Published : 01 Jan 2026, 03:11 PM
গত কয়েক বছর ধরে সূর্যের ওপর বেশ ‘ধকল’ যাচ্ছে, আরও ভালো করে বললে সূর্য বেশ সক্রিয় অবস্থায় রয়েছে। ২০২৬ সালেও সূর্যের এই সক্রিয়তা থামবার কোনো লক্ষণই দেখা যাচ্ছে না।
আগামী বছর উত্তর গোলার্ধের মেরুজ্যোতি বা অরোরা বা ‘নর্দান লাইটস’ দেখার আরও বেশি সুযোগ তৈরি হতে যাচ্ছে। চমৎকার এই রঙিন আলোর খেলা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাজ্যের আকাশে অনেকবার দেখা গেছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে ব্রিটিশ পত্রিকা ইন্ডিপেনডেন্ট।
সূর্য ১১ বছরের একটি চক্রের মধ্য দিয়ে চলে। এ সময়ে এর সক্রিয়তা কখনও বাড়ে আবার কখনও কমে যায়। ২০২৪ সালের শেষ দিকে সূর্য এর সক্রিয়তার সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল। তবে এখনও ব্যস্ত বা সক্রিয় সময়ের মধ্য দিয়েই যাচ্ছে সূর্য।
এ সক্রিয় সময়ে সূর্য নিজের আশপাশে প্রচুর পরিমাণে পদার্থ ও শক্তি ছেড়ে দেয়। মাঝেমধ্যে সেই সৌরশিখা পৃথিবীতে এসে আঘাত করে ও আমাদের বায়ুমণ্ডলের সঙ্গে বিক্রিয়া ঘটায়।
সূর্যের এই সক্রিয়তা মাঝেমধ্যে বিপজ্জনক হতে পারে। ‘করোনাল মাস ইজেকশন’ বা সিএমই পৃথিবীর বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার ক্ষতি করতে পারে। যার ফলে বিদ্যুৎ বিভ্রাট বা ব্ল্যাকআউট হতে পারে।
তবে এগুলো আবার সুন্দরও হতে পারে, বিশেষ করে এ সিএমই থেকে আসা চার্জওয়ালা বিভিন্ন কণা পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের পরমাণু ও অণুর সঙ্গে বিক্রিয়া করে আকাশে মেরুজ্যোতি বা অরোরা তৈরি করে।
সাম্প্রতিক মাস ও বছরগুলোতে এমন ঘটনা অনেকবার ঘটেছে, যেখানে মেরুজ্যোতি দেখার বিষয়টি মানুষের মধ্যে নতুন করে উদ্দীপনা তৈরি করেছে। সূর্যের সক্রিয়তা যত বেশি শক্তিশালী হয় এ আলোর প্রভাব তেই উত্তর মেরু থেকে অনেক দূর পর্যন্ত স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ফলে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও এমন সব এলাকা থেকেও মেরুজ্যোতি দেখা যাচ্ছে, যেখানে সাধারণত এগুলো দেখা যাওয়ার কথাই নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা বলেছে, ২০৩১ সাল নাগাদ সূর্য নিজের ‘সোলার মিনিমাম’ বা সর্বনিম্ন সক্রিয়তায় পৌঁছাবে। তবে এখনও অত্যন্ত সক্রিয় অবস্থায় রয়েছে সূর্য। ফলে ২০২৬ সালেও আকাশে আরও বেশি মেরুজ্যোতি দেখার সম্ভাবনা রয়েছে।
বর্তমানে আগের চেয়ে বেশি মেরুজ্যোতি দেখা যাওয়ার কারণ কেবল সূর্য নয়, বরং প্রযুক্তির উন্নতিও। সূর্য প্রাণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও তুলনামূলকভাবে পৃথিবীর কাছাকাছি থাকার পরও এর ভেতরের অনেক প্রক্রিয়া এখনও বিজ্ঞানীদের কাছে রহস্যে ঘেরা।
তবে সূর্যের খুব কাছ দিয়ে উড়ে যাওয়া ‘পার্কার সোলার প্রোব’-এর মতো মহাকাশযান ব্যবহার করে চালানো গবেষণায় সূর্যের কর্মকাণ্ড আরও ভালোভাবে বোঝা যাচ্ছে এবং এ বিষয়ে আগেভাগেই আভাস দেওয়া সম্ভব হচ্ছে।
মহাকাশের আবহাওয়া আরও ভালোভাবে বোঝায় সূর্যের সক্রিয়তা পৃথিবীতে পৌঁছানোর আগেই তা শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে, যা বিশেষজ্ঞদের নিখুঁতভাবে জানাতে সাহায্য করেছে, কখন ও কোথায় মেরুজ্যোতি দেখা যাবে।
যুক্তরাজ্যের ‘মেট অফিস’ ও যুক্তরাষ্ট্রের ‘স্পেস ওয়েদার প্রেডিকশন সেন্টার’ উভয়ই সূর্যের ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখছে। ফলে মেরুজ্যোতি দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হলে তাৎক্ষণিক আপডেট দেবে তারা।