Published : 01 Jul 2026, 11:22 PM
প্রতিষ্ঠার সাত দশক পেরিয়ে গেলেও দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট কাটেনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর মিলিয়ে প্রায় ৩২ হাজার শিক্ষার্থী রয়েছেন। বিপরীতে ১৭টি আবাসিক হলে আসন রয়েছে প্রায় ১০ হাজার। ফলে প্রতি তিন শিক্ষার্থীর মধ্যে দুজনই শিক্ষাজীবন শেষ করেও আবাসিক হলে থাকার সুযোগ পান না।
কিন্তু এই এক-তৃতীয়াংশ সিটও নানা অনিয়মের কারণে যোগ্য শিক্ষার্থীরা বরাদ্দ পান না বলে অভিযোগ আছে।
জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনও আবাসন সংকটকে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে তুলে ধরেছিল।
তাদের নির্বাচনি ইশতেহারে শতভাগ আবাসিকতা নিশ্চিত করা কিংবা বিকল্প হিসেবে আবাসিক ভাতা চালুর প্রতিশ্রুতিও ছিল। কিন্তু মেয়াদের অর্ধেকের বেশি পেরিয়ে গেলেও তাদের পক্ষ থেকে উল্লেখযোগ্য কোনো উদ্যোগের দেখা মিলেনি।

এ ছাড়া চব্বিশের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর দায়িত্ব নেওয়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আবাসিক ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরাতে নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করে। তবে নীতিমালার বিভিন্ন ফাঁকফোকর এবং বাস্তবায়নে তদারকির ঘাটতির কারণে সেটির কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
বরং বিভিন্ন হলের প্রাধ্যক্ষদের রাজনৈতিক মতাদর্শের প্রভাবের কারণে নির্দিষ্ট ছাত্রসংগঠনগুলো বিশেষ সুবিধা পাচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
অন্যদিকে আবাসিক হলগুলোতে আবারও পুরনো ‘ছাত্রলীগ’ আমলের মত সিট দখলের সংস্কৃতি ফিরে আসছে বলে অভিযোগ তুলেছে বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন। অভিযোগের তীর সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের দিকে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো শিক্ষার্থী নিয়মিত ব্যাচের সঙ্গে স্নাতকোত্তরে ভর্তি না হলে, স্নাতকোত্তরের চূড়ান্ত পরীক্ষা শেষ হওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে হল ত্যাগ না করলে, হল প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া কক্ষ বা সিট পরিবর্তন করলে কিংবা গ্রহণযোগ্য কারণ ছাড়া টানা ৬০ দিনের বেশি অনুপস্থিত থাকলে তার আবাসিকতা বাতিল হওয়ার কথা।
তবে বাস্তবে এসব বিধানের যথাযথ প্রয়োগ দেখা যাচ্ছে না। ফলে নিয়মবহির্ভূতভাবে অনেক শিক্ষার্থী হলে অবস্থান করছেন। কোথাও একজনের নামে বরাদ্দ থাকা সিটে অন্য শিক্ষার্থী থাকছেন, আবার কোথাও রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রভাব খাটিয়ে হল প্রাধ্যক্ষের মৌখিক অনুমতিতে আবাসিক হলে থাকার সুযোগ পাচ্ছেন।

আবাসিকতা একজনের, থাকছেন অন্যজন
হল প্রশাসনের নজরদারির দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে অনেক শিক্ষার্থী নিজেদের নামে বরাদ্দ থাকা সিটে পরিচিত বা জুনিয়র শিক্ষার্থীদের থাকার সুযোগ করে দিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে একদিকে আবাসিক নীতিমালা লঙ্ঘিত হচ্ছে, অন্যদিকে প্রকৃত আবাসনপ্রত্যাশীরা সিট থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
সম্প্রতি হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলে বৈধ আবাসিকতা ছাড়া তিন শিক্ষার্থীর অবস্থানের অভিযোগ উঠে। তাদের মধ্যে আরিফ শাহরিয়ার ও নাহিদুল ইসলাম তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। অপর শিক্ষার্থী দ্বিতীয় বর্ষের লতিফুর রহমান, যিনি রাকসু নির্বাচনে ছাত্রদল-সমর্থিত প্যানেল থেকে হল সংসদের কার্যনির্বাহী সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।
এ ছাড়া মতিহার হলের দ্বিতীয় ব্লকের দ্বিতীয় তলাটি ‘ছাত্রলীগের ব্লক’ ছিল। এই ব্লকের আবাসিকদের অনেকে পলাতক হলেও তাদের বেশিরভাগেরই আবাসিকতা বাতিল হয়নি। সেই সিটগুলোতে অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে ইসলামী ছাত্রশিবিরের অনেক নেতাকর্মী উঠেছেন এবং এখনও অবস্থান করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি মেহেদী হাসান মারুফ বলেন, “অতীতে ছাত্রলীগের সময়ে ‘হল ম্যানেজার’ সংস্কৃতির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বিভিন্নভাবে অর্থ আদায় এবং রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা হত। পরে সিট বাণিজ্য ও রাজনৈতিক আনুগত্যের ভিত্তিতে আবাসিক সিট বণ্টনের সংস্কৃতি গড়ে ওঠে।
“কিন্তু বর্তমানেও আমরা সেই সংস্কৃতির পুনরাবৃত্তি দেখতে পাচ্ছি। বিগত প্রশাসনের সময় একটি ছাত্রসংগঠন এবং এই সরকার আসার পর আরেকটি ছাত্রসংগঠন একই কাজ করছে।”

