Published : 18 Jun 2026, 11:54 AM
জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপের সাহায্যে এবার মহাকাশবিজ্ঞানের নতুন দুয়ার খুলল। মিল্কি ওয়ে ছায়াপথের কেন্দ্রস্থলে সন্ধান মিলল প্রাচীন মহাজাগতিক জীবাশ্মের, যার ভেতরে লুকিয়ে আছে চারবার ভিন্ন ভিন্ন যুগে তারা তৈরির ইতিহাস।
এ আবিষ্কার মিল্কি ওয়ের জন্মরহস্য উন্মোচনে বিজ্ঞানীদের নতুন ধারণার খোরাক জোগাচ্ছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি সংবাদের সাইট এনগ্যাজেট।
মহাবিশ্বের ইতিহাস ও ছায়াপথের তৈরি রহস্য উন্মোচনে প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। আর এ যাত্রায় জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ ও উন্নত বিভিন্ন প্রযুক্তিও অবদান রাখছে।
সেই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি এ টেলিস্কোপের গবেষকেরা ‘বাল্জ ফসিল ফ্র্যাগমেন্টস’ বা ছায়াপথ কেন্দ্রের প্রাচীন জীবাশ্মাবশেষের অস্তিত্ব নিশ্চিত করেছেন, যা চিরচেনা ছায়াপথ মিল্কি ওয়ের জন্মকথা বুঝতে বিজ্ঞানীদের সাহায্য করবে।
গবেষণার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে মিল্কি ওয়ের ঠিক মাঝখানে অবস্থিত ‘তেরজান ৫’ নামের এক রহস্যময় অঞ্চল। প্রচণ্ড ভিড় ও মহাজাগতিক ধূলিকণার ঘন আস্তরণের কারণে এতদিন জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের জন্য এলাকাটি পর্যবেক্ষণ করা ছিল দুরূহ।
তবে জেমস ওয়েবের সাম্প্রতিক নিখুঁত নজরদারি ও হাবল স্পেস টেলিস্কোপের পুরানো নথিপত্র এক সুতোয় গেঁথে গবেষকেরা এ চমকপ্রদ তথ্য পেয়েছেন। তারা বলছেন, ‘তেরজান ৫’ আসলে কোনো সাধারণ ‘গোলাকার তারাপুঞ্জ’ নয়, যেমনটা আগে ভাবা হত।
সাধারণ তারাপুঞ্জে সাধারণত একই সময়ের প্রাচীন তারা থাকে। তবে ‘তেরজান ৫’ এর গল্পটা ভিন্ন, যেখানে অন্তত চারবার ভিন্ন ভিন্ন যুগে তারাদের জন্ম হয়েছে।
গবেষকরা বলছেন, এখানকার দুটি প্রাচীনতম তারাদল গড়ে উঠেছিল যথাক্রমে ১ হাজার ২৫০ কোটি ও ৪৭০ কোটি বছর আগে। আর বাকি দুটি অপেক্ষাকৃত তরুণ তারাদলের জন্ম হয়েছিল যথাক্রমে ৩৮০ কোটি ও ২৫০ কোটি বছর আগে।
এ জেমস ওয়েব পর্যবেক্ষণের প্রধান গবেষক ও ‘ইউনিভার্সিটি অফ বোলোনিয়া’র অধ্যাপক ফ্রান্সেসকো আর ফেরারো বলেছেন, “কোনো এক অজানা কারণে তারার এ অদ্ভুত ঝাঁকটি ছায়াপথের মূল কেন্দ্রের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদাভাবে গড়ে উঠেছিল। কেন্দ্রটি চূড়ান্ত রূপ নেওয়ার সময় তারার এ দলটির কোনো ক্ষতি হয়নি বা ধ্বংস হয়ে যায়নি।
“তেরজান ৫-কে আমরা এখন ছায়াপথ কেন্দ্রের প্রাচীন এক জীবাশ্মের অবশেষ বলতে পারি। কারণ এটি দেখতে ঠিক সেই আদিম তারাপিণ্ডগুলোর মতোই, যা একসময় আমাদের ছায়াপথের কেন্দ্র গঠনে ভূমিকা রেখেছিল।”
এ গবেষণার সহ-লেখক ও ‘ইউনিভার্সিটি অফ বোলোনিয়া’র সহযোগী অধ্যাপক বারবারা লানজোনি বলেছেন, “বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ ও গভীর সিমুলেশনের ওপর ভিত্তি করে আমাদের ধারণা, আদি মহাবিশ্বের বিভিন্ন ছায়াপথে গ্যাসের বড় সব চাকতি বা ডিস্ক ছিল।
“পরবর্তীতে এসব গ্যাসীয় চাকতি খণ্ড-বিখণ্ড হয়ে ছোট ছোট পিণ্ডে রূপ নেয় এবং সেখানে তারার জন্ম হতে থাকে। একপর্যায়ে এসব পিণ্ড ছায়াপথের কেন্দ্রের দিকে চলে আসে এবং তাদের মধ্যকার পারস্পরিক মিলনের মাধ্যমেই আজকের এসব ছায়াপথ কেন্দ্রের তৈরি হয়েছে।”
এ গবেষণার ফলাফল প্রকাশ পেয়েছে বিজ্ঞানভিত্তিক জার্নাল ‘অ্যাস্ট্রোনমি অ্যান্ড অ্যাস্ট্রোফিজিক্স’-এ।