Published : 05 Dec 2025, 02:18 PM
সম্প্রতি চীনা কোম্পানি ল্যান্ডস্পেসের তৈরি পুনরায় ব্যবহারযোগ্য রকেট জুকে-৩-এর সফল অবতরণ ব্যর্থ হয়েছে। তবে রকেটটির প্রথম উৎক্ষেপণই পুনরায় ব্যবহারযোগ্য রকেট নিয়ে বিশ্বজুড়ে নানা দেশের প্রতিযোগিতার বিষয়টিকে নতুন করে সামনে এনেছে।
স্টেইনলেস স্টিলের এ রকেট লঞ্চারটি চীনা কোম্পানিটি তৈরি করেছে বিভিন্ন স্যাটলাইটকে কক্ষপথে পৌঁছে দেওয়ার জন্য এবং তারপর এর প্রধান অংশটি আবার পৃথিবীতে উল্লম্বভাবে অবতরণ করাবে, যা পুনরায় ব্যবহারের লক্ষ্য হিসেবেই পরিকল্পিত বলে প্রতিবেদনে লিখেছে রয়টার্স।
নিজেদের রকেটের মূল অংশ বা মেইন স্টেজ বারবার সফলভাবে ফিরিয়ে এনে তা পুনরায় ব্যবহার করতে পারলে ল্যান্ডস্পেস হবে এই কৃতিত্ব অর্জনকারী প্রথম চীনা কোম্পানি এবং স্পেসএক্স ও ব্লু অরিজিনের পর বিশ্বের তৃতীয় কোম্পানি।
স্পেসএক্স
এখন পর্যন্ত ইলন মাস্কের মহাকাশ কোম্পানি স্পেসএক্সই কক্ষপথে রকেটের মূল অংশ বা মেইন স্টেজ সফলভাবে অবতরণ করাতে ও আবার তা উৎক্ষেপণ করতে পেরেছে।
কোম্পানিটির ফ্যালকন ৯ রকেট এখন পর্যন্ত তিনশও বেশিবার অবতরণ করেছে এবং এরইমধ্যে আগে ব্যবহৃত বুস্টার দিয়ে দুইশোরও বেশি উৎক্ষেপণ করেছে স্পেসএক্স।
কোম্পানিরি বড় আকারের রকেট ‘ফ্যালকন হেভি’ তিনটি ফ্যালকন ৯ কোর একসঙ্গে যোগ করে ও একই অবতরণ প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করেছে মাস্কের কোম্পানিটি।

স্পেসএক্স প্রমাণ করেছে, রকেটকে ভূমির লঞ্চপ্যাডে বা সমুদ্রের জাহাজে উভয় ক্ষেত্রেই অবতরণ করানো, দ্রুত নতুন মিশনের জন্য প্রস্তুত করা ও কিছু বুস্টারকে ২০বার পর্যন্ত উৎক্ষেপণ করা সম্ভব।
ব্লু অরিজিন
‘নিউ শেপার্ড’ নামের রকেট তৈরি করেছে মার্কিন ই কমার্স জায়ান্ট অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোসের ‘ব্লু অরিজিন’ কোম্পানিটি। রকেটটিকে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য যাত্রীরা ভাড়া নেয় ও বিজ্ঞানভিত্তিক পরীক্ষার জন্য মহাকাশে পাঠায় এবং তারপর আবার পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনে।
নিউ শেপার্ডের বুস্টার পৃথিবীতে ফিরে এসে উল্লম্বভাবে অবতরণ করানো হয়েছে, যাতে রকেটটিকে পুনরায় ব্যবহার করা যায়। তবে পৃথিবীর কক্ষপথে পৌঁছানোর জন্য যে গতি প্রয়োজন, রকেটটি এখন পর্যাপ্ত সে গতিতে উড়তে পারে না।
গত মাসে নিউ গ্লেন রকেটের দ্বিতীয় মিশনের সময় কক্ষপথে বুস্টার পুনরায় ব্যবহারে করতে পেরে দ্বিতীয় কোম্পানি হিসেবে ইতিহাস তৈরি করেছে ব্লু অরিজিন, যা কোম্পানিটির প্রায় দশ বছরের সাধনার পর সম্ভব হল।