আবাসিকতা বাতিল, তবু হলে!
নীতিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগে আবাসিকতা বাতিলের পরও কয়েকজন শিক্ষার্থী হলে অবস্থান করছেন বলে অভিযোগ ওঠেছে।
চলতি বছরের এপ্রিলে শহীদ জিয়াউর রহমান হলের একটি কক্ষে ‘নারী থাকার সন্দেহে’ তল্লাশি চালানোর ঘটনায় হল সংসদের এজিএস ইসরাফিল হোসাইন, সাংস্কৃতিক সম্পাদক সাকিব জুবায়ের এবং আবাসিক শিক্ষার্থী ফোরকান হাফিজ জীমের আবাসিকতা বাতিল করে হল প্রশাসন। কিন্তু তারা এখনও ওই হলেই অবস্থান করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
তিনজনই ইসলামি ছাত্রশিবির মনোনীত হল সংসদের প্রতিনিধি বা সংগঠনের কর্মী হিসেবে পরিচিত।
আবাসিকতা স্থগিত হওয়ার পরও হলে অবস্থানের বিষয়ে জিয়াউর রহমান হল সংসদের জিএস ইসরাফিল হোসাইন বলেন, “আপনি হল প্রশাসনকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করেন। এটি আমার জানার বিষয় না।”

সংরক্ষিত সিটে রাজনৈতিক নেতাদের আবাসিকতা
বিশ্ববিদ্যালয়ের সিট বরাদ্দ নীতিমালা অনুযায়ী, মেধাবী, অর্থনৈতিকভাবে অসচ্ছল, প্রতিবন্ধী এবং নৃ-গোষ্ঠীভুক্ত শিক্ষার্থীদের জন্য মোট আসনের ১০ শতাংশ হল প্রাধ্যক্ষদের বিশেষ কোটায় সংরক্ষিত। তবে এই কোটার ব্যবহার নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষার্থীরা।
অভিযোগ রয়েছে, অনেক ক্ষেত্রে হল প্রাধ্যক্ষরা নিজেদের রাজনৈতিক মতাদর্শের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীদের এই সংরক্ষিত সিটগুলো বরাদ্দ দিয়ে থাকেন।
চলতি বছরের ১ মার্চ ছাত্রদলের নেতা আমির হামজা এবং ৫ এপ্রিল আসিফ উদ্দিনকে আমীর আলী হলে পৃথক নোটিশের মাধ্যমে এই ১০ শতাংশ বিশেষ কোটায় আবাসিকতা দেওয়া হয়। দুজনই রাকসু নির্বাচনে ছাত্রদল-সমর্থিত প্যানেল থেকে প্রার্থী ছিলেন।
এ বিষয়ে ছাত্রদল নেতা আমির হামজা বলেন, “এভাবে অনেকেই প্রাধ্যক্ষের জন্য সংরক্ষিত ১০ শতাংশ কোটায় সিট পেয়ে থাকে। আমার হলেই অনেকে এভাবেই আবাসিকতা পেয়েছে। আমরা রাজনীতি করি বিধায় আমাদের নিয়ে এমন নোংরামি হচ্ছে, অন্যদের নিয়ে কোনো কথা হচ্ছে না।”
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি মেহেদী মারুফ বলেন, “অতীতেও দরিদ্র কোটা ও অন্যান্য বিশেষ কোটার আওতায় সিট বরাদ্দে স্বজনপ্রীতি, রাজনৈতিক প্রভাব এবং বৈষম্যের অভিযোগ ছিল। প্রকৃত সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের পরিবর্তে রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে সিট বরাদ্দ দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
“তাই বিশেষ কোটা বহাল থাকলে যথাযথ যাচাই-বাছাই এবং কার্যকর তদারকি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। অন্যথায় এই ব্যবস্থার অপব্যবহার অব্যাহত থাকবে এবং এর গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হবে।”

