Published : 07 Nov 2025, 02:05 PM
এখন পর্যন্ত রেকর্ড করা সবচেয়ে উজ্জ্বল ব্ল্যাক হোলের ‘ফ্লেয়ার’ বা আলোক বিচ্ছুরণ পর্যবেক্ষণ করেছেন বিজ্ঞানীরা, যার উজ্জ্বলতা ১০ ট্রিলিয়ন বা ১০ লাখ কোটি সূর্যের আলোর সমান বলে দাবি তাদের।
মহাজাগতিক ঘটনা সম্পর্কে এসব তথ্য সত্যিই বিস্ময়কর, যেখানে মানুষের মস্তিষ্কের পক্ষে এত বড় সংখ্যাকে কল্পনা করাও কঠিন, এমনকি মিলিয়ন বা বিলিয়নের মতো স্কেলও পুরোপুরি বোঝা সহজ নয় বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি বিষয়ক সাইট এনগ্যাজেট।
তবে বিজ্ঞানীরা এখন পর্যন্ত রেকর্ড করা সবচেয়ে বড় ও সবচেয়ে দূরবর্তী ব্ল্যাক হোলের আলোক-বিচ্ছুরণ পর্যবেক্ষণ করেছেন, যা আমাদের পৃথিবী থেকে ১ হাজার কোটি আলোক-বর্ষ দূরে অবস্থিত।
ঘটনাটি এক ‘অ্যাকটিভ গ্যালাকটিক নিউক্লিয়াস’ বা এজিএন-এ ঘটেছে, যা তারা খেকো ব্ল্যাক হোল হিসাবেও পরিচিত। বিজ্ঞানীদের ধারণা, এ সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাক হোলটি আমাদের সূর্যের চেয়ে প্রায় ৫০ কোটি গুণ বেশি ভারী।
গবেষকদের অনুমান, এমন আলোক-বিচ্ছুরণের ঘটনা ‘টাইডাল ডিসরাপশন ইভেন্ট’-এর কারণে হয়েছে, যেখানে একটি তারা ব্ল্যাক হোলের খুব কাছাকাছি চলে এলে এর বিশাল মহাকর্ষীয় শক্তি সেই তারাটিকে গিলে ফেলে। ব্ল্যাক হোলটির গিলে খাওয়া তারাটির ভর আমাদের সূর্যের ৩০ গুণ।
‘ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি’ বা ক্যালটেক এক ব্লগ পোস্টে লিখেছে, ‘সবচেয়ে উজ্জ্বল অবস্থায় ব্ল্যাক হোলটি ১০ ট্রিলিয়ন বা ১০ লাখ কোটি সূর্যের আলোর মতো জ্বলে উঠেছিল’।
‘ক্যালটেক’-এর জ্যোতির্বিজ্ঞান বিভাগের গবেষণা অধ্যাপক ও ‘জুইকি ট্রানজিয়েন্ট ফেসিলিটি’-এর প্রকল্প বিজ্ঞানী এবং এ গবেষণার সহ-প্রধান গবেষক ম্যাথিউ গ্রেহাম বলেছেন, “এরকম অ্যাকটিভ গ্যালাকটিক নিউক্লিয়াস আমরা আগে কখনও দেখিনি”।
২০১৮ সালে প্রথমবারের মতো ‘কাতালিনা রিয়াল-টাইম ট্রানজিয়েন্ট সার্ভে’র সঙ্গে মিলে এ ব্ল্যাক হোলটিকে পর্যবেক্ষণ করেছিল ‘জুইকি ট্রানজিয়েন্ট ফেসিলিটি’।
এ অ্যাকটিভ গ্যালাকটিক নিউক্লিয়াস বা এজিএন ও এর অত্যন্ত শক্তিশালী আলোক বিচ্ছুরণ নিয়ে করা গবেষণাটি প্রকাশ পেয়েছে বিজ্ঞানভিত্তিক জার্নাল ‘নেচার অ্যাস্ট্রোনমি’-তে।
গবেষকরা বলছেন, মহাবিশ্বের ‘তরুণ বয়সের’ ছবি দেখাতে আমাদের সাহায্য করেছে এ আবিষ্কার। পাশাপাশি বিভিন্ন সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাক হোল কীভাবে নিজেদের পরিবেশের ওপর প্রভাব ফেলে সে সম্পর্কেও নতুন তথ্য দিয়েছে এ গবেষণা।