Published : 08 Jan 2026, 12:05 PM
নাসার হাবল স্পেস টেলিস্কোপ ব্যবহার করে মহাকাশে এক নতুন ধরনের মহাজাগতিক বস্তুর সন্ধান পেয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা।
নতুন বস্তুটি একটি ‘ব্যর্থ ছায়াপথ’ বলে ধারণা তাদের।
ছায়াপথে সাধারণত কোটি কোটি তারা থাকে। তবে এ নতুন আবিষ্কৃত বস্তুটি ছায়াপথের মতো বিশাল হলেও এতে পর্যাপ্ত তারা নেই বলে একে ‘ব্যর্থ ছায়াপথ’ বলছেন বিজ্ঞানীরা।
‘ক্লাউড-৯’ নামের এ অদ্ভুত মহাজাগতিক বস্তুটি পৃথিবী থেকে এক কোটি ৪০ লাখ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত। মূলত ‘ডার্ক ম্যাটার’ দিয়ে তৈরি একটি মেঘ, যার ভেতরে কোনো তারা নেই বলে প্রতিবেদনে লিখেছে ব্রিটিশ পত্রিকা ইন্ডিপেনডেন্ট।
প্রথমবার এমন কোনো মহাজাগতিক বস্তুর সন্ধান পাওয়া গেল, যা বিজ্ঞানীদের আদি মহাবিশ্ব ও ডার্ক ম্যাটারের প্রকৃতি সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পেতে সাহায্য করতে পারে।
ইতালির ‘মিলানো-বিকোকা ইউনিভার্সিটি’র গবেষক ও এ প্রকল্পের প্রধান অনুসন্ধানকারী আলেজান্দ্রো বেনিতেজ-ল্যাম্বায় বলেছেন, “বস্তুটি ব্যর্থ এক ছায়াপথের গল্প, যেটি ছায়াপথ হওয়ার পথে থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা হতে পারেনি।”
“বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে আমরা সাধারণত সাফল্যের চেয়ে ব্যর্থতা থেকেই বেশি শিখতে পারি। এ বিষয়টির ক্ষেত্রে, কোনো তারা দেখতে না পাওয়াটাই প্রমাণ করে যে, আমাদের তত্ত্বটি সঠিক। এ আবিষ্কার আমাদের জানাচ্ছে, আমাদের আশপাশের মহাবিশ্বেই এমন এক আদিম উপাদান খুঁজে পেয়েছি আমরা, যার একটি ছায়াপথ তৈরির মূল ভিত্তি হওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা গঠিত হতে পারেনি।”
বস্তুটি ‘রিআয়নাইজেশন-লিমিটেড এইচ আই ক্লাউড’ বা সংক্ষেপে ‘রেলহিক’ নামে পরিচিত। বিজ্ঞানীরা অনেক বছর ধরেই তাত্ত্বিকভাবে ধারণা করে এসেছেন, মহাবিশ্বের শুরুর দিকে ছায়াপথ তৈরির সময়কার কোনো অবশিষ্টাংশ দেখতে ঠিক এমনই হবে।
ইউরোপীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা বা ইএসএ-এর গবেষক র্যাচেল বিটন বলেছেন, “আমাদের প্রতিবেশী বিভিন্ন ছায়াপথের আশপাশে এ ধরনের কয়েকটি পরিত্যক্ত বাড়ি থাকবে বলেই আশা করেছিলেন।”
এ আকস্মিক আবিষ্কারটি ডার্ক ম্যাটারের ভৌত বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে এক অনন্য ধারণা দিচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, ভবিষ্যতে এর মাধ্যমে আরও অনেক ‘ব্যর্থ ছায়াপথের’ সন্ধান মিলবে।
মহাবিশ্বের সমস্ত পদার্থের প্রায় ৮৫ শতাংশ ডার্ক ম্যাটার। তবে টেলিস্কোপ দিয়ে একে দেখা অসম্ভব। কারণ ডার্ক ম্যাটার কোনো আলো নির্গত, শোষণ বা প্রতিফলনও করে না।
‘ক্লাউড-৯’-এ কোনো তারা না থাকার ফলে বিশুদ্ধ এক ডার্ক ম্যাটার ‘হেলো’ বা বলয় পর্যবেক্ষণের সুযোগ পাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। এখানে কোনো তারার আলো নেই বলে পর্যবেক্ষণে কোনো ধরনের বিঘ্ন বা বাধাও তৈরি হচ্ছে না।
ইএসএ-এর ‘অ্যাসোসিয়েশন অফ ইউনিভার্সিটিজ ফর রিসার্চ ইন অ্যাস্ট্রোনমি/স্পেস টেলিস্কোপ সায়েন্স ইনস্টিটিউট’-এর গবেষক অ্যান্ড্রু ফক্স বলেছেন, “মেঘটি অন্ধকার মহাবিশ্বের দিকে তাকানোর একটি জানালা।
“আমরা তাত্ত্বিকভাবে জানি, মহাবিশ্বের অধিকাংশ ভরই ডার্ক ম্যাটার বলে ধারণা করা হয়। তবে এসব ডার্ক পদার্থ শনাক্ত করা অত্যন্ত কঠিন। কারণ এগুলো কোনো আলো ছড়ায় না। আমাদের ডার্ক ম্যাটারওয়ালা মেঘ দেখার এক বিরল সুযোগ করে দিয়েছে এই বস্তু।”