ছাত্রত্ব শেষ হলেও থাকছেন হলে
বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক নীতিমালা অনুযায়ী, নিয়মিত ছাত্রত্ব শেষ হওয়ার পর হলে অবস্থানের সুযোগ নেই। তবে এই বিধানও যথাযথভাবে কার্যকর হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।
ছাত্রদলের সহবিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক নাসিম আহমেদের বিরুদ্ধে নিয়মিত ছাত্রত্ব শেষ হওয়ার পরও হলে অবস্থানের অভিযোগ ওঠেছে। তিনি পরিসংখ্যান বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং শহীদ জিয়াউর রহমান হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, বর্তমানে তিনি জিয়া হলের ৩২১ নম্বর কক্ষে অবস্থান করছেন।
গণরুম ব্যবস্থাপনাতেও রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ
জুলাই-পরবর্তী সময়ে আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের আবাসনের সুযোগ বাড়াতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলেদের হলগুলোতে গণরুম চালু করা হয়। তবে এই ব্যবস্থাও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত নয় বলে অভিযোগ করেছেন একাধিক ছাত্রসংগঠনের নেতারা।
তাদের দাবি, গণরুমে প্রথমে বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের অনুসারীদের থাকার সুযোগ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে তারা অন্য কক্ষে চলে গেলেও গণরুমের সিট কার্যত তাদের নিয়ন্ত্রণেই থেকে যায়। ফলে প্রকৃত আবাসনপ্রত্যাশীদের অনেক সময় ‘সিট খালি নেই’ বলে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র ইউনিয়নের কোষাধ্যক্ষ কায়সার আহমেদ বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক ব্যবস্থাপনায় এখনও নানা অসঙ্গতি রয়েছে। সম্প্রতি একটি হলে এমন একজনকে অবস্থান করতে দেখা গেছে, যার শিক্ষাজীবন অনেক আগেই শেষ হয়েছে। এটি হলের সিট ব্যবস্থাপনা এবং আবাসিক নীতিমালার বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করে।”
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের আহ্বায়ক ফুয়াদ রাতুল বলেন, “ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবির এই দুটি সংগঠনই জুলাই আন্দোলনে প্রত্যক্ষভাবে অংশ নিয়েছিল। অথচ তারাই আজ নিজেদের প্রভাব থাকা হলগুলোতে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হওয়ার বিনিময়ে সিট দিচ্ছে।”

তিনি অভিযোগ করেন, “হল প্রশাসন ও প্রাধ্যক্ষদের সহযোগিতা ছাড়া এসব কীভাবে সম্ভব? বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নীরব সমর্থন বা প্রশ্রয়ের কারণেই এসব কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।”
এর ফলে ভবিষ্যতে ক্যাম্পাসে আবারও দখলদারিত্ব ও অতীতের অপসংস্কৃতির পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
রাকসুর নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি পূরণে উদ্যোগ নেই
ছাত্রফ্রন্টের ফুয়াদ রাতুল বলেন, “বর্তমান ছাত্র সংসদ প্যানেলের অন্যতম নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি ছিল শতভাগ আবাসিকতা নিশ্চিত করা অথবা আবাসিক ভাতা প্রদান। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, ছাত্রত্ব শেষ হওয়ার পরও ছাত্র সংসদের কয়েকজন নেতা হলে অবস্থান করছেন।
“কোনো ছাত্রনেতার শিক্ষাজীবন শেষ হয়ে গেলে তার দায়িত্বে বহাল থাকা কিংবা হলে অবস্থান করা নীতিগতভাবেই প্রশ্নের জন্ম দেয়।”
এ বিষয়ে প্রশাসনের সহযোগিতা না পাওয়ার অভিযোগ রাকসুর সহসভাপতি (ভিপি) মুস্তাকুর রহমান জাহিদের। তিনি বলেন, “আমরা আবাসন ভাতার বিষয়টি নিয়ে প্রশাসন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং ইউজিসির সঙ্গে কথা বলেছি। তারা নেতিবাচক সাড়া দিয়েছে।”
তবে তারা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন দাবি করে তিনি বলেন, “আমাদের হাতে এখনও চার মাস আছে, আমরা উপাচার্যের সঙ্গে কথা বলেছি। পূর্ণাঙ্গ আবাসন কীভাবে করা যায়, সেটির একটা রোডম্যাপ করে আমরা তাকে দেখাবো।
“শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন গঠনমূলক মতামত নেওয়ার জন্য শিক্ষার্থীদের নিয়ে সেমিনারের আয়োজনও করব।"

অভিযোগ অস্বীকার
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি এবং রাকসুতে ছাত্রদলের প্যানেল থেকে ভিপি প্রার্থী শেখ নূর উদ্দিন আবীর বলেন, “এখন অবধি ছাত্রদল জোরপূর্বক সিট দখল করেছে বা কাউকে উচ্ছেদ করেছে- এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
“অনেক ক্ষেত্রে বড় ভাইয়ের অনুমতি নিয়ে ছোট ভাইরা একই কক্ষে বা সিটে ডাবলিং করে থাকছে। বিষয়টি এমন নয় যে কারও বৈধ সিট থেকে তাকে বের করে দিয়ে সেটি দখল করা হয়েছে।”
তিনি পাল্টা অভিযোগ করেন, “শিবিরের অনেক নেতা সিট বাতিল হওয়ার পরও বিভিন্ন হলে অবস্থান করছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যেন সব হলে একযোগে অভিযান পরিচালনা করে। এতে প্রকৃত চিত্র সামনে আসবে।
“বিশেষ করে ছাত্রলীগের যেসব নেতাকর্মী বর্তমানে পলাতক, তাদের অনেকের সিট এখনো বাতিল হয়নি এবং সেসব সিটে কারা অবস্থান করছে তা বেরিয়ে আসবে।”
ছাত্রদলের বিরুদ্ধে সিট দখলের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহীও।
তিনি বলেন, “আমাদের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এসব অভিযোগ আনা হচ্ছে। অভিযোগগুলোর কোনো সত্যতা নেই। বরং শিবির, রাকসু এবং হল সংসদের কারা নিয়মবহির্ভূতভাবে হলে অবস্থান করছে, শিগগিরই আমরা সেসব তথ্য তুলে ধরব।”
অন্যদিকে কৌশলে সিট দখলের অভিযোগকে অস্বীকার করেছেন শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মুজাহিদ ফয়সাল।
তিনি বলেন, “এমন একটি ঘটনাও দেখানো যাবে না, যেখানে আমাদের সুপারিশে কোনো শিক্ষার্থী হলে আবাসিকতা পেয়েছে। আমাদের বিরুদ্ধে যারা অভিযোগ করছেন, তারা যেন সুনির্দিষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করেন।”
প্রাধ্যক্ষদের রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে হলের সিট বরাদ্দে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার বিষয়ে প্রাধ্যক্ষ পরিষদের আহ্বায়ক এবং মাদার বখস হলে প্রাধ্যক্ষ শাহ হোসাইন আহমেদ মাহাদী বলেন, “হলে নীতিমালা অনুযায়ী আবাসিকতা দেওয়া হচ্ছে। নোটিশ ও ভাইভার মাধ্যমে সিট বরাদ্দ দেওয়া হয়। এতে মৌখিক সুপারিশে হলে কেউ অবস্থান করতে পারবে না। যদি এমন তথ্য থাকে তাহলে অবশ্যই প্রাধ্যক্ষ পরিষদ সেই বিষয়ে ব্যবস্থা নেবে।”
তিনি বলেন, প্রাধ্যক্ষের হাতে যেই ১০ শতাংশ সিট রয়েছে, সেটাও বিভিন্ন নিয়ম-নীতি অনুসরণ করেই বরাদ্দ দেওয়া হয়। দরিদ্র কোটায় কাউকে হলে সিট বরাদ্দ দিলে সেটা যথাযথ যাচাই করেই বরাদ্দ দেওয়া হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক আব্দুল আলীম বলেন, “হলের প্রাধ্যক্ষরা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক নীতিমালা অনুসারেই সিট বরাদ্দ দিচ্ছেন। প্রশাসন থেকে যে নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে, সেটিই অনুসরণ করা হচ্ছে। তবে যেসব শিক্ষার্থী নিয়ম না মেনে অবৈধভাবে হলে অবস্থান করছেন, তাদের বিরুদ্ধেও হল প্রশাসন ব্যবস্থা নিচ্ছে।”