Published : 09 Jun 2026, 11:51 AM
মহাকাশ বিজ্ঞানের সঙ্গে এবার যোগ হল ফ্যাশন ব্র্যান্ড প্রাডা। নাসার আগামী চন্দ্রাভিযানে নভোচারীদের জন্য বিশেষ স্যুট উন্মোচন করেছে ইতালীয় শীর্ষ ফ্যাশন ব্র্যান্ডটি।
রয়টার্স লিখেছে, মহাকাশ অবকাঠামো নির্মাতা কোম্পানি ‘অ্যাক্সিওম স্পেস’-এর সঙ্গে যৌথভাবে তৈরি এ আধুনিক ও আরামদায়ক পোশাকটির মাধ্যমে মহাকাশ পর্যটন ও ফ্যাশন শিল্পে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল প্রাডা।
রোববার নাসার নভোচারীদের জন্য ভেতরে পরার বিশেষ এক পোশাক উন্মোচন করেছে ইতালীয় ফ্যাশন ব্র্যান্ডটি, যা তারf আগামী চন্দ্রাভিযানে পরবেন।
এ পদক্ষেপের মাধ্যমে মহাকাশ শিল্পে প্রথম কোনো শীর্ষ সারির বিলাসবহুল ব্র্যান্ড হিসেবে নিজেদের আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টাকে আরও একধাপ এগিয়ে নিল প্রাডা।
হিউস্টনভিত্তিক মহাকাশ অবকাঠামো নির্মাতা কোম্পানি অ্যাক্সিওম স্পেসের সঙ্গে যৌথভাবে তৈরি এ আঁটসাঁট পোশাকটির ভেতরে বিশেষ ধরনের বাতাস চলাচলের টিউব বুনে দেওয়া হয়েছে।
ম্যানহাটনে প্রাডার নিজস্ব শোরুমে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রাডার প্রধান বিপণন কর্মকর্তা লরেঞ্জো বার্টেলি পাশে থাকা ডেমো মূর্তির গায়ে জড়ানো নতুন শীতলীকরণ ও বাতাস চলাচলকারী পোশাকটি দেখিয়ে বলেছেন, “আমাদের আসলেই এ কাজের দক্ষতা ও জ্ঞান রয়েছে।”
মহাকাশ গবেষণার পণ্য তৈরির এ অভিনব মেলবন্ধন নিয়ে অ্যাক্সিওম স্পেসের সিইও জোনাথন সার্টেইন বলেছেন, মহাকাশ গবেষণার পণ্য তৈরির দক্ষতা “বাইরে থেকে সম্পর্কহীন মনে হওয়া অনেক শিল্প খাত থেকেও তা আসতে পারে।”
এর আগে, ২০২৪ সালে এক জমকালো স্পেসস্যুট উন্মোচন করে মহাকাশ ফ্যাশনের জগতে প্রথম সাড়া ফেলেছিল প্রাডা।
২০২৮ সালে নাসার প্রতীক্ষিত ‘আর্টেমিস চার’ চন্দ্রাভিযানে সেই স্যুটটি ব্যবহারের কথা রয়েছে। এবার তারই ধারাবাহিকতায় পোশাকের ভেতরের এ বিশেষ স্তরটি সামনে নিয়ে এল ফ্যাশন ব্র্যান্ডটি।
‘নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটির স্টার্ন স্কুল অফ বিজনেস’-এর লাক্সারি ব্র্যান্ড স্ট্র্যাটেজিস্ট ও মার্কেটিংয়ের অধ্যাপক থোমাই সারদারি বলেছেন, বিলাসবহুল বিভিন্ন ব্র্যান্ড দীর্ঘদিন ধরেই মহাকাশ ভ্রমণ থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে আসছে। তবে মহাকাশ গবেষণা ও মহাকাশ পর্যটন শিল্পের বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে প্রাডা কেবল ‘অনুপ্রেরণার গণ্ডি পেরিয়ে বাস্তবসম্মত পার্টনারশিপের’ দিকে এগিয়ে গেছে।