অ্যামাজনের কয়েকটি রকেটের মধ্যে নিউ গ্লেন একটি, যা পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক পাঠানোর জন্য বেছে নিয়েছে কোম্পানিটি। আগে ‘প্রজেক্ট কাইপার’ নামে পরিচিত প্রকল্পটি স্পেসএক্সের স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক স্টারলিংকের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।
রকেট ল্যাব
যুক্তরাষ্ট্র ও নিউ জিল্যান্ড থেকে পরিচালিত ‘রকেট ল্যাব’ নিজেদের ছোট ছোট ইলেকট্রন রকেটের কিছু অংশ পুনরায় ব্যবহারযোগ্য করেছে। রকেটের প্রথম অংশগুলো প্যারাশুট ব্যবহার করে সমুদ্রে নামিয়ে সেসব অংশের কিছু ইঞ্জিন পরবর্তী উড্ডয়নে আবার ব্যবহার করেছে তারা।
তবে এখন পর্যন্ত নিজেদের রকেটের মূল পর্যায়টি নিজস্ব শক্তিতে অবতরণ করাতে পারেনি রকেট ল্যাব। এক্ষেত্রে স্পেসএক্সের মতো সক্ষমতা মেলেনি কোম্পানিটির।
ভারত
ছোট ডানাওয়ালা ‘পুষ্পাক’ যান নিয়ে পরীক্ষা করছে ভারতের মহাকাশ সংস্থা ইসরো, যা হেলিকপ্টার থেকে ছেড়ে দিয়ে পৃথিবীতে গ্লাইড করে ফিরিয়ে আনে সংস্থাটি। ভবিষ্যতে পুনরায় ব্যবহারযোগ্য সিস্টেমের জন্য পরীক্ষা হিসেবে কাজ করছে ভারতের এই পদক্ষেপ।
তবে এখন পর্যন্ত কোনো রকেটের মূল পর্যায়কে কক্ষপথে পাঠানোর পর তা আবার ব্যবহার করতে পারেনি ভারত।
অন্যান্য চীনা কোম্পানি
ল্যান্ডস্পেসের পাশাপাশি ‘স্পেস ইপোক’, ‘ডিপ ব্লু অ্যারোস্পেস’ ও ‘গ্যালাকটিক এনার্জি’র মতো চীনের আরও কয়েকটি ব্যক্তিমালিকানাধীন কোম্পানি পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন করেছে, যাতে ছোট রকেটের বিভিন্ন ধাপ সরাসরি কয়েক শত থেকে কয়েক হাজার মিটার উঁচুতে উঠে আবার নিচে উল্লম্বভাবে অবতরণ করতে পারে।
এসব ‘হপ’ পরীক্ষা মূলত পুনরায় ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় উড্ডয়ন ও অবতরণের চর্চার উদ্দেশ্যেই করা হচ্ছে। তবে এসব কোম্পানির মধ্যে এখনও কেউ মহাকাশে গিয়ে রকেটের মূল পর্যায় অবতরণ করাতে পারেনি।
ইউরোপ
ভবিষ্যতে পুনরায় ব্যবহারযোগ্য লঞ্চারের জন্য প্রস্তুতি হিসেবে ইউরোপ, ‘অ্যারিয়ানগ্রুপ’ ও ‘ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা’ পরীক্ষামূলক রকেট ধাপ ‘থেমিস’ নিয়ে কাজ করছে, যা সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য উড্ডয়ন ও অবতরণ করবে এবং পৃথিবীতে ফিরে আসবে।
তবে ইউরোপ এখনও কোনো রকেটকে কক্ষপথে পাঠানোর পর তার মূল পর্যায় পুনরায় ব্যবহার করতে সক্ষম হয়নি।