Published : 02 Jul 2026, 06:31 PM
পদ্মা রেল সংযোগ সেতুর পিলারের নিচে মাটি কেটে নেওয়ার কাজে কোনো ধরনের ঝুঁকি নেই বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, নৌপরিবহন এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
বৃহস্পতিবার সকালে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার আলীগঞ্জ এলাকায় পদ্মা রেল সংযোগ সেতুর ভায়াডাক্টের নিচে চলমান ডিমোবিলাইজেশন কার্যক্রম পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এ কথা জানান।
মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, “পদ্মা রেল সেতুর ভায়াডাক্টের নিচে মাটি অপসারণের ফলে রেললাইন বা কাঠামোর কোনো ধরনের ঝুঁকি নেই। বরং এটি প্রকল্পের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, পরিবেশের স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার স্বার্থেই করা হচ্ছে।”
গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কিছু সংবাদে এমন প্রকাশ করা হয়েছে যেন অপরিকল্পিতভাবে ভায়াডাক্টের নিচ থেকে মাটি কাটা হচ্ছে এবং এতে রেলপথের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে। তবে এ ধরনের আশঙ্কার কোনো ভিত্তি নেই। প্রকল্পের নকশা অনুযায়ীই কাজ চলছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, ঢাকা থেকে মাওয়া পর্যন্ত ১৬ দশমিক ৭৬ কিলোমিটার দীর্ঘ ভায়াডাক্ট নির্মাণের সময় এলাকাটি জলাভূমি থাকায় ভারী যন্ত্রপাতি ও নির্মাণসামগ্রী পরিবহনের সুবিধার্থে অস্থায়ীভাবে মাটি ভরাট করা হয়েছিল।
“পৃথিবীর বিভিন্ন দেশেই এ ধরনের ভায়াডাক্ট নির্মাণে একই পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। প্রকল্প শেষ হলে চুক্তির শর্ত অনুযায়ী সেই অস্থায়ী ভরাট অপসারণ করে জায়গাটিকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়া হয়। বর্তমানে সেই কাজই চলছে।”
মন্ত্রী বলেন, “১৬ দশমিক ৭৬ কিলোমিটারের মধ্যে ইতোমধ্যে প্রায় ১৪ দশমিক ৪ কিলোমিটার এলাকায় অস্থায়ী ভরাট অপসারণ করা হয়েছে। এখন মাত্র প্রায় ২ দশমিক ৩৪ কিলোমিটার অংশের কাজ বাকি রয়েছে। এ সময়ই বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে, যা জনমনে অযথা উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।”
তিনি বলেন, “গড়ে প্রায় সাড়ে তিন ফুট মাটি অপসারণ করা হবে। এরপর ভূমি তার স্বাভাবিক স্তরে ফিরে যাবে। মূল মাটির স্তরেরও প্রায় সাত থেকে আট ফুট নিচে রয়েছে পাইল ক্যাপ, যার পুরুত্ব প্রায় ছয় ফুট। আর তারও নিচে রয়েছে প্রায় ২০০ ফুট গভীর পাইল। অর্থাৎ পুরো কাঠামো প্রকৌশলগতভাবে অত্যন্ত নিরাপদ এবং সবকিছু বিবেচনায় রেখেই নির্মাণ করা হয়েছে। তাই মাটি অপসারণের সঙ্গে ভায়াডাক্টের নিরাপত্তার কোনো নেতিবাচক সম্পর্ক নেই, বরং ইতিবাচক সম্পর্ক রয়েছে।”
এ কাজের মাধ্যমে এলাকার প্রাকৃতিক জলপ্রবাহ ও পরিবেশের স্বাভাবিক ভারসাম্য ফিরে আসবে বলেন তিনি।
স্থানীয়দের উদ্বেগকে যৌক্তিক আখ্যা দিয়ে মন্ত্রী বলেন, বিষয়টি তদারকি করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও হবে। সেনাবাহিনী ও বাংলাদেশ রেলওয়ে দেশের স্বার্থে দায়িত্বশীলভাবে কাজ করছে বলেও তিনি জানান।
পরিদর্শনে সড়ক পরিবহন ও রেল প্রতিমন্ত্রী, মন্ত্রণালয়ের সচিব, প্রকল্প পরিচালকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: