Published : 02 Jul 2026, 08:48 PM
নরসিংদীর দুটি কেন্দ্রে এইচএসসি পরীক্ষায় ভুল প্রশ্নপত্র সরবরাহের অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা।
বৃহস্পতিবার সদর উপজেলার নরসিংদী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ২০১ নম্বর রুমে কিছু শিক্ষার্থীকে নৈর্ব্যক্তিক পরীক্ষায় ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্র সরবরাহ করা হয়।
অপরদিকে মনোহরদী উপজেলার খিদিরপুর ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে দুটি কক্ষের প্রায় শতাধিক পরীক্ষার্থীকে ভুল প্রশ্নপত্র সরবরাহ করা হয়।
নরসিংদী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের শিক্ষার্থীরা বলেন, পরীক্ষা শুরু হওয়ার ১০-১৫ মিনিট পর তারা দেখতে পান, তাদের প্রশ্নপত্রটি গত বছরের। তারা সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি শিক্ষকদের জানান। তখন শিক্ষকরা আগের প্রশ্নপত্রটি নিয়ে নতুন বছরের প্রশ্নপত্র দেন। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের পর তাদের অতিরিক্ত কোনো সময় দেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রের সচিব নরসিংদী সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক নাছিমা আক্তার বলেন, “কেন্দ্রের ২০১ নম্বর কক্ষে কিছু শিক্ষার্থীকে ভুলবশত পুরনো সিলেবাসের প্রশ্নপত্র বিতরণ করা হয়েছিল। কিছুক্ষণ পর জানতে পেরে আবার নতুন বছরের সিলেবাসের প্রশ্নপত্র বিতরণ করা হয়। বিষয়টিতে আমরা বিব্রত। এটি নরসিংদীবাসীর মান-সম্মানের প্রশ্ন।”
এ বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে অধ্যক্ষ বলেন, “কেন্দ্রের প্রশ্ন আনা-নেওয়া থেকে শুরু করে সর্বোপরি দায়িত্বে থাকা নরসিংদী সরকারি মহিলা কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক অলক কুমার পাল ও হিসাববিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সুব্রত কুমার সাহাকে সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
“এ ঘটনায় আরো বিস্তারিত তদন্তের জন্য আমার পক্ষ থেকে প্রতিনিধি পাঠানো হয়েছে। তারা তদন্ত শেষে বিস্তারিত বিবরণ লিখিতভাবে জানানোর পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
নরসিংদী সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী হাকিম সারোয়ার আলম বলেন, “বিষয়টি আমরা অবগত আছি এবং জেলা প্রশাসক মহোদয় বিষয়টি তদন্তের জন্য অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মু. রাসেদুজ্জামানকে তদন্তের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।”
নরসিংদী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা জাহান সরকার বলেন, “ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি এবং আমি নিজেই দ্রুত কেন্দ্রে পৌঁছে ঘটনার বিষয়ে জানার চেষ্টা করছি। ঘটনার বিষয়ে সত্যতা পাওয়া গেলে অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ এস এম আব্দুল খালেক বলেন, “এই ঘটনার বিষয়ে আমরা সরাসারি কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারি না। আমরা কেন্দ্র ও জেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন, কেন্দ্র সরানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত ও দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের বিষয়ে কী করা যায় সেই বিষয়ে কেন্দ্র সচিব ও জেলা প্রশাসন পরামর্শ করছেন।”
হয়তো কোনো একটা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে বলে জানান এই শিক্ষা কর্মকর্তা।
অপরদিকে মনোহরদী উপজেলার খিদিরপুর ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রের পরীক্ষার্থীরা বলেন, তাদের নতুন সিলেবাসের এমসিকিউ প্রশ্নপত্রের পরিবর্তে বাংলা প্রথম পত্রের ‘খ’ সেট, ১২১ কোডের ভিন্ন প্রশ্নপত্র বিতরণ করা হয়।
পরীক্ষা শেষে বাড়িতে গিয়ে উত্তর মিলানোর সময় বিষয়টি তারা বুঝতে পারেন। ঘটনাটি জানাজানি হলে অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। অনেক শিক্ষার্থী নিজেদের ফলাফল নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন।
ওই কেন্দ্রে মনোহরদী সরকারি কলেজের ৬১২ পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন।
মনোহরদী সরকারি কলেজের পরীক্ষার্থী সাকিবা বলেন, “পরীক্ষার হলে আমরা বুঝতেই পারিনি যে, ভুল প্রশ্নপত্র দেওয়া হয়েছে। বাড়িতে এসে উত্তর মিলিয়ে দেখি, আমাদের ভিন্ন প্রশ্নে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। এখন ভালো ফলাফল নিয়ে আমরা চিন্তিত।”
এ ধরনের ভুল হয়েছে বলে খিদিরপুর ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রের কেন্দ্র সচিব ও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. নাজিম উদ্দীন জানান। তবে তিনি এর বেশি কিছু বলতে চাননি।
মনোহরদী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক আব্দুল মান্নান বলেন, “শিক্ষার্থীদের অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি জানতে পেরেছি। পরীক্ষার দায়িত্বে থাকা শিক্ষকদের অবহেলার কারণেই এমনটি ঘটেছে বলে মনে হচ্ছে। বিষয়টির সমাধানে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।”
কেন্দ্রে দায়িত্ব পালনকারী শিক্ষকরা হলেন- খিদিরপুর ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক আরেফা সুলতানা (হল সুপার), প্রভাষক সামছুল আলম (সদস্য), প্রভাষক মাহমুদুর রহমান (সদস্য) এবং প্রভাষক মো. আক্রাম হোসেন (সদস্য)।
এ বিষয়ে মনোহরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এম এ মুহাইমিন আল জিহান বলেন, “প্রশ্নপত্র কেন্দ্রে পৌঁছানোর আগে যেসব ধাপ রয়েছে, সে বিবেচনায় এক পরীক্ষার প্রশ্ন অন্য পরীক্ষায় চলে আসা প্রায় অসম্ভব। এ ক্ষেত্রে দায়িত্বে থাকা শিক্ষকদের ভুলের কারণেই এমন ঘটনা ঘটতে পারে।”
তিনি বলেন, “ঘটনার পর দায়িত্বে থাকা চারজন শিক্ষককে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া কেন্দ্র সচিব ও খিদিরপুর ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. নাজিম উদ্দীনের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে কোনো পরীক্ষার্থী যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে শিক্ষা বোর্ডকে এরই মধ্যে অবহিত করা হয়েছে।”