Published : 29 May 2026, 02:47 PM
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের দ্রুত অগ্রগতির ফলে বিশ্বজুড়ে চাকরির কোনো বড় ধরনের ‘মহাবিপর্যয়’ ঘটবে না বলে মন্তব্য করেছেন ওপেনএআই প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যান।
সিডনিতে এক সম্মেলনে তিনি আশ্বস্ত করেছেন, শুরুতে হোয়াইট-কলার বা দাপ্তরিক চাকরিগুলো বিলুপ্ত হওয়া নিয়ে তিনি নিজেই বেশ আশঙ্কায় ছিলেন বলে প্রতিবেদনে লিখেছে রয়টার্স।
তবে বাস্তবে কাজের ক্ষেত্রে মানুষের পারস্পরিক যোগাযোগের মতো ‘মানবিক দিকটি’ যে অপূরণীয় এ উপলব্ধি থেকে তার সেই ভয় এখন কেটে গেছে।
মঙ্গলবার সিডনিতে অস্ট্রেলিয়ার কমনওয়েলথ ব্যাংক-এর এক সম্মেলনে অল্টম্যান বলেছেন, বিশ্বজুড়ে কর্মসংস্থানের ওপর এআইয়ের প্রভাব কেমন হবে তা নিয়ে শুরুতে তিনিও বেশ চিন্তিত ছিলেন।
অল্টম্যান বলেছেন, ২০২২ সালে চ্যাটজিপিটি চালুর সময় প্রযুক্তির অগ্রগতি নিয়ে ওয়ানএআইয়ের কর্মীরা যে ধারণা করেছিলেন তা মোটামুটি মিলে গেছে। তবে এর সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাবের বিষয়ে তাদের ধারণা ‘বেশ ভুল’ প্রমাণিত হয়েছে।
সিবিএ-এর প্রধান নির্বাহী ম্যাট কমিনের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে অল্টম্যান বলেছেন, “এ বিষয়ে আমার ধারণা ভুল প্রমাণিত হওয়ায় আমি আনন্দিত। ভেবেছিলাম, এআইয়ের কারণে প্রাথমিক স্তরের দাপ্তরিক চাকরিগুলো যেভাবে বিলুপ্ত হয়ে যাবে তবে বাস্তবে এখনও তেমনটা ঘটেনি।
“বাস্তবে কেন এমন বড় কোনো বিপর্যয় ঘটেনি তা এখন আমি বুঝতে পারছি। এ জন্য আমি অবশ্যই কৃতজ্ঞ। তবে এমনটা সত্যি যে, এ নিয়ে আমার প্রাথমিক অনুমান ভুল ছিল।
“অনেকেই এখন আমাকে বলছেন, ‘আরে, আপনি তো তাহলে পৃথিবীকে অযথা ভয় আর হতাশার হাত থেকে বাঁচাতে পারতেন!’ তবে সে সময় আমার মনে হয়েছিল, চাকরি হারানো বাস্তব এক ঝুঁকি এবং আমাদের এই বিষয়ে কথা বলা উচিত। আর এ ঝুঁকি কিন্তু এখনও পুরোপুরি কেটে যায়নি।”
মঙ্গলবারের এ বক্তব্যে নির্দিষ্ট কোনো চাকরির সংখ্যা উল্লেখ করেননি অল্টম্যান। তবে এর আগে তিনি এআইয়ের অগ্রগতির কারণে বিভিন্ন শিল্প খাতে ব্যাপক ছাঁটাই হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন।
এরইমধ্যে এইচএসবিসি, অ্যামাজন, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ও সিবিএ-এর মতো বিশ্বের বড় কিছু কোম্পানি ঘোষণা করেছে, তাদের কোম্পানির কিছু পদের কাজ এখন মানুষের বদলে এআই দিয়ে করানো হচ্ছে।
এদিকে, ওপেনএআই আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে মার্কিন শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার জন্য আবেদনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে গত সপ্তাহে রয়টার্স এক সূত্রের বরাতে জানিয়েছে।
এর আগে, গেল বছরের অক্টোবরে রয়টার্স তাদের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছিল, কোম্পানিটি ১ ট্রিলিয়ন ডলার বাজারমূল্য পাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে এবং অন্তত ছয় হাজার কোটি ডলার পুঁজি তোলার পরিকল্পনা করছে।
‘মানবিক দিকটি’ অপূরণীয়
অল্টম্যান বলেছেন, তিনি এখন বুঝতে পেরেছেন, বিভিন্ন শিল্প ও চাকরিতে এআই দিন দিন যতই সক্রিয় ভূমিকা নিক না কেন মানব কর্মীর এমন এক ‘মানবিক দিক’ রয়েছে, যা কখনোই প্রতিস্থাপন করা সম্ভব নয়।
এর মাঝখানে তিনি নিজের স্ল্যাক ও ইমেইল বার্তার জবাব দেওয়ার জন্য এআই ব্যবহার করা শুরু করেছিলেন। তবে পরবর্তীতে তিনি আবারও নিজেই সেগুলোর উত্তর দেওয়া শুরু করেছেন।
অল্টম্যান বলেছেন, “আমি মেসেজের উত্তর দেওয়ার জন্য এআই ব্যবহার করতাম এবং সেখানে লেখা থাকত ‘স্যামের এআই’। এ ঘটনা আমার জন্য চমৎকার শিক্ষা ছিল, যেখানে আমি আসলেই বুঝতে পেরেছি, মানুষের গুরুত্ব কতখানি।
“অন্য মানুষের সঙ্গে আমাদের এ মিথস্ক্রিয়াকে আমরা সত্যিই খুব প্রাধান্য দিই। আর এ যোগাযোগের পেছনে আমার সময়ের একটা বড় অংশ ব্যয় হয়। ফলে শিগগিরই আমি এ কাজটি কোনো এআইয়ের হাতে ছেড়ে দেওয়ার কথা ভাবতেই পারছি না।”
এ উপলব্ধি থেকেই অল্টম্যান এখন দাবি করছেন, বিভিন্ন চাকরিতে মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের যে প্রয়োজন পড়ে তা এআই দিয়ে কখনো প্রতিস্থাপন করা যাবে না।
“ইতিবাচক ও নেতিবাচক উভয় দিক থেকেই এ অভিজ্ঞতাটি আমার চিন্তাভাবনা বদলে দিয়েছে এবং এখন আমার মনে হচ্ছে চাকরির ভবিষ্যৎ চিত্রটি আমরা যেমনটা ভেবেছিলাম তার চেয়ে বেশ আলাদা হবে।
“আমাদের খাতের কিছু কোম্পানি যেভাবে আশঙ্কা বা আলোচনা করছে বিশ্বজুড়ে চাকরি ক্ষেত্রে তেমন কোনো বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটবে না বলেই আমার ধারণা।”