজারভেটরি’র এনরিকো কনজিউ। তিনি বলেছেন, “স্কাল্পচার ছায়াপথটি আদর্শ অবস্থানে আছে। এটি আমাদের ছায়াপথের এতটাই কাছাকাছি যে আমরা এর ভেতরের গঠন খুব বিস্তারিতভাবে দেখতে পারি এবং এর মূল বিভিন্ন উপাদানকে বিশ্লেষণ করতে পারি। আবার এটি এতটা বড়ও যে, আমরা পুরো ছায়াপথটিকেও সম্পূর্ণ এক সিস্টেম হিসেবে দেখতে পারি।”

‘দ্য মিউজ ভিউ অফ দ্য স্কাল্পচার গ্যালাক্সি: সার্ভে ওভারভিউ অ্যান্ড দ্য প্ল্যানেটারি নেবুলা লুমিনোসিটি ফাংশন’ শিরোনামে গবেষণাপত্রটি প্রকাশ পেয়েছে বিজ্ঞানভিত্তিক জার্নাল ‘অ্যাস্ট্রোনমি অ্যান্ড অ্যাস্ট্রোফিজিক্স’-এ।