Published : 02 Jul 2026, 07:52 PM
নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার অলিপুরা ইউনিয়ন পরিষদের একাধিকবারের সাবেক চেয়ারম্যান আলী আহম্মেদ দুলু এলাকায় আওয়ামী লীগ নেতা হিসেবেই প্রতিষ্ঠিত। তার কারণও আছে, তিনি একাধারে জেলা তাঁতীলীগের সাবেক আহ্বায়ক; তার উপর নরসিংদী জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টাও তিনি।
আলী আহম্মেদ দুলু বৃহস্পতিবার রায়পুরা প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা দিয়েছেন, “অরজিনালি আমি বিএনপিতে ছিলাম, আমি ছাত্রদল করেছিলাম। এখন আমি আমার ঘরে ফিরে আসছি। এই বিএনপিতে আজকে আবার নতুন করে প্রেস ক্লাবের মাধ্যমে, সাংবাদিক ভাইদের মাধ্যমে বিএনপিতে পুরোভাবে যোগদান করলাম।
“আজকে থেকে আমি সকল এমপি-মন্ত্রী যারা আছেন, সবার সাথেই আমি ফুল নিয়ে তাদের সাথে দেখা করব। বিএনপি করেছিলাম, বিএনপিতে এসেছি এবং বাকি জীবন বিএনপি করেই আমি মরতে চাই।”
তার এই বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েছে। কেউ কেউ এর সমালোচনাও করছেন।
স্থানীয় একজন বলছিলেন, “আলী আহমেদ দুলু একসময় জাতীয় পার্টির রাজনীতি করতেন। পরে ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর নিজেকে আওয়ামী লীগের নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। আওয়ামী লীগের পরিচয় ব্যবহার করে একাধিকবার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন এবং দল থেকে নানা ধরনের সুযোগ-সুবিধাও নিয়েছেন।”
তবে সংবাদ সম্মেলনে আলী আহমেদ দুলু দাবি করেছেন, তিনি আওয়ামী লীগ করেননি; সমর্থন করতেন।
“দুইবার আমাকে রাজু সাহেব (আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, সাবেক মন্ত্রী রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজু) জোর কইরা ফেল করাইছেন এবং আমাকে হয়রানি করেছেন। আমাকে নির্বাচন অফিসে আটকিয়ে রেখেছেন, অনেক হয়রানি হইছি।
“আমি কিন্তু কোনো দল করি নাই। আমি আওয়ামী লীগের সমর্থক ছিলাম।”
আলী আহমেদ দুলু বলেন, “আমি একসময় ছাত্রদল করতাম। ১৯৮১ সাল থেকে ছাত্রদল করতে গিয়ে আমি যখন চেয়ারম্যান হইলাম, তখন যে দল ক্ষমতায় যখন আসছে, সেই দলের পাশে আমি ব্যালেন্স করে চলে আসছি। কিন্তু অরিজিনালি আমি বিএনপি ছোটবেলা থেকে করছি। আমার এলাকাতে এই যে আমার ভাইয়েরা আছেন, এরা সবাই বিএনপির লোক।”
তিনি দাবি করেন, “ফেব্রুয়ারির ২ তারিখ খোকন ভাইয়ের (জেলা বিএনপির সভাপতি ও সংসদ সদস্য খায়রুল কবীর খোকন) কথামত, খোকন ভাইয়ের মাধ্যমে আমি বিএনপিতে যোগদান করেছি। আগের সবগুলি ছাইড়া দিয়া, যে যেইডাই বলুক না ক্যান!”
এ ব্যাপারে নরসিংদী জেলা বিএনপির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব নরসিংদী-১ আসনের সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকন বলেন, জেলা আওয়ামী লীগের কোনো উপদেষ্টা বিএনপিতে যোগদান করেছেন বা করবেন বলে তার জানা নেই। এ নিয়ে কেউ তার সঙ্গে কোনো আলোচনাও করেননি।