Published : 25 Jul 2026, 03:43 PM
ক্রিপ্টোকারেন্সি বা ডিজিটাল মুদ্রার বাজারের চলমান মন্দার মধ্যেই কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে শীর্ষস্থানীয় ট্রেডিং প্ল্যাটফর্ম বিটমেক্স।
রয়টার্স লিখেছে, আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে সেবা গুটিয়ে নেওয়ার কথা জানিয়ে গ্রাহকদের দ্রুত নিজ নিজ অর্থ তুলে নেওয়ার তাগিদ দিয়েছে কোম্পানিটি।
তবে বিটমেক্স গ্রাহকদের আশ্বস্ত করে বলেছে, ব্যবহারকারীদের সব সম্পদ সম্পূর্ণ নিরাপদ ও তাদের নিজেদের নিয়ন্ত্রণেই রয়েছে।
বিটমেক্সের স্বত্বাধিকারী ও পরিচালক কোম্পানি ‘এইচডিআর গ্লোবাল ট্রেডিং’ তাদের ব্যবসা পুনর্মূল্যায়নের অংশ হিসেবেই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে নিশ্চিত করেছে।
কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার আগেই ব্যবহারকারীদের খোলা রাখা সব পজিশন বন্ধ করা ও অর্থ তুলে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে বিটমেক্স।
মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ সংক্রান্ত ব্যাংক সিক্রেসি অ্যাক্ট বা ‘বিএসএ’ নীতিমালা সঠিকভাবে বাস্তবায়নে ব্যর্থ হওয়ায় ২০২২ সালে আদালতের কাছে অপরাধ স্বীকার করেছিলেন বিটমেক্সের তিন সহ-প্রতিষ্ঠাতা বেঞ্জামিন ডেলো, আর্থার হেইস ও স্যামুয়েল রিড।
তবে ক্রিপ্টো খাতের ওপর সরকারি নিয়ন্ত্রণ শিথিল করার নীতির অংশ হিসেবে গেল বছর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প তাদের ক্ষমা করেছেন।
প্রসিকিউটরদের অভিযোগ ছিল, ২০১৫ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে বিটমেক্স ও এর প্রতিষ্ঠাতারা ইচ্ছাকৃতভাবে ‘ব্যাংক সিক্রেসি অ্যাক্ট’ বা বিএসএ নীতিমালা লঙ্ঘন করেছেন।
গ্রাহক পরিচয় নিশ্চিত করার ‘নো ইয়োর কাস্টমার’ নীতি ও কার্যকর মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ প্রোগ্রাম পরিচালনায় ব্যর্থ হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে এ গুরুতর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল।
২০১৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়া বিটমেক্স প্রাতিষ্ঠানিক ও পেশাদার ডেরিভেটিভ ট্রেডারদের ট্রেডিং প্ল্যাটফর্ম হিসেবে সেবা দিয়ে আসছিল। তাদের ওয়েবসাইট অনুসারে, প্ল্যাটফর্মটিতে ২০ লাখ সক্রিয় ট্রেডার রয়েছে।
এমন এক সময়ে বিটমেক্স বন্ধের ঘোষণা এল যখন পুরো ক্রিপ্টোকারেন্সি বাজারজুড়ে মন্দাভাব করছে। গেল বছর ডনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে পুনরায় নির্বাচিত হওয়ার পর বিটকয়েনের মূল্যে যে বড় ধরনের উত্থান ঘটেছিল তার সিংহভাগই এখন হাতছাড়া হয়ে গেছে।
গত বছরের অক্টোবরে বিটকয়েনের দাম ইতিহাসে সর্বোচ্চ ১ লাখ ২৬ হাজার ২২৩ ডলারে উঠলেও বর্তমানে তা প্রায় ৫০ শতাংশ কমে ৬৫ হাজার ৬৭৬ ডলারে এসে ঠেকেছে।
বাজারের অস্থিরতা ও ইটিএফ থেকে টানা বিনিয়োগ তুলে নেওয়ার কারণে এ বছর জুড়ে চরম সংকট পার করছে ডিজিটাল সম্পদের বাজার।
নির্বাচনী প্রচারণায় ক্রিপ্টো খাতের অনুদান পাওয়া ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসে এ খাতকে পূর্ণ সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
তবে যুক্তরাষ্ট্রে ক্রিপ্টো আইন বাস্তবায়নে ধীরগতি ও বিভিন্ন ডিজিটাল এসেট ট্রেজারি কোম্পানির বিটকয়েন বিক্রি করে দেওয়ার আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীদের মনে আস্থা কমেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে সার্বিক বাজারে।