মহাকাশ শিল্পের প্রতি প্রাডার এ আগ্রহের পেছনে সারদারি দুটি মূল কারণ উল্লেখ করেছেন। প্রথমত, যারা মহাকাশ ভ্রমণের কথা ভাবছেন এমন ধনী গ্রাহকদের কাছাকাছি পৌঁছানো এবং দ্বিতীয়ত, ব্র্যান্ডটিকে একুশ শতকের অগ্রগামী ও আধুনিক চিন্তাভাবনার প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা।
জেফ বেজোসের ‘ব্লু অরিজিন’ থেকে শুরু করে ইলন মাস্কের ‘স্পেসএক্স’-এর মতো মহাকাশ কোম্পানিগুলো এরইমধ্যে ধনকুবেরদের জন্য মহাকাশ পর্যটনের বাজার তৈরির দিকে ঝুঁকেছে।
‘বার্নস্টেইন’-এর লাক্সারি গুডস বিভাগের গ্লোবাল হেড লুকা সোলকা বলেছেন, মহাকাশ গবেষণা ও চাঁদে মানুষের পুনরায় যাতায়াত শুরু হওয়ার বিষয়টি ‘স্বাভাবিকভাবেই বিশ্ববাসীর নজর কাড়বে’। বিলাসবহুল ব্র্যান্ডগুলোর বাজারে টিকে থাকা ও নিজেদের সবসময় আলোচনায় রাখার জন্য তা জরুরি।
তবে প্রাডার এ সাহসী পদক্ষেপ এমন এক সময়ে এল যখন বিশ্বজুড়ে বিলাসবহুল পণ্যের বাজার বেশ মন্দার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
টানা দুই বছর সংকোচনের পর এই শিল্প যখন কিছুটা স্থিতিশীল হওয়ার আভাস দিচ্ছে তখনই ফেব্রুয়ারির শেষদিকে ইরান যুদ্ধ শুরু হয়। ফলে পর্যটন খাত বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্বজুড়ে মানুষের বিলাসবহুল কেনাকাটার আগ্রহেও বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে।
অন্যান্য বিলাসবহুল ব্র্যান্ডও কি এ পথ অনুসরণ করবে?
ফ্যাশন ও পোশাক খাতের আরও কিছু কোম্পানি এরইমধ্যে মহাকাশের এ জোয়ারে গা ভাসিয়েছে। যেমন, মহাকাশযান প্রস্তুতকারী কোম্পানি ‘ভার্জিন গ্যালাকটিক’-এর সঙ্গে যৌথভাবে মহাকাশের পোশাক তৈরিতে কাজ করছে ‘আন্ডার আর্মার’।
অন্যদিকে, স্পেস ফেব্রিক বা মহাকাশে ব্যবহারের উপযোগী কাপড়ের প্রযুক্তি নিয়ে মহাকাশ কোম্পানি ‘ইনটুইটিভ মেশিনস’-এর সঙ্গে যোগ হয়েছে ‘কলাম্বিয়া স্পোর্টসওয়্যার’।
তবে প্রাডার এ পথ ধরে অন্যান্য বিলাসবহুল ব্র্যান্ডও এগিয়ে আসবে কি না তা এখনও স্পষ্ট নয়।
অধ্যাপক সারদারি বলেছেন, “বিলাসবহুল ব্র্যান্ডের ক্ষেত্রে কোনো কাজের প্রথম উদ্যোক্তা হওয়া ও নতুন ট্রেন্ড তৈরি করাটা গুরুত্বপূর্ণ।।
এলভিএমএইচ-এর মালিকানাধীন লুয়ি ভুঁতো, এরমেস ও শ্যানেল এসব ব্র্যান্ডেরই মহাকাশ ভ্রমণের প্রতি আগ্রহ রয়েছে, তবে তারা সম্ভবত এই খাতে নিজেদের জায়গা করে নেওয়ার জন্য নতুন কোনো পথ খুঁজে নেবে।
সারদারি বলেছেন, “বিলাসবহুল জগতের একদম শীর্ষ সারির এসব ব্র্যান্ডকে আপনি কখনোই একে অপরকে হুবহু অনুকরণ করতে দেখবেন না।”