Published : 26 May 2026, 06:05 PM
তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে ইতিহাসের দীর্ঘতম ডিজিটাল ব্ল্যাকআউট বা শাটডাউন কাটিয়ে অবশেষে আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট সেবা চালুর ঘোষণা দিয়েছে ইরান।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর গত ফেব্রুয়ারি থেকে বন্ধ থাকা শাটডাউন তুলে নেওয়ার সরকারি নির্দেশ এলেও কড়া নজরদারি ও কড়াকড়ির কারণে দেশটির সাধারণ মানুষের ইন্টারনেট ব্যবহারের সংকট এখনও পুরোপুরি কাটেনি বলে প্রতিবেদনে লিখেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেনডেন্ট।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুসারে, দেশটিতে সরকারের চাপিয়ে দেওয়া প্রায় তিন মাসের ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট অবশেষে শেষ হতে যাচ্ছে।
সোমবার স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো বলেছে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট সেবা পুনরায় চালুর জন্য সরকারি এক আদেশ জারি করেছেন।
তবে স্বাধীন পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলোর দাবি, ইন্টারনেট সেবা এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ফেব্রুয়ারির শেষদিকে দেশজুড়ে এ ব্ল্যাকআউট জারি করেছিল ইরান। কেবল কয়েক সপ্তাহ আগেই, অর্থাৎ জানুয়ারিতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের জেরে দেওয়া এ ইন্টারনেট নিষেধাজ্ঞা কিছুটা শিথিল করা হয়েছিল।
ইরানের ফার্স নিউজ এজেন্সি বলেছে, প্রেসিডেন্টের এ আদেশটি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে পৌঁছানোর পর এবং এর বাস্তবায়ন শুরু হলেই ব্ল্যাকআউট পুরোপুরি তুলে নেওয়া হবে।
টানা ৮৮ দিনেরও বেশি সময় ধরে চলা এ নিষেধাজ্ঞাটি ইরানের ইতিহাসে দীর্ঘতম দেশব্যাপী ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট। একইসঙ্গে বিশ্বজুড়ে রেকর্ড হওয়া দীর্ঘতম ইন্টারনেট শাটডাউনগুলোর মধ্যেও অন্যতম।
তবে এ নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হলেও কিছু বিধিনিষেধ বহাল থাকবে।
ইরানি শাসনব্যবস্থার জন্য হুমকি, এমন কোনো বিদেশি গণমাধ্যম বা ইন্টারনেট সেবা যেন নাগরিকরা ব্যবহার করতে না পারেন, তা নিশ্চিত করতেই এ কঠোরতা ধরে রাখবে দেশটি।
সোমবার বিশ্বজুড়ে ইন্টারনেট সেবা পর্যবেক্ষক কোম্পানি ‘নেটব্লকস’ বলেছে, “ইরানে ইন্টারনেট সংযোগ এখনও বিচ্ছিন্ন রয়েছে। ডিজিটাল ব্ল্যাকআউট এখন ৮৮তম দিনে পড়েছে, যার ফলে বাইরের বিশ্ব থেকে দেশটি ২ হাজার ৮৮ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে।
“পরিসংখ্যান নিশ্চিত করছে, গতকাল ইন্টারনেট সেবা চালুর বিষয়ে প্রেসিডেন্টের আদেশ দেওয়ার পরও এ শাটডাউন বা নিষেধাজ্ঞা এখনও ওঠেনি।”
নেটব্লকস-এর মতে, এ ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের কারণে দেশটিতে মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো বিভিন্ন বিষয়ের স্বচ্ছতা পুরোপুরি নষ্ট হয়েছে। পাশাপাশি দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্যকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে এই ব্লাকআউট।
ইন্টারনেট নিষেধাজ্ঞার ফলে স্থানীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছে না। ফলে, যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে থাকা অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞায় জর্জরিত ইরানের অর্থনীতি বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়েছে।
এদিকে, মানবাধিকার কর্মীরা এ ব্ল্যাকআউট এড়ানোর বিকল্প পথ খুঁজে বের করেছেন বলে জানা গেছে।
ইলন মাস্কের মহাকাশ কোম্পানি স্পেসএক্স-এর স্যাটেলাইট ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক থেকে সিগনাল পাওয়ার জন্য তারা গোপনে দেশে ‘স্টারলিংক’ রিসিভার নিয়ে আসছেন।
ইরানে ১৯৯৪ সাল থেকে স্যাটেলাইট ডিশের ব্যবহার নিষিদ্ধ। দেশটির কর্তৃপক্ষের দাবি, এসব ডিশ মানুষের ‘নৈতিকতা ও সংস্কৃতির অবক্ষয় ঘটায়’।
বর্তমানে ইরানে কেউ স্টারলিংক ব্যবহার করতে গিয়ে ধরা পড়লে তার সর্বোচ্চ দুই বছর পর্যন্ত জেল হতে পারে।
তবে ‘উইটনেস’ নামের এক মানবাধিকার সংগঠনের অনুমান, কড়া নিষেধাজ্ঞার পরও দেশটিতে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ এই সেবা ব্যবহার করছেন।
এ নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও সরকারবিরোধী ব্যাপক বিক্ষোভের মধ্যে এ বছরের শুরুর দিকে স্পেসএক্স ইরানের এ অবৈধ স্টারলিংক ব্যবহারকারীদের জন্য সাবস্ক্রিপশন ফি বা মাসিক খরচ মওকুফ করে দিয়েছিল।