Published : 26 Dec 2025, 12:13 PM
জেনারেটিভ এআই বিপ্লবে উঠে আসা আলোচিত প্রবণতাগুলোর একটি ভাইব কোডিং। এআই চ্যাটবটের সঙ্গে সাধারণ কথোপকথনের মতো অভিজ্ঞতা দিয়ে কোড তৈরি করার এই পদ্ধতি দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এখানে এআইয়ের কাছে কোনো উত্তর খোঁজা বা ছবি তৈরির বদলে সরাসরি সফটওয়্যার বা অ্যাপ্লিকেশনের কোড তৈরি করে নেওয়া যায়।
এখন পর্যন্ত ভাইব কোডিং প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ‘লাভেবল’, ‘কার্সর’ ও ‘রিপ্লিট’ শীর্ষস্থান ধরে রাখলেও ‘ক্লড ওপাস’-এর মতো বিভিন্ন এআই মডেলও এই ক্ষেত্রে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এবার নিজেদের নতুন ভাইব কোডিং প্ল্যাটফর্ম ‘ওপাল’ নিয়ে এই প্রতিযোগিতায় যোগ দিল মার্কিন সার্চ জায়ান্ট গুগল।
ভাইব কোডিংয়ে ব্যবহারকারীকে আলাদাভাবে প্রোগ্রামিং বা কোডিং শেখার প্রয়োজন হয় না। সাধারণ ভাষায় কী বানাতে চান তা এআইকে জানালেই পুরো কোডটি লিখে দেয় সিস্টেম।
ব্যবহারকারীরা এখন সরাসরি ডেস্কটপ থেকে গুগলের এআই চ্যাটবট জেমিনাইয়ের ড্যাশবোর্ড ব্যবহার করে ওপালের ভাইব কোডিং সুবিধা নিতে পারবেন বলে জানিয়েছে প্রযুক্তি সাইট স্ল্যাশগিয়ার।
এ বছরের জুলাইয়ে প্রথমবার ওপালের পরিচিতি দেয় গুগল। নভেম্বরের মধ্যে একশ ৬০টিরও বেশি দেশে বড় পরিসরে চালু হয় প্ল্যাটফর্মটি। এর আগে ‘ওপালডটগুগল’ নামে একটি পরীক্ষামূলক ওয়েবসাইটে আলাদাভাবে পাওয়া যেত এই টুল। এখন ব্যবহারকারী চাইলে জেমিনাইয়ের ওয়েব ইন্টারফেইসের ভেতর থেকেই সরাসরি ওপাল ব্যবহার করতে পারবেন।
গুগল ওপালকে আলাদা কোনো মোড হিসেবে নয়, বরং জেমিনাইয়ের মূল অভিজ্ঞতার অংশ হিসেবে একটি কাস্টম ‘জেম’ আকারে যুক্ত করেছে। তবে যারা আরও উন্নত বা অ্যাডভান্সড কন্ট্রোল চান, তাদের জন্য আগের ‘ওপালডটগুগল’ সাইটটি আগের মতোই চালু থাকছে এবং সেটিই ব্যবহারকারীর সব কার্যক্রমের কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে।
অন্যান্য ভাইব কোডিং প্ল্যাটফর্মের তুলনায় ওপাল কিছুটা ভিন্ন। এটি মূলত একটি ‘নো কোড’ প্ল্যাটফর্ম, যেখানে ব্যবহারকারী এআইচালিত পণ্য তৈরি করলেও তাকে সরাসরি কোনো কোড দেখতে হয় না।
এ ছাড়া ওপাল বিশেষভাবে ‘মিনি-অ্যাপ’ তৈরির জন্য ডিজাইন করেছে গুগল। এই মিনি-অ্যাপগুলো সরাসরি ওয়েবে চলে, সাধারণ অ্যান্ড্রয়েড বা আইওএস অ্যাপের মতো অ্যাপ স্টোরে প্রকাশ করার প্রয়োজন পড়ে না। ব্যবহারকারী অন্যদের তৈরি করা বিভিন্ন মিনি-অ্যাপ ব্যবহার করতে পারেন এবং সেগুলোর কাজের ধারা বদলে নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী কাস্টমাইজ করতে পারেন। এসব মিনি-অ্যাপ দিয়ে ওয়েব রিসার্চ, টেক্সট জেনারেশন কিংবা ছবি ও ভিডিও তৈরির মতো কাজও করা যায়।
ওপাল দিয়ে অ্যান্ড্রয়েড, আইওএস, উইন্ডোজ বা ম্যাক ডিভাইসের জন্য সরাসরি নেটিভ অ্যাপ তৈরি করা যায় না। এর বদলে ওপাল ওয়েবভিত্তিক মিনি-অ্যাপ তৈরি করে, যা একটি ওয়েব কন্টেইনারের মধ্যে চলে এবং ব্যবহারকারীর গুগল অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত থাকে। ধারণাটি অনেকটা চ্যাটজিপিটির ‘কাস্টম জিপিটি’ বা জেমিনাইয়ের ‘জেম’ তৈরির মতো।
ওপালকে জেমিনাইয়ের একটি বিশেষ সংস্করণ হিসেবে দেখা যায়, যেখানে নির্দিষ্ট কাজের নির্দেশনা আগে থেকেই সেট করা থাকে। জেম ও ওপালের মধ্যে মূল পার্থক্য হলো, ওপালের মাধ্যমে তৈরি মিনি-অ্যাপ নির্দিষ্ট কাজের ধারায় গুগলের একাধিক এআই মডেল একসঙ্গে ব্যবহার করতে পারে।
গুগলের ভাষায়, ওপালের মূল লক্ষ্য মাল্টি-মোডাল এআই ব্যবহারের সুযোগ বাড়ানো এবং কাজের বিভিন্ন ধাপে প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক মডেল ব্যবহার নিশ্চিত করা। ব্যবহারকারী চাইলে এমন মিনি-অ্যাপ তৈরি করতে পারেন, যা কোনো একটি বিষয় বা অনুচ্ছেদ গ্রহণ করে সেটি নিয়ে বিস্তারিত গবেষণা করবে, পরে সেই তথ্য শিক্ষা উপকরণে রূপান্তর করবে এবং একই সঙ্গে স্লাইড বা ছোট ইন্টারঅ্যাক্টিভ ভিডিও তৈরি করবে।
এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ব্যবহারকারী বহু ধাপের ‘এআই এজেন্ট’ও তৈরি করতে পারবেন, যেখানে প্রতিটি ধাপ নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী নিয়ন্ত্রণ করার সুযোগ থাকবে।