Published : 05 Jun 2025, 01:34 PM
অনেকের জন্য সকাল পার করতে এক বা দুই কাপ কফির প্রয়োজন। তবে গবেষণা বলছে, নারীদের বয়স বাড়ার সময় তাদের স্বাস্থ্যকর রাখতে সাহায্য করতে পারে ক্যাফেইনসমৃদ্ধ এই পানীয়টি।
৩২ বছর ধরে প্রায় ৫০ হাজার নারীর ওপর চালানো এ গবেষণায় উঠে এসেছে, যারা মাঝ বয়সে ক্যাফেইনওয়ালা কফি পান করতেন তাদের বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানসিকভাবে তীক্ষ্ণ, শারীরিকভাবে শক্তিশালী ও সুস্থ থাকার সম্ভাবনা ছিল বেশি।
তবে চা বা ডিক্যাফ বা ক্যাফেইনমুক্ত কফির সঙ্গে এমন কোনো উপকারের যোগসূত্র খুঁজে পাননি গবেষকরা।
তারা আরও বলেছেন, ক্যাফেইনওয়ালা সফট ড্রিংক যেমন কোলা পান করলে স্বাস্থ্যকরভাবে বয়স বাড়ার সম্ভাবনা অনেক কমে যায়।
‘হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি’র পোস্ট ডক্টরাল গবেষক ড. সারা মাহদাভি বলেছেন, “আগের বিভিন্ন গবেষণায় কফির সঙ্গে আলাদা আলাদা স্বাস্থ্য উপকারের সম্পর্ক মিলেছিল। তবে আমাদের গবেষণাটিই প্রথম, যেখানে তিন দশক ধরে বয়স বাড়ার বিভিন্ন দিকের ওপর কফির প্রভাব একসঙ্গে বিশ্লেষণ করেছি আমরা।
“গবেষণার ফলাফলে ইঙ্গিত মিলেছে, চা বা ডিক্যাফ নয়, বরং ক্যাফেইনওয়ালা কফি বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানসিক ও শারীরিক সক্ষমতা ধরে রাখতে বিশেষভাবে সহায়ক।”
এ গবেষণায় ১৯৮৪ সাল থেকে প্রতি চার বছর অন্তর ৪৭ হাজার ৫১৩ জন নারীর খাদ্যাভ্যাস ও স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করেছেন গবেষকরা। তারা ‘সবাই নার্সেস হেলথ স্টাডি’র অংশ ছিলেন।
গবেষকরা খাদ্যাভ্যাস বিষয়ক প্রশ্নপত্রের মাধ্যমে তাদের ক্যাফেইন গ্রহণের মাত্রা নির্ধারণ করেন, যেখানে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে কফি, চা, কোলা ও ডিক্যাফ কফির মতো ক্যাফেইনওয়ালা প্রধান পানীয়র পরিমাণের ওপর।
গবেষণায় স্বাস্থ্যকরভাবে বয়স বাড়া বলতে বোঝানো হয়েছে ৭০ বছর বা তার বেশি বয়স পর্যন্ত বেঁচে থাকা, বিশেষ করে ১১টি বড় ধরনের দীর্ঘমেয়াদি রোগ থেকে মুক্ত থাকা, মানসিকভাবে সুস্থ থাকা, শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকা ও কোনো মানসিক দুর্বলতা বা স্মৃতিভ্রষ্টতার সমস্যা না থাকা।
২০১৬ সাল নাগাদ তিন হাজার সাতশ ৬ জন নারী ওপরের সব শর্ত পূরণ করেছেন। এদের মধ্যে বেশিরভাগই দিনে গড়ে প্রায় ৩১৫ মিলিগ্রাম ক্যাফেইন গ্রহণ করতেন, যা সাধারণভাবে তিনটি ছোট কাপ কফি বা বড় দেড় কাপ কফির সমান।
গবেষণায় উঠে এসেছে, প্রতিদিন একজন নারী যদি এক কাপ বেশি কফি পান করেন তাহলে তার বয়স বাড়ার পর সুস্থ থাকার সুযোগ ২ থেকে ৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়। এ সুবিধা পাঁচ কাপ কফি পর্যন্ত বাড়তে পারে, যা আজকের পরিমাপে প্রায় আড়াই কাপের সমান।
গবেষণায় আরও উঠে এসেছে, প্রতিদিন একটি অতিরিক্ত ছোট গ্লাস ফিজি বা সফট ড্রিংকস পান করলে স্বাস্থ্যকরভাবে বয়স বাড়ার সম্ভাবনা ২০ থেকে ২৬ শতাংশ কমে যায়।
দিনে দুই কাপ কফি বেশিরভাগ মানুষের জন্যই উপকারী
গবেষকরা বলেছেন, দিনে দুই কাপ পর্যন্ত কফি পান বেশিরভাগ মানুষের জন্য উপকারী হতে পারে। তবে কেউ কেউ আরও বেশি কফি পান থেকে অতিরিক্ত সুবিধা পেলেও সবার জন্য এমনটি স্বাস্থ্যকর না-ও হতে পারে।
তারা বলেছেন, কফিতে অনেক ধরনের যৌগ থাকে যা একসঙ্গে কাজ করে বয়স বৃদ্ধির প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে। কীভাবে কফির নির্দিষ্ট সক্রিয় বিভিন্ন যৌগ জিনগত ও শারীরবৃত্তীয় চিহ্নের সঙ্গে বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে সাড়া দেয় তা নিয়ে ভবিষ্যতে গবেষণা করতে চান তারা।
ড. মাহদাভি বলেছেন, “গবেষণার এসব ফলাফল প্রাথমিক অবস্থায় থাকলেও এর থেকে ইঙ্গিত মিলেছে, ছোট ছোট নিয়মিত অভ্যাস দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্য গড়তে সাহায্য করতে পারে।
“নিয়মিত ব্যায়াম, সুষম খাদ্য ও ধূমপান পরিহারের মতো অন্যান্য স্বাস্থ্যকর অভ্যাসের সঙ্গে মিলিয়ে কফি পান করলে মাঝারি পরিমাণে কফি স্বাস্থ্যের জন্য কিছু সুরক্ষামূলক সুবিধা দিতে পারে।”
এনএইচএস বলেছে, অধিকাংশ বয়স্ক মানুষের জন্য দিনে প্রায় ৪০০ মিলিগ্রাম ক্যাফেইন বা প্রায় চার কাপ কফি গ্রহণ সাধারণত নিরাপদ হিসেবে বিবেচিত হয